কৃষক লীগের সম্মেলন : নেতৃত্বে আসছে নতুন মুখ

 

জয়ন্ত আচার্য

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নেতা কর্মীরা সরব হয়ে উঠেছে। আগামী ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সম্মেলনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে কারা আসছেন নতুন নেতৃত্বে। সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কারা আসতে পারেন সে বিষয়ে তৃণমূলে চলছে আলোচনা। সম্ভাব্য পদ প্রত্যাশীরা নিজেদের মতো করে লবিং করছেন, ছুটছেন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে, চেষ্টা করছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নজরে আসতে। জানা গেছে, কৃষক লীগের আগামী নেতৃত্বে আসছে নতুন মুথ। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে গুরুত্ব পাবে সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা। আগামী কমিটি বাদ পড়বে বর্তমান কমিটির নিষ্কৃয় ও ও বিতর্কিত নেতারা।

সর্বশেষ ২০১২ সালে কৃষক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান কমিটি চলছে চার বছর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় কৃষক লীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা হওয়ার পর সারা দেশে কৃষক লীগ চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। সম্মেলন সফল করতে চলছে সর্বাত্মক প্রস্তুতি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলছে বিশাল মঞ্চ তৈরীর কাজ। মঞ্চ একটি কৃষকের বাড়ির আদলে নির্মান করা হচ্ছে। পুরো উদ্যানে একটি গ্রামীন আবহ আনা হবে। কৃষকের প্রতিক মাথাল মাথায় কৃষক লীগের নেতা কর্মীরা সম্মেলনে উপস্থিত হবেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসাবে সম্মেলনে উপস্থিত খাকবেন।
আগামী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা। কৃষক লীগের সভাপতি হতে চেষ্টা চালাচ্ছেন বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ ওমর ফারুক, সহ-সভাপতি শরীফ আশরাফ হোসেন, সহ-সভাপতি কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা, সহ সভাপতি আকবর আলী চৌধুরী. সহ সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ছবি বিশ্বাস, বর্তমান কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক এস এম ফজলুল হক, সহ সভাপতি হারুন -অর-রশীদ হাওলাদার, সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক রেজা ।
সাধারণ সম্পাদকের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ সমীর চন্দ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতির এবং সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ বিশ্বনাথ সরকার বিটু, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ সাখাওয়াত হোসেন সুইট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুল হক আতিক, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কৃষক লীগের সহ দপ্তর সম্পাদকের আসাদুজ্জামান বিপ্লব, কৃষকলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আবুল হোসেন।

কৃষক লীগের আগামী দিনের নেতৃত্বে প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আগামী কমিটি পরিচ্ছন্ন্ স্বচ্ছ নেতৃত্ব কৃষক লীগের কমিটিতে আসবে। সব কিছু বিবেচনা করেই যোগ্য ত্যাগি নেতাদেরই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী কমিটিতে স্থান দিবে। কোন বির্তকিত ব্যাক্তি কমিটিতে স্থান পাবে না ।
কৃষক লীগের বর্তমান কমিটির প্রচার সম্পাদক এ কে এম আজম খান বলেন. দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা যাকেই নেতৃত্বে দিবেন আমরা তাদের সাথেই কাজ করবো। তিনি ত্যাগি ও স্বচ্ছ নেতাদেরই আগামী সম্মেলনের মাধ্যমে কৃষক লীগে নিয়ে আসবেন ।

উল্লেখ্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১৯ এপ্রিল কৃষক লীগ প্রতিষ্ঠা করেন ।