কৃষকদের পাশে থাকতে স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা

40
Social Share

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তেই সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বিশেষ করে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষিজীবী মানুষের জীবনে যাতে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেই নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২০ সালের শুরুতে যখন করোনাভাইরাস প্রথম আঘাত হানে, তখনও কৃষিক্ষেত্রকে নিরাপদ রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও কৃষকদের পাশে থাকতে নিজ দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন তিনি। লকডাউনের মধ্যে কৃষকদের জমির পাকা ধান কাটা, বহন করা এবং প্রক্রিয়াজাত করণ পর্যন্ত তাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে বলেছেন নেতাকর্মীদের। ফলে এশীয়ার অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের লাখ লাখ নেতাকর্মী কৃষকদের সঙ্গে স্বেচ্ছাশ্রম দিতে ছড়িয়ে পড়েছেন মাঠে মাঠে।

গত কয়েকদিনে মূলধারার গণমাধ্যমগুলো জানায়, লকডাউনের কারণে বিভিন্ন এলাকায় ন্যায্যমূল্যে শ্রমিকের সংকট দেখা দেয়। ফলে সঠিক সময়ে পাকা ধান কাটতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সংশয়ে ছিলেন নিম্ন আয়ের কৃষকেরা। এজন্য শ্রমিক সংকট মোকাবিলা করতে দেশের ৬৪ জেলার প্রতিটি গ্রামে স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে কৃষকদের ধান কেটে দেন সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ ও কৃষকলীগের নেতাকর্মীরা দল বেঁধে নিজ এলাকার নিম্ন আয়ের কৃষকদের সঙ্গে মাঠে নেমে দিনভর কাজ করেন। ফলে অল্প সময়ে এবং বিনাখরচে জমির ধান কাটতে সমর্থ্য হন কৃষকরা।

১৯ এপ্রিল আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান থেকে নেতাকর্মীদের এই স্বেচ্ছাশ্রম দেওয়ার আহ্বান জানান দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেশের প্রতিটি ইউনিটের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মোবাইল ফোনে এই নির্দেশনা পাঠানো হয় দলীয় দফতর সেল থেকে। এমনকি যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ ও কৃষকলীগের শীর্ষ নেতাদের কাছেও সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা জানিয়ে দেয় মূল দল আওয়ামী লীগ। এরপরই কৃষকদের সঙ্গে কাজ করতে মাঠে নেমে পড়েন কেন্দ্রীয় নেতারা। তাদের অনুসরণ করে দেশব্যাপী তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও উৎসবমুখর পরিবেশে স্বেচ্ছাশ্রম দিতে শুরু করে।

উল্লেখ্য, পৃথিবীতে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখানে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা গরিব কৃষকদের মাঠের কাজে সাহায্য করতে স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছে। করোনার কারণে সাধারণ মানুষের যাতে খাদ্যকষ্ট না হয়; সেজন্য কৃষিপণ্যের উৎপাদন, বণ্টন ও বিপণন ব্যবস্থা ঠিক রাখতে নিজ দলের নেতাকর্মীদের এই নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নির্দেশনা মেনে ২০২০ সালে করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময়ও এভাবে মাঠে মাঠে বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে সাহায্য করেছেন আওয়ামী নেতাকর্মীরা।

শুধু তাই নয়, করোনার দ্বিতীয় অভিঘাত থেকে কৃষক-শ্রমিক ও নিম্নআয়ের মানুষদের রক্ষা করতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, দিনমজুর, শ্রমিক, গৃহকর্মী, মোটরশ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার ক্ষতিগ্রস্তদের আবারও নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, এই মাসের প্রথম সপ্তাহের ঝড়ো হাওয়া, শিলাবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ে দেশের ৩৬টি জেলায় ৩০ লাখ ৯৪ হাজার ২৪৯ হেক্টর ফসলি জমির মধ্যে ১০ হাজার ৩০১ হেক্টর ফসলি জমি সম্পূর্ণ এবং ৫৯ হাজার ৩২৬ হেক্টর ফসলি জমির আংশিক ক্ষতি হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় এক লাখ কৃষক পরিবারকে নগদ পাঁচ হাজার করে টাকা দেবে সরকার। এছাড়াও অন্য পেশার প্রায় ৩৫ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নগদ সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে আড়াই হাজার টাকা করে।

২১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম গণমাধ্যমকে জানান, করোনা ও সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা শুরু করেছে সরকার। নতুন কৃষকদের পাশাপাশি সরকারের অর্থ বিভাগে সংরক্ষিত ডাটাবেজ অনুযায়ী বিভিন্ন পেশায় ক্ষতিগ্রস্তদের নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুসারে ঈদের আগেই দ্রুততম সময়ে উপকারভোগীদের হাতে এসব নগদ অর্থ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

এরআগে, গত ২০১৯-২০ অর্থবছরেও মুজিববর্ষে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫ লাখ পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত বছরের প্রথম দফার মতো, এবার দ্বিতীয় দফাতেও, লকডাউনে সংকটে পড়া অসহায় মানুষদের জন্য চিকিৎসাসহ খাদ্যসামগ্রী নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। জীবন-জীবিকা রক্ষায় নানা পদক্ষেপ নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। কৃষকদের ধান কেটে দেওয়াসহ স্বাস্থ্য-সুরক্ষাসামগ্রী ও খাদ্য সহায়তা প্রদান কার্যক্রম, করোনা রোগীদের সহায়তায় ফ্রি অক্সিজেন সিলিন্ডার সেবা প্রদান ও হেল্প লাইনের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে চিকিৎসা পরামর্শ সেবা চালু করা হয়েছে। ঢাকার মধ্যে করোনা রোগীদের বিভিন্ন হাসপাতালে পৌঁছে দিতে এবং করোনাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের লাশ বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের উদ্যোগে। এছাড়াও শ্রমিক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনগুলোও সারাদেশে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাধ্যমত সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে।

শুধু সাময়িক দুর্যোগ মোকাবিলায় নয়, কৃষক-শ্রমিকদের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য দীর্ঘমেয়াদেও উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আধুনিকায়ন করা হয়েছে জাতীয় কৃষি নীতি। কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ করে উৎপাদন দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ ইতোমধ্যে চলছে। কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণের জন্য এই খাতে শতকরা ৭০ ভাগ ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। কৃষকদের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে উন্নত মানের বীজ। কৃষির জন্য সেচ নিশ্চিত করতে স্বল্পমূল্যে অবিরত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত এবং সোলার প্যানেলের ব্যবহার শুরু করা হয়েছে। ফলে আজকাল কৃষক খুব অল্প কষ্টে অধিক পরিমাণে ফসল উৎপাদন করতে পারছেন। এবং সরকারের ডিজিটাল সুবিধা ব্যবহার করে তা সহজেই বাজারজাতও করা যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে ১৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সভায় বলেছেন, ‘বর্গাচাষিরা যাতে বিনা জামানতে ঋণ পান, আমরা কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের বিনা জামানতে ঋণের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। সারের দাম যা আগের বিএনপি সরকারের আমলে ৯০ টাকা ছিল, তা আজ আমরা ১২ টাকায় নামিয়ে এনেছি। গবেষণার মাধ্যমে উন্নত বীজ উৎপাদন করছি এবং সেই বীজ আমরা সরবরাহ করছি। এমনকি কৃষকরা যাতে পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান, সেজন্য আমরা অনেক সময় যথাযথভাবে পণ্যের দামও ঠিক করে দিচ্ছি এবং কৃষকদের নিয়মিত সহায়তা দিচ্ছি।’