কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্য প্রত্যাহার করে চীন রাষ্ট্রদূতকে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মানববন্ধন

85
Social Share

গত ১৩ মে বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী
চীনের রাষ্ট্রদূত কর্তৃক বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত মন্তব্য করায় বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং বক্তব্য প্রত্যাহার করে অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুনের সঞ্চালনায় উক্ত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আরোও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি আরিফুর রহমান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক শেখ মাসুদসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের বক্তব্যে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী রাষ্ট্র
চীনের বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত লি জিমিং কর্তৃক বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত মন্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। চীন রাষ্ট্রদূতের এধরনের কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করে বাংলাদেশের নিকট আনুষ্ঠানিক ভাবে ক্ষমা চাইতে হবে।”

বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুন বলেন, “গত ১০মে ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সম্প্রতি চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর ঢাকা সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে চীন রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের সমন্বয়ে গঠিত জোট কোয়াডে বাংলাদেশ যোগ দিলে ঢাকা-বেইজিং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষতি হবে। কোয়াড নিয়ে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের এধরনের মন্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। স্বাধীন রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতি সেই সরকারই নির্ধারণ করবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি হচ্ছে, সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা বা শত্রুতা নয়। কোন বিদেশী রাষ্ট্র অন্য স্বাধীন দেশের পররাষ্ট্রনীতির ওপর কখনোই হস্তক্ষেপ করতে পারে না। চীন রাষ্ট্রদূতের এধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপের চেষ্টা হয়েছে। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে চীন পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। বিএনপি-জামাতের শাসনামলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ১৫ আগস্টে জন্মদিনের উপহার পাঠিয়েছিলো ঢাকাস্থ চীন দূতাবাস। এসব ঘটনায় প্রমাণ করে চীন আজও পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধকে মেনে নিতে পারেনি। একাত্তরে পরাজিত হওয়ার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য চীন এবং পাকিস্তান প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রে করে যাচ্ছে।”

আল মামুন আরোও বলেন, “সম্প্রতি চীন রাষ্ট্রদূতের বাংলাদেশ বিরোধী মন্তব্য, ১৫ আগস্টে খালেদা জিয়াকে জন্মদিনের উপহার পাঠানো, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করা- বাংলাদেশ বিরোধী এসব ষড়যন্ত্র একই সূত্রে গাঁথা। আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে চীন রাষ্ট্রদূতের এধরনের কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্য প্রত্যাহার করে অবিলম্বে বাংলাদেশের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ চীন দূতাবাস ঘেরাওসহ দেশব্যাপী আরোও কঠোর কর্মসূচী পালন করবে।”