কুম্ভমেলায় গিয়েই করোনা আক্রান্ত হন বিখ্যাত সুরকার শ্রাবণ রাঠোর

39
Social Share

করোনা যুদ্ধে হেরে ওপারে পাড়ি জমিয়েছেন বলিউডের দুই বিখ্যাত সুরকার নাদিম – শ্রাবণ জুটির শ্রাবণ রাঠোর।

স্থানীয় বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১০টা নাগাদ তিনি শেষ নিঃশ্বাস করেন মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। তার বড় ছেলে সঞ্জিব রাঠোরের মাধ্যমে শুক্রবার জানা গেছে শ্রাবণের করোনা সংক্রমণের উৎস সম্পর্কে। স্বয়ং সঞ্জীবও করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। তার পাশের বেডে ভর্তি রয়েছেন মা বিমলা দেবী।

সঞ্জীব জানিয়েছেন, হরিদ্বারে কুম্ভমেলায় গিয়েছিলেন তার বাবা শ্রাবণ রাঠোর এবং মা বিমলা দেবী। সেখান থেকেই সংক্রমিত হয়েছেন বলেই মনে করছেন তারা। কারণ ফেরার পর থেকেই তাদের শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এমনটাই জানান সঞ্জীব। তারপর তাদের করোনা পরীক্ষা করা হলে স্বামী-স্ত্রী দু’জনেরই রিপোর্ট পজিটিভ আসে। শ্রাবণের শারীরিক অবস্থার অবিনতি ঘটায় তাকে মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরে আরও একাধিক রোগ থাকায় তার অবস্থা সংকটজনক হয়। শেষ কয়েকদিন তাকে আইসিইউ-তেও স্থানান্তর করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

তার দুই ছেলের করোনা রিপোর্টও পজিটিভ আসে। মায়ের সঙ্গে বড় ছেলে সঞ্জীবও ভর্তি করতে হয়েছিল হাসপাতালে। ছোটছেলে দর্শনের অবস্থা বাকিদের তুলনায় স্থিতিশীল থাকায় তিনি বাড়িতেই হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। শ্রাবণের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী বিমলা দেবী এবং বড় ছেলে সঞ্জীব কোভিড আক্রান্ত হওয়ায় তাকে শেষবার দেখতে কিংবা তার সৎকারের কাজে তারা থাকতে পারেননি। সতর্কতা বিধি মেনে উপস্থিত ছিল ছোট ছেলে দর্শন রাঠোর।

উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে কুম্ভমেলার ভিড় দেখে প্রত্যেকের চোখই কপালে উঠেছিল। এই করোনা পরিস্থিতিও মানুষজনকে আটকে রাখতে পারেনি এই মেলা থেকে। লাখ লাখ মানুষ ছুটে গিয়েছিল কুম্ভমেলায়। সামাজিক দূরুত্ব, মাস্ক, স্যানিটাইজার কোনও কিছুরই বালাই ছিল না তাদের মধ্যে। সব কিছু শিঁকেয় তুলে মানুষ মেতে অংশ নিয়েছিল এই মেলায়। যার ফলে কুম্ভমেলা থেকে বহু সংখ্যক মানুষ ফিরেছে কোভিড আক্রান্ত হয়ে। আর তাদেরই মধ্যে ছিলেন বলিউডের নব্বই দশকের জনপ্রিয় সুরকার শ্রাবণ রাঠোর। নাদিম- শ্রাবণ জুটির এক স্তম্ভ খসে যাওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন নাদিম-সহ গোটা বলিউড।