কাশ্মীরবাসীর জন্য সুখবর, প্রায় ৩০ বছর পর পুনর্নির্মিত হচ্ছে শ্রীনগরের রঘুনাথ মন্দির

Social Share

শ্রীনগর: কাশ্মীরবাসীর জন্য বিরাট বড় সুখবর। অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ভূমি পুজো সম্পন্ন হয়েছে ইতিমধ্যেই। এবার দীর্ঘ ৩১বছর পর শ্রীনগরের রঘুনাথ মন্দির সংস্কার করতে চলেছে রাজ্য পর্যটন সরকার।

মন্দির সংস্কারের পাশাপাশি ঝিলামের ঘাটকে সুন্দর করে তোলা হবে। এই খবরে উপত্যকায় বসবাসকারী কাশ্মীরি পন্ডিতরা ভীষণ খুশি হয়েছেন।  অভিবাসী পরিবারগুলির চোখেও আশার আলো দেখা দিয়েছে। মন্দিরটি পুনর্নির্মিত হলে সারা দেশের পর্যটকরাও ঐতিহাসিক এই মন্দিরটি দেখতে পাবেন।

মন্দিরে যাওয়ার পথ, মন্দিরের নিচে ঝিলাম ঘাটও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পুনর্নির্মাণের এই সিদ্ধান্তকে সর্বদলীয় অভিবাসী শিবির সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান বিনোদ পণ্ডিত সরকার ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেছেন। কেননা রঘুনাথ মন্দির শ্রীনগরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক মন্দির। এটি পর্যটনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ডোগরা শাসক মহারাজা রণবীর সিংহ প্রায় ১৬০ বছর আগে শ্রীনগরের ঝিলাম দরিয়ার তীরে এটি তৈরি করেছিলেন। মন্দিরে অনেক অমূল্য পান্ডুলিপি এবং শাস্ত্রের ভিত্তিতে একটি গ্রন্থাগারও ছিল। মন্দির চত্বরে একটি স্কুলও ছিল। স্কুলটি এখনও রয়েছে, তবে এখন মন্দির এবং বিদ্যালয়ের মধ্যে একটি প্রাচীর নির্মিত হয়েছে।

উত্তর ভারতের অন্যতম বড় মন্দির রঘুনাথ মন্দির জম্মুতে অবস্থিত। মন্দিরটি ১৮২২ থেকে ১৮৬০ সাল নাগাদ জামওয়াল রাজপুত গোষ্ঠির মহারাজা গুলাব সিং এবং তার পুত্র মহারাজা রনবির সিং নির্মাণ করেছিলেন। এই মন্দিরে বহু দেবতার মূর্তি থাকলেও এখনকার প্রধান দেবতা হচ্ছেন বিষ্ণুর অবতার রাম।

মন্দিরে পেঁচানো এবং স্বর্ণখচিত স্তম্ভগুলোতে মুঘল স্থাপত্যের চিহ্ন দেখা যায়। তবে প্রধান মন্দিরের উপরের স্তম্ভটি শিখ স্থাপত্য অনুসারে তৈরি। মন্দিরের দেয়ালের বিভিন্ন তাকে ৩০০টি বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি রয়েছে। প্রধান মন্দিরের ১৫টি প্যানেলে বিভিন্ন চিত্রকর্ম রয়েছে, যা রামায়ণ, মহাভারত এবং ভগবত গীতার কাহিনী অনুসারে অঙ্কিত হয়েছে।

কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ শুরুর আগেও এই মন্দিরটি উগ্র মৌলবাদীদের টার্গেটে ছিল। ১৯৮৯ উগ্র ইসলামী মৌলবাদীদের একটি দল মন্দিরে আক্রমণ চালায়। এরপর ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৯০, ১৩ এপ্রিল ১৯৯১ এবং আবার ৮ মে ১৯৯২ তে হামলা হয়েছিল। রাম এবং সীতার মূর্তিগুলিকে টুকরো টুকরো করে মন্দিরে ঝিলামে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। পাঠাগারটি পুড়িয়ে দেওয়া য়য়। মন্দিরের কাছে হিন্দুদের বাড়িগুলোও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।