কাবুল থেকে মার্কিন সেনা বিদায়ের শেষ মুহুর্ত

47
Social Share

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. বায়েজিদ সরোয়ার, এনডিসি (অবসরপ্রাপ্ত):

ডেটলাইন কাবুল। ৩০ আগস্ট ২০২১, সোমবার। প্রায় মধ্যরাত। স্থান : কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ধূসর রঙা একটি সি-১৭ সামরিক কার্গো বিমানের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন ৮২ এয়ারবর্ন ডিভিশনের কমান্ডার (অধিনায়ক) মেজর জেনারেল ক্রিস্টোফার ডোনাহু। প্রচন্ড টেনশনে এই জেনারেল বারবার হাতের ঘড়ি দেখছেন। এক জন্মদিনে তার প্রিয়তম স্ত্রী এই দামি ঘড়িটি উপহার দিয়েছিলেন। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই মার্কিন বাহিনীর সর্বশেষ সেনাদল নিয়ে তিনি আফগানিস্তান ত্যাগ করবেন। পাশে দাঁড়ানো ক্যাপ্টেন পদবির তরুণ এডিসি জেনারেলকে সময় স্মরণ করিয়ে দিলেন। এখন কাবুলে রাত ১১টা ৪০। ৮২ এয়ারবর্ন ডিভিশনটির সদর দফতর নর্থ ক্যারোলিনের ফোর্ট ব্র্যাগে। ১৫ আগস্টের পর কাবুলের পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন হলে এই দুর্ধর্ষ এয়ারবর্ন পদাতিক ডিভিশনকে ১৭ আগস্ট বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও ইভাকুয়েশনের জন্য মোতায়েন করা হয়। এ দিনই ডোনাহু কাবুলে এসেছিলেন। গত জুলাইয়ে সেনা প্রত্যাহার যখন শুরু হয় তখন পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হতে থাকলেও ১৫ আগস্ট কাবুল পতনের পর মহাপ্রলয়ের মতো বিশৃঙ্খল দশা তৈরি হয় কাবুল এয়ারপোর্টের প্রবেশপথগুলোয় লাখো আফগানের সমবেত ভিড়ে। সামরিক বিমানের গায়ে ঝুলে থাকা আফগানদের আকাশ থেকে পতনে মর্মান্তিক মৃত্যুর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এরপর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে রাজি হয় তালেবান।

কাবুলের মার্কিন ডেপুটি চিফ অব মিশন ডোনাহুকে ভারতীয় অধ্যাপক কে এম কামনাথের লেখা, ‘আমেরিকান উইথড্রল ফ্রম আফগানিস্তান’ বইটি পড়তে দিয়েছিলেন। এটি প্রকাশিত হয় ২০১৬ সালে। আমেরিকানরা শুধু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়েই কাবুল ছাড়ছেন। এডিসি জেনারেল ডোনাহুকে জিজ্ঞাসা করলেন এ বইটি সঙ্গে নেবেন কি না? ডোনাহু খুব বিরক্ত হয়ে বললেন, ‘ওটা ফেলে দাও তো’। লুটতরাজকারীদের হাত হয়ে বইটি হয়তো একদিন কখনো কাবুলের কোনো গ্রন্থবণিকের ধূলিধূসরিত দোকানে শোভা পাবে। আর্মি ওয়ার কলেজে প্রশিক্ষণ গ্রহণকালে ডোনাহুকে ভিয়েতনামের সায়গন থেকে আমেরিকান সেনা ও নাগরিকদের ইভাকুয়েশনের (এপ্রিল, ১৯৭৫) ওপর একটি প্রেজেনটেশন দিতে হয়েছিল। তখন তিনি কল্পনাও করেননি একদিন সে রকমই বিপর্যয়কর ইভাকুয়েশনে তাকেই নেতৃত্ব দিতে হবে।

ভারপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রস উইলসন ইতিমধ্যে প্লেনের ভিতরে গিয়ে বসেছেন। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিমানটি ছাড়ার চূড়ান্ত সময়টি এখনো তালেবান কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি। আমেরিকানদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী তালেবান কমান্ডারকে ডোনাহু বিমান টেক অফ করার সময়টি জানালেন ও সব সহযোগিতার জন্য আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ দিলেন। কাবুল টার্মিনালের মৃদু আলোয় জেনারেল ও এডিসি তালেবান কমান্ডারের সঙ্গে বিদায়ী হ্যান্ডশেক করলেন। সিকিউরিটি ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা কাবুলের নিরাপত্তার সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনারেলকে অবগত করলেন। তাকে জানানো হলো, এই মাত্র রকেট বিধ্বংসী অস্ত্রগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। আমেরিকার পেন্টাগন থেকে রেসকিউ অপারেশনটি (অপারেশন এলায়েস রিফিউজি) মনিটর করছেন ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের জেনারেল কেনেথ ম্যাকেনজি। ডোনাহু মোবাইল ফোনে জেনারেল ম্যাকেনজির সর্বশেষ মেসেজটি দেখলেন। উত্তরও পাঠিয়ে দিলেন পর মুহুর্তেই। ‘সবকিছু ঠিক আছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা টেক অফ করতে যাচ্ছি।’ ডোনাহু ছাড়া ইতিমধ্যে সবাই প্লেনে উঠেছেন। ঘড়ির কাঁটায় এখন রাত ১১টা ৫২। সর্বশেষ আমেরিকান সৈনিক হিসেবে শেষ সি-১৭ বিমানের দিকে হেঁটে যাচ্ছেন জেনারেল ডোনাহু। কমব্যাট ইউনিফরম পরা, মাথায় হেলমেট, হাতে একটি স্বয়ংক্রিয় রাইফেল। ফটোগ্রাফির দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন সৈনিক নাইট ভিশন ক্যামেরায় তার ছবিটি তুললেন। ডোনাহু হয়তো খেয়াল করলেন না, এ ছবিটিই তাকে ইতিহাসের অংশ করে নিল।

ডোনাহু বিমানের নির্দিষ্ট আসনে বসলেন। মেজর পদবির বিমানের পাইলট টাওয়ার থেকে উড্ডয়ন করার অনুমতি নিলেন। এরপর সামরিক বিমানটি রানওয়ের ওপর দিয়ে ট্যাক্সিং শুরু করল। কিছুক্ষণ পরই বিশালাকৃতির বিমানটি কাবুল বিমানবন্দর থেকে টেক অফ করল। ডোনাহুর ঘড়িতে এখন সময় রাত ১১টা ৫৯। ডোনাহু তখনই জেনারেল ম্যাকেনজিকে একটা খুদে বার্তা পাঠালেন, ‘আমরা এই মাত্র টেক অফ করেছি। মিশন কমপ্লিট।’ জানালার পাশে বসে ডোনাহু শেষবারের মতো আলোঝলমল কাবুল বিমানবন্দরটি দেখলেন। চোখে পড়ল কোহই পাগমান পাহাড়, পার্লামেন্ট ভবন, প্রেসিডেন্ট প্যালেস…। জেনারেল তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত সাফল্যজনকভাবেই সম্পন্ন করেছেন। গত ১৮ দিনে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখেও ১ লাখ ২৩ হাজার বেসামরিক ব্যক্তিকে ইভাকুয়েট করা হয়েছে। সব আমেরিকান সেনা ও নাগরিককে ইভাকুয়েট করা হয়েছে। এটি ছিল বিশ্বের সর্ববৃহৎ নন-কমব্যাটেন্ট ইভাকুয়েশন অপারেশন। তবু জেনারেলের মনে গভীর বিষাদের ছায়া। তার প্রিয় সেনাবাহিনী আফগানিস্তান থেকে চরম অপমান ও পরাজয় নিয়েই ফিরছে। একটা চরম মার্কিনবিরোধী পত্রিকায় তো লেখাই হয়েছে ‘আমেরিকার সেনাবাহিনীর প্যান্ট খুলে পলায়ন’। ‘হোয়াট এ ডিসগ্রেস’ আনমনে ভাবছিলেন ডোনাহু।

ডোনাহুর কাবুলের শেষের দিনগুলো মারাত্মক চাপের মধ্যে কেটেছে। এখন কত কথা তার মনে পড়ছে। আফগানিস্তানে এর আগে তিনি লে. কর্নেল হিসেবেও (অপারেশন এনডিউরিং ফ্রিডম) যুদ্ধ করেছেন। কত মৃত্যু, হত্যা, ক্ষয়ক্ষতি, বিসর্জন, অর্থব্যয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অপমানজনক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়েই যুদ্ধ শেষ হচ্ছে। শূন্য হাতেই তাদের ছাড়তে হলো আফগানিস্তানের মাটি। শুধু এই বালুতে রেখে গেল রক্তের দাগ। ডোনাহু ভাবছিলেন ‘আমাদের কি তাহলে অনেক ভুল হয়েছিল? কেন ইউএস সেনারা এত দিনেও আফগানদের হৃদয়মন জয় করতে পারেনি? কেন প্রায় প্রতিটি যুদ্ধে আমেরিকার শেষ পর্যন্ত পরাজয় হয়? এর থেকে ভবিষ্যতে শিক্ষা কী কী?’ হঠাৎ নিচের দিকে চোখে পড়ল কিছু আগুনের ফুলকি। জেনারেলের ভাবনায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটল। একজন গোয়েন্দা অফিসার এসে বললেন, ‘মনে হয় কাবুলবাসী আকাশে গুলি ছুড়ে, বাজি ফুটিয়ে সেলিব্রেট করছে। সম্ভবত আমরা এর টার্গেট নই।’ হাঁফ ছাড়লেন ডোনাহু। তার মনে হয়েছিল এটা বুঝি আইএস বা আল-কায়েদার আখেরি জঙ্গি আক্রমণ।

ডোনাহু লে. কর্নেল হিসেবে ইরাক যুদ্ধেও (অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম) দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ইরাকে আমেরিকান কর্তৃপক্ষ অফিসারদের ব্রিটিশ কর্নেল টি ই লরেন্স (লরেন্স অব অ্যারাবিয়া)- এর বই ‘সেভেন পিলারস অব উইজডম (১৯২৬)’ পড়তে উৎসাহিত করত। কাবুলের আকাশে কেন যেন তার লরেন্সের একটা কথা খুব মনে পড়ল ‘এই দেশে নিজেরা (বিদেশিরা) খুব নিখুঁতভাবে কাজ না করে বরং ওদের (স্থানীয় জনগণ) অদক্ষভাবে হলেও করতে দাও, কারণ এটা ওদের দেশ, ওদের চলার পথ এবং তোমাদের সময় খুব কম।’ বিশাল ধাতব পাখিটি ততক্ষণে পেটের মধ্যে কয়েক শ সেনা ও আফগানদের নিয়ে কাবুলের আসমান পেরিয়ে উড়ে চলল কাতারের আল উডেইড এয়ার বেইজের দিকে …।

ডেটলাইন পেন্টাগন। ৩০ আগস্ট। বিকাল ৩টা। শেষ বিমানটির কাবুল ছাড়া নিশ্চিত হওয়ার পরপরই পেন্টাগনে সাংবাদিকদের সামনে প্রেস ব্রিফিং করছেন জেনারেল ম্যাকেনজি। তিনি বললেন, ‘মধ্যরাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে সঙ্গে করে সর্বশেষ সি-১৭ বিমান কাবুল ছেড়েছে। এর সঙ্গে দীর্ঘ ২০ বছরের আফগান যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল।’ কাবুল। ৩১ আগস্ট। মঙ্গলবার। শেষ বিমানটি কাবুল ছাড়ার পরপরই আকাশে গুলি ছুড়ে ও আতশবাজি ফাটিয়ে উল্লাস করেছে রক্ষণশীল তালেবান যোদ্ধারা। ২০ বছরের যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসান হতেই উল্লাসে ফেটে পড়েছে তারা। কাবুল বিমানবন্দরে তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করল আমার দেশ। এ বিজয় আমাদের সবার। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের আফগানিস্তান ত্যাগ অন্য আগ্রাসীদের জন্য শিক্ষা। যদিও বর্তমানে দেশজুড়ে কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে একবার সরকার দখল হয়ে গেলে সমস্ত সমস্যাই সমাধান হয়ে যাবে।’

শিক্ষিত, বুদ্ধিদীপ্ত, তবে কিছুটা রহস্যময় তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদের মনে বিজয়ের প্রার্থিত আনন্দের সঙ্গে সঙ্গে বিশাল দায়িত্বের বোঝাও অনুভূত হলো যা পানশিরের পাহাড়ের চেয়েও ভারী। পোড় খাওয়া এই নেতা জানেন, ২০ বছরের সংগ্রামের চেয়েও দেশ পরিচালনা করা আরও কত কঠিন। এর পরের প্রেস ব্রিফিং থেকেই তাকে দেশটির জনগণের নিরাপত্তা, সুশাসন, অর্থনীতি, খাদ্য, নারী অধিকার, সন্ত্রাসবাদ ইত্যাদি নানা বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে। তালেবানের সামনের চ্যালেঞ্জগুলো হিন্দুকুশ পর্বতমালার চেয়েও অনেক উঁচু। এসব চিন্তাভাবনা তালেবান নেতার উচ্ছ্বাস ম্লান করে দেয়।

তালেবানের বিষয়ে কিছু আফগানের (বিশেষত শহরের শিক্ষিত গোষ্ঠী) ভয় ও আস্থাহীনতা রয়েছে। ১৫ আগস্টের পর হাজার হাজার আফগান উন্মত্তের মতো বিমানবন্দরে ছুটেছে। তালেবানের আগের শাসনকাল ছিল শ্বাসরুদ্ধকর, পশ্চাৎপন্থি ও কট্টর। তাদের পুরনো ভাবমূর্তির সূত্র ধরেই এ আশঙ্কা ও ভয়। কলকাতার মেয়ে সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্ম খুলনায়) রচিত ‘কাবুলিওয়ালার বাঙালি বউ’ (১৯৯৮) গ্রন্থে তালেবান নিয়ন্ত্রিত এলাকার নারীদের দুর্বিষহ জীবনের বয়ান পাওয়া যায়। গত ১৫ আগস্টের পর থেকে সাধারণভাবে তালেবান প্রশংসনীয় ও প্রায় আশাতীত নমনীয়তা, সহনশীলতা, উদারতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে। তালেবান সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে, নারীদের অধিকার, অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন ও জাতীয় ঐক্যের কথা বলেছে। এত কিছুর পরও তালেবানের বিভিন্ন ঘোষণা ও আশ্বাসের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে পারছে না দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন মহল। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘আফগানিস্তানে জনগণের সরকার গঠিত হলে বাংলাদেশ স্বীকৃতি দেবে’। কিছু আঞ্চলিক দেশসহ পশ্চিমা বেশ কিছু দেশের সঙ্গে তালেবান নেতাদের কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। আগামীতে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ কোন কোন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির এনগেজমেন্ট, বিনিময় ও সহযোগিতা হতে পারে সে বিষয়ে বিস্তারিত হোমওয়ার্ক ও প্রস্তুতি গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আমরা যেন পিছিয়ে না পড়ি। একসময় বিশ্ব বাণিজ্য পথের (সিল্ক রুট) প্রাণবন্ততায় আফগানিস্তানের অনেক শহর জ্ঞান ও শিল্প কেন্দ্রে পরিণত হয়। ভুবনবিখ্যাত চিত্রশিল্পী বেহজাদ জীবনের বড় অংশ কাটিয়েছেন হেরাতে। বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় মুসলমান কবি মাওলানা রুমির জন্ম বালখে। বিশ্ববিখ্যাত পন্ডিত আল বেরুনি (‘ভারততত্ত্বের’ লেখক) জীবনের সোনালি সময় কাটিয়েছেন গজনিতে। সুফি কবি রুমি একদা লিখেছিলেন, ‘গতকাল আমি চতুর ছিলাম। তাই আমি পৃথিবীটাকে বদলে ফেলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আজ আমি জ্ঞানী। তাই নিজেকে বদলে ফেলতে চাই’। সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেছেন, ‘তালেবানের বিজয় আফগানদের দেওয়া একটি সুযোগ’। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, তালেবান এ সুযোগ সঠিকভাবে ব্যবহার করে নতুন আফগানিস্তান গড়ে তুলতে পারে। নতুন তালেবান কি কবি রুমির লেখার মতো নিজেরাই পরিবর্তিত হয়ে সবাইকে নিয়ে, জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে, আফগানিস্তানের ঐতিহ্য ও ধর্মের মিশেলে আধুনিক ও মানবিক আফগানিস্তান গড়ে তুলতে পারবে? আফগানিস্তানের মসনদে সমাসীন নতুন কাবুলিওয়ালাদের (তালেবান) ঝোলায় কি সে ধরনের চমক আছে? ভবিষ্যৎই এসব প্রশ্নের উত্তর দেবে। আর যুদ্ধ নয়, সন্ত্রাস নয়। এবার শান্তি আসুক তামাম আফগানিস্তানে।

লেখক : গবেষক। অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল।