কাজ অপরিকল্পিত হলে যানজট কমবে না

♦ বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে ঢাকামুখী জনস্রোত হ্রাস ♦ স্কুল-কলেজ, মার্কেট খোলা-বন্ধের সূচি বাস্তবসম্মত পরিবর্তন ♦ পার্কিং ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর নীতিমালা ও ব্যবস্থাপনায় আনা ♦ পরিবহন পরিকল্পনা ও নগর পরিকল্পনার কার্যকর সমন্বয়

332
অপরিকল্পিত
Social Share

অপরিকল্পিত – ঢাকার যানজট নিরসনে স্বল্পমেয়াদি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাগত উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবহন পরিকল্পনা ও নগর পরিকল্পনার কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। পরিকল্পিতভাবে কাজ করা না গেলে সফলভাবে সব প্রকল্প বাস্তবায়ন করেও ঢাকার যানজট নিরসন করা যাবে না।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) আয়োজনে ‘স্বাভাবিক ঢাকায় অসহনীয় যানজট : পরিবহন পরিকল্পনা ও নগর পরিকল্পনার প্রেক্ষিত বিশ্লেষণ ও প্রস্তাবনা’ শীর্ষক নগর সংলাপে আলোচকরা এ কথা বলেন। আলোচনা অনুষ্ঠানে নগর পরিকল্পনা ও পরিবহন পরিকল্পনাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনলাইন মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

ঢাকা শহরের ট্রাফিক সমস্যা নিরসনে নগরের বাস সার্ভিসের তাৎপর্য উন্নয়ন নিশ্চিত করা ও বিদ্যমান বাস রুট রেশনালাইজেশনের উদ্যোগকে দ্রুত প্রস্তাবিত শহরের সব রুটে সম্প্রসারিত করার বিষয়ে আলোচকরা গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি রুট পারমিটবিহীন বাস সার্ভিসগুলো চিহ্নিত করে নগরের সব বাস সার্ভিসকে শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।

নাগরিক সংলাপে মেট্রো রেল, নগর পরিবহন বাস সার্ভিসসহ গণপরিবহনের সঙ্গে অন্যান্য পরিবহন মাধ্যমের সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং কমিউনিটিভিত্তিক মানসম্মত প্যারাট্রানজিট পরিকল্পনা তৈরি, কমিউনিটি মবিলিটি প্ল্যান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা সম্ভব হতে পারে বলে মত দেন বক্তারা। একই সঙ্গে পথচারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে পরিবহন পরিকল্পনা করা ও সড়কগুলোর নকশা তৈরির পাশাপাশি সড়কের প্রশস্ততা বাড়ানো কিংবা অন্য কোনো অবকাঠামো উন্নয়নের কারণ দেখিয়ে কোনোভাবেই ফুটপাত কমানো কিংবা অকার্যকর করে না রাখার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার চাহিদাভিত্তিক নগর পরিবহন চালু ও পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে পরামর্শ তুলে ধরা হয়।

অপরিকল্পিত – নগর সংলাপের মূল প্রবন্ধে আইপিডির পক্ষ থেকে ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, নগরে সুষ্ঠু যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সড়ক এলাকার বরাদ্দকৃত ভূমি ২০-২৫ শতাংশ হওয়া প্রয়োজনীয় হলেও ঢাকায় এটা ১০ শতাংশেরও কম। এর পরও সেবা সংস্থা, সড়ক সংস্থা ও নগর সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীন খোঁড়াখুঁড়ি, অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং ও হকার অব্যবস্থাপনার কারণে ঢাকার সড়কগুলো সক্ষমতার ৬০-৭০ শতাংশের বেশি কার্যকারিতা দেখাতে পারে না।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনার (ড্যাপ) প্রকল্প পরিচালক মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ঢাকার ভৌত পরিকল্পনা ও যোগাযোগ পরিকল্পনার যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে ঢাকাকে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা শৃঙ্খলার মধ্যে আনা সম্ভব। এ ছাড়া যত্রতত্র বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তাই পরিকল্পনামাফিক বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, অধিক ব্যয়নির্ভর প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবর্তে সাশ্রয়ী গণপরিবহন ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে।