“কহনো ভাবি নাই বড় হোডেলে খাইতে পারবো, ঈদে নতুন জামা পড়তে পারমু”

71
Social Share

সুব্রত বিশ্বাস সজিব, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: কহনো ভাবি নাই এমন বড় হোডেলে খাইতে পারবো। সাথে ঈদের জাম পামু। আমাগো মত এতিমরা ওইহানে খাইতে পারবে ক্যামনে। তবে এহন সেই ইচ্ছা পূরণ হইছে। সাথে নতুন পাঞ্জাবী ও চাল ডাল পাইছি। অনেক খুশি লাগতাছে। এইবারের ঈদে নতুন জামা পইরা ঘুরতে পারমু। এভাবে খুশি আর এক বুক আনন্দ নিয়ে কথাগুলো বলছিল ৮ বছরের এতিম শিশু তাজিম শেখ।

তামজিম জানায়, কিছু বোঝার আগেই তার বাবা ও মা দুজনেই মারা গেছে। নানু কোহিনূর বেগমের কাছে মানুষ হবার পাশাপশি জেলা শহরের ১৫০ নং শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনীতে পড়ছে। অনেক সময় খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হয় তাকে। কিছুটা সময়ের জন্য হলেও ভালো কোন রেস্টুরেন্টে খাওয়ার ইচ্ছা পূরণ হবার পাশাপশি ঈদে নতুন জামা হলো তার।

“পথ ও বস্তি শিশু কল্যাণ সংঘ” নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ৫৫ জন সদস্য নিজেদের হাত খরচ, মাসিক চাঁদা এবং পরিবার ও পরিচিত জনদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে সমাজের সুবিধা বঞ্চিত ২০ জন শিশুকে দেখ ভাল করেছে। বছর জুড়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণ দেয়ার পাশাপশি এবারের ঈদে তাদের হাতে তুলে দিলো ঈদ উপহার ও খাদ্য সমাগ্রী। সাথে পূর্ণ করলো বড় কোন চাইনিজ রেস্টুরেন্টে খাওয়ার স্বপ্ন।

জেলা শহরের চাঁদমারি রোডের “ক্যাফে হ্যাভেনে” গিয়ে দেখা গেছে, রেস্টুরেন্টের ৫টি টেবিলে বসে আছে ২০ জন সুবিধাবঞ্চিত এতিম শিশু। তাদের চোখে মুখে এক রাশ আনন্দ। এ যেন না পাওয়ার জীবনে একটু ইচ্ছা পূরণ। পরে এদের হাতে ঈদ পোশাক পাঞ্জাবী ও থ্রি-পিস তুলে দেয় সংগঠনের সদস্যরা। পরে এদের খাওয়ানো হয় ভাল ভাল চাইজিন খাবার।

সুবিধা বঞ্চিত শিশু আরাফাত শেখ (৭) ও মেঘলা (৮) জানায়, বিভিন্ন সময় বড় হোটেলগুলোতে অনেককে খেতে দেখেছি। কিন্তু আমাদের পক্ষে সেখানে খাওয়া ছিল স্বপ্নের মত। সব সময় মন চাইতো একদিন এখানে খাবো। ভাইয়াদের কারনে আমাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। সাথে নতুন জামা পেয়েছি। আমাদের খুব আনন্দ লাগেছে।

পথ ও বস্তি শিশু কল্যাণ সংঘ” এর সদস্য সার্বিক আহম্মেদ, সাজেদুর রশিদ, নওশীন নাহার নদীয়া, সানজিদা খতুন বলেন, আমরা পড়ালেখার পাশাপশি সমাজের সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়নোর চেষ্টা করছি। অর্থিক অভাবের কারনে এরা ঠিকভাবে পড়ালেখা করতে পারে না। অামরা আমাদের হাত খরচ বাঁচিয়ে এদের বিভিন্ন সময় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণ কিনে দেই। আমরা মনের আনন্দ পেতে এসব শিশুদের নিয়ে কাজ করছি।

পথ ও বস্তি শিশু কল্যাণ সংঘ” এর সভাপতি কাজী রেদওয়ান জানান, আমাদের সংগঠনের ৫৫ জন সদস্য রয়েছে। সদস্যরা প্রতি মাসে এক’শ টাকা করে চাঁদা দেন। সেই টাকা ও নিজেরদের হাত খরচ এবং পরিবার ও প্রতিবেশিদের কাছ থেকে যে টাকাটা পাই তাই দিয়ে এদের বিভিন্ন সময় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সামগ্রী কিনে দেই। তবে এবারের ঈদে ওদের বড় কোন রেষ্টুরেন্টে খাওয়ার স্বপ্ন পূরণ করার পাশাপশি ঈদ উপহার ও খাদ্য সমাগ্রী তুলে দেয়া হয়েছে।

পথ ও বস্তি শিশু কল্যাণ সংঘ” এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মীর পারভেজ বলেন, শুধু এরাই নয় সমাজের প্রতিটি স্তরের সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা রয়েছে। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে এদের মুখে কিছুটা হলেও হাসি ফোটানো সম্ভব। শুধু ঈদের সময় নয় বছরের প্রত্যেকটা দিন এদের পাশে থাকা উচিত।