কল্পনা দত্ত যোশী : বীর চট্টলার অগ্নিকন্যা

Social Share

আজয় দাশগুপ্ত,  সিডনী থেকে
আপনি এখন এসব ভাবতেও পারবেন না। ৭৪ বছর আগে চট্টগ্রাম  থেকে ভোটযুদ্ধে নেমেছিলেন দুই মহিয়সী রমনী। একজন সূর্যসেনের ভাবধারয় নিজের জীবন উৎসর্গ করা বৃটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা আরেকজন জে এম সেনের সুযোগ্য সহধর্মিনী নেলী সেনগুপ্ত। একজন কংগ্রসের আরেক জন ছিলেন বামধারার প্রার্থী। বাম দলের সেই প্রার্থীকে হারাতে স্বয়ং নেহেরু নেলী সেনগুপ্তার হয়ে মাঠে নামলেও বাম দলের সেই  প্রার্থীর বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেন নি তিনি। বরং তাঁকে নাম দিয়েছিলেন বাহাদুর আওরাত বা বাহাদুর কন্যা।  এই কন্যার দেশ অামাদের চট্টগ্রাম। ভারত কাঁপানো নারীর জন্ম বোয়ালখালী। ।
কথায় কথায়  আমরা যে বীর চট্টলা শুনি,এই চট্টগ্রাম কি কেবল মুক্তিযুদ্ধের পূর্ববর্তী  আগ্নেয় চট্টগ্রাম? মুক্তিযুদ্ধে ঝলসে ওঠা এই শহরের বিপ্লবী চারিত্র মূলতঃ বৃটিশ  আমলে তৈরী। সে সময় অখণ্ড ভারতে এই শহরের বীর নারীরা যে অবদান রেখেছিলেন  আজ সাম্প্রদায়িকতা কূপমুন্ডকতা  আর বিভাজনে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে।
শতবর্ষ  আগে, একশ সাত বছর  পূর্বে চট্টগ্রামে জন্মেছিলেন এই নারী। শহর ছাড়িয়ে দূরে বোয়ালখালী গ্রামের এই সাহসী নারী বদলে দেয়া ইতিহাসের এক হিরন্ময় তরবারী। তাঁর জীবনী জানলে অবাক হবার বিকল্প নাই। সে সময়কালে ডাঃ খাস্তগীর স্কুল থেকে এস এস সি পরে বেথুন কলেজ কলকাতা থেকে ডিগ্রি করেন তিনি। অথচ কি কঠিন  আর সংগ্রামী জীবন পাড়ি দিয়েছেন। সাধারণ বাঙালি মেয়েদের চাইতে লম্বা গৌরবর্ণ ছিলেন। পড়াশুনায়ও ছিলেন মনযোগী।
কিন্তু রক্তে যে বিপ্লবের ডাক। প্রীতিলতার সহযোগী সূর্য সেনের অনুগত ইনি দেশ মাকে মুক্ত করার অভিপ্রায়ে সশস্ত্র বিপ্লবের পথ বেছে নেন।চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের পর ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের ভার পড়ে তাঁর ওপর। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হন সূর্য সেন। ইনি তখন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও পরে গ্রেপ্তার হন।বিপ্লবে জড়িয়ে জীবন হয়ে উঠেছিল দূর্বিষহ। শেষতক বৃটিশ শাসনের  আইন তাঁকে নির্বাসনে পাঠায়।
স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ গর্জে উঠেছিলেন তাঁর মুক্তির জন্য। কবি তাঁর নাম দিয়েছিলেন অগ্নিকন্যা। একসময় মুক্তি পান তিনি। তখন তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যা। বিয়ে করলেন কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদক পি সি যোশী কে। সে বিয়েতে কনের হয়ে স্বাক্ষর করেছিলেন খ্যাতিমান বিপ্লবী ”  আমার জীবনী ও কমিউনিস্ট পার্টি” র লেখক কমরেড মুজাফফর  আহমেদ।
তাঁদের দুই পুত্র সূর্য ও চাঁদ। পুত্রের নামেও স্মরণ রেখেছিলেন তাঁর নেতা তাঁর প্রিয় বিপ্লবী সূর্য সেনকে।চাঁদ নিজেও ছিলেন সাংবাদিক লেখক। চাঁদের স্ত্রী মানীনি লিখেছেন অসামান্য একখানা গ্রন্থ। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের ওপর লিখিত বইটির নাম ডু অর ডাইঃদি চট্টগ্রাম  আপরাইসিং। মনে করা হয় এটি একটি ঐতিহাসিক দলিল।
গুণী পুত্র পুত্রবধুর জননী  আমাদের বীরকন্যাটির  আজ জন্মদিন।
কী অসাধারণ মুখশ্রী।gu সাদাকালো যুগের নায়িকাদের চাইতে কম কিছু?
ইতিহাসও বাঙালিকে গৌরবময় করে রাখা কল্পনা দত্ত, (যোশী)
 আপনাকে প্রণাম।