কলাবাগান ক্রীড়াচক্রে অস্ত্র-ইয়াবা, কৃষকলীগ নেতাসহ আটক ৫

 

ঢাকার ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাব ও ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে ক্যাসিনো পাওয়ার পর এবার ধানমণ্ডির কলাবাগান ক্রীড়াচক্রে অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব। এ সময় শুক্রবার রাতে কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতি ও কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শফিকুল আলম ফিরোজসহ ৫ জনকে আটক করা হয়। এছাড়া সেখান থেকে অস্ত্র, ইয়াবা, জুয়া খেলার সরঞ্জাম ও বিদেশি সিগারেট উদ্ধার করা হয়।

এসব সরঞ্জাম ক্লাবটির সভাপতি শফিকুল আলমের অফিস রুমে পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া বিদেশি পিস্তলটি অবৈধ ও এর কোনো লাইসেন্স নেই বলে জানায় র‌্যাব।

র‌্যাব-২-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহর ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গাউছুল আজমের নেতৃত্বে এ অভিযান চলে।

অভিযান শেষে শুক্রবার রাত পৌনে নয়টার দিকে আশিক বিল্লাল বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সভাপতি শফিকুল আলমকে সঙ্গে নিয়ে এ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে বেশ কিছু জুয়া খেলার কয়েন, ভিন্ন ধরনের ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি গুলি, একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। ক্যাসিনোর সরঞ্জাম এখানে ছিল না। তবে ক্যাসিনোতে ব্যবহার করা হয় এমন কয়েন পাওয়া গেছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবাগুলো হলুদ রঙের।

কলাবাগান ক্রীড়াচক্রে অস্ত্র-ইয়াবা, কৃষকলীগ নেতাসহ আটক ৫
উদ্ধার করা অস্ত্র। ছবি: ফোকাস বাংলা

র‌্যাব সূত্র জানায়, বিকালে অভিযানের আগে কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের চেয়ারম্যানকে ক্লাবে পাওয়া যায়। এখান থেকে তাকে র‌্যাব-২ সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে আবার ক্লাবে নিয়ে আসা হয়। এরপর তাকে নিয়েই ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযান শেষে শফিকুল আলমকে আটক করা হয়।

এর আগে রাজধানীর নিকেতনে যুবলীগের নেতা জি কে শামীমের অফিসে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করে র‌্যাব। এছাড়া নগদ এক কোটি ৮০ লাখ টাকা, ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর (স্থায়ী আমানত) চেক ও ১শ কোটি টাকার চেক উদ্ধার করা হয়। আর শামীমকে তার সাত দেহরক্ষীসহ আটক করা হয়।

গত বুধবার যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। ফকিরাপুলের ইয়ংমেন্স ক্লাবে তার পরিচালিত অবৈধ ক্যাসিনোতেও অভিযান চালানো হয়। ওই ক্যাসিনোর ভেতর থেকে তরুণীসহ ১৪২ জনকে আটক করা হয়। নগদ ২০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, মদ, বিয়ার জব্দ করা হয়।