কলকাতা উপ-হাইকমিশনে বঙ্গবন্ধুর শততমজন্মবার্ষিকী উদযাপন

Social Share

বিশ্বের অবিসংবাদিত নেতা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এঁর শততমজন্মবার্ষিকী এবং ‘জাতীয় শিশু দিবস ২০২০’ উপলক্ষে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন, কলকাতা যথাযথ মর্যাদায় মঙ্গলবার দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী অভিনবভাবে উদযাপন করলো কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন। কলকাতার প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে Theme Song তৈরি করে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন। শিল্পীদের মধ্যে রয়েছে রূপঙ্কর বাগচী, অনুপম, জোজো, ইমন চক্রবর্তী, সৈকত মিত্র ও আকাশ সেন। এছাড়া কলকাতায় বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বত, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ বঙ্গবন্ধু নিয়ে চমৎকার অনুভূমি প্রকাশের তথ্যচিত্র প্রকাশ করে উপ-হাইকমিশন।

দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী সকালে উপ-হাইকমিশন প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পতাকা উত্তোলন করেন উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসান। এরপর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রেরিত বাণী পাঠ করে শোনান যথাক্রমে কাউন্সেলর (কন্স্যুলার) মোঃ বশির উদ্দিন, প্রথম সচিব (প্রেস) মোঃ মোফাকখারুল ইকবাল, প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) মোঃ শামসুল আরিফ এবং দ্বিতীয় সচিব (কন্স্যুলার) শেখ শাফিনুল হক। তারপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন এ মিশন মসজিদের ইমাম।

বঙ্গবন্ধুর ছাত্র জীবনের স্মৃতি-বিজড়িত ইসলামিয়া কলেজ (বর্তমানে মৌলানা আজাদ কলেজ)-এর বেকার গভর্নমেন্ট হোস্টেলে (কক্ষ নং-২৪) তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসান-এর নেতৃত্বে উপ-হাইকমিশনের রাজনৈতিক, ক্রীড়া ও শিক্ষা, বাণিজ্য, কনস্যুলার এবং প্রেস উইং-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল কর্মকর্তা বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া উপ-হাইকমিশনের সকল কর্মচারি, কলকাতায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সোনালী ব্যাংক লিমিটেড-এর কর্মকর্তা/কর্মচারি, কলকাতায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ এবং স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনও বঙ্গবন্ধুর মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

বিকেলে উপ-হাইকমিশন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ও টেরাকোটা ম্যুরাল উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন শেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীর ওপর এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ আলোচনায় সম্মাননীয় অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন, পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় এবং বিদ্যুৎ মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রখ্যাত সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসান।

প্রখ্যাত সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন ব্যতিক্রমী একজন বাঙালি। তিনি বলেন, পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী যখন বাঙালির ভাষা, ভূমি থেকে শুরু করে সব কিছু কেড়ে নেয়ার কথা বলে তখন বঙ্গবন্ধুই বাধা হয়ে দাঁড়ান। তিনি আরও বলেন, বাঙালিকে দুর্দান্ত সাহসিকতার সাথে জাগিয়ে তোলার যাদুকরী ক্ষমতা ছিল বঙ্গবন্ধুর। বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠস্বর শুনলেই শিহরণ জেগে উঠত।

মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর আলোচনায় বলেন, বঙ্গবন্ধু অন্য দেশের নেতা হলেও তাঁকে আমাদের নেতা মনে হয়। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শ আমরা এখনও গ্রহণ করি। জনাব সুব্রত স্মৃতি চারণ করে বলেন, ১৯৭২ সালে কলকাতার গড়ের মাঠে বঙ্গবন্ধু যখন দশ লাখ জনতার সামনে বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেই অনুষ্ঠানে কলকাতায় বঙ্গবন্ধু প্রথমে হিন্দিতে শুরু করেন কিন্তু পরে ইন্দিরা গান্ধীর পরামর্শে বাংলায় বক্তৃতা করেন। মুজিবুর রহমান একটি নাম নয়, একটি ইতিহাস। ভৌগলিক দিক থেকে আলাদা হলেও আত্মিক দিক থেকে ভারত ও বাংলাদেশ একই সূত্রে গাঁথা।

বিদ্যুৎ মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় তাঁর আলোচনায় জন্মশতবর্ষ ও শিশু দিবসের কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যে দেশের মাতৃভাষা থেকে স্বাধীনতা সবকিছুই আন্দোলন করে অর্জন করতে হয়েছে। এর একমাত্র নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁকে কোন সামরিক শক্তি, রাজনৈতিক শক্তি কখনও দমাতে পারেনি।

দিবসটি উপলক্ষে বিকেলে এক মনোঙ্গ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট শিল্পী অঞ্জন দত্ত চমৎকার সঙ্গীত পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। এছাড়া, শিশু-কিশোররা এবং কলকাতায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালকের দায়িত্বে ছিলেন সতীনাথ মুখোপাধ্যায়। ১৬ মার্চ ২০২০ রাত ১২:০১ মিনিটে উপ-হাইকমিশন ভবনের ছাদ ও বাংলাদেশ গ্যালারি-তে আতশবাজি প্রদর্শন ও কেক কেটে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।