কলকাতায় একুশে বই উৎসব

373
Social Share

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এই প্রথম “একুশে বই উৎসব” উদযাপন করতে চলেছে কলকাতা পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড।

দক্ষিণ কলকাতার সাউথ সিটি মলের কাছে তালতলা ময়দানে হবে এই বইমেলা।

কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (কে.এম.ডি.এ) এবং যােধপুর পার্ক উৎসব কমিটির সহযােগিতায় এই উৎসব জুড়ে উদযাপন করা হবে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির নানা দিক।

আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। একুশে বই উৎসব চলবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বইমেলার দরজা খোলা থাকবে প্রতিদিন ২টা থেকে রাত ৯টা অবধি।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক শ্রী শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়। বিশেষ অতিথি কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের উপরাষ্ট্রদূত তৌফিক হাসান। সম্মানীয় অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি, বাণী বসু, শুভা প্রসন্ন, মাধবী মুখােপাধ্যায়, আবুল বাশার, জয় গােস্বামী, সুবােধ সরকার, অমর মিত্র, স্বপ্নময় চক্রবর্তী, প্রচেত ওপ্ত, জয়ন্ত দে, বীথি চট্টোপাধ্যায়, বিনতা রায় চৌধুরী, অভীক মজুমদারের মতো কবি, লেখক, সাহিত্যিকরা।

বৃহস্পতিবার বিকালে কলকাতায় সংবাদ সম্মেলন করে গিল্ডের সভাপতি ত্রিদিব চ্যাটার্জী জানান “বর্তমান সময়ে নিজেদের সাহিত্য, সংস্কৃতি, নিজেদের মাতৃভাষাকে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়ােজন খুব বেশি করে অনুভূত হচ্ছে। সেই কারণেই আমাদের এই প্রচেষ্টা। পাশাপাশি মাতৃভাষার সম্মান রক্ষার জন্য যারা গুলি, বেয়নেটের সামনে নিজেরা বারবার বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের স্মৃতির প্রতি এই একুশে বই উৎসব’ উৎসর্গীকৃত।”

বই মেলার ৭দিন জুড়েই প্রতিদিন বিকেলে থাকছে বাংলা ভাষা চর্চা, বাংলা ভাষার জন্য সংগ্রাম, বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে অত্যন্ত আকর্ষণীয় বিতর্ক ও আলােচনাসভা। এইসব আলােচনায় উপস্থিত থাকবেন স্ব-স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত বিশিষ্ট গুণিজনেরা। এছাড়াও প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকছে বাংলার গান, আবৃত্তি ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

দক্ষিণ কলকাতার এই একুশের বই মেলায় উপস্থিত থাকছে পশ্চিমবঙ্গের নামী বাংলা ও ইংরেজি বইয়ের প্রকাশকদের স্টল এবং সরকার পােষিত প্রকাশনা সংস্থাও। থাকছে বাংলাদেশের বইও।

পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড এর আশা অন্যান্য অনুষ্ঠানের মতো, এই নতুন উদ্যোগ “একুশে বই উৎসব”ও সফলতা পাবে।