কর্মস্থলে হিজাব নিষিদ্ধ করল জার্মানি

34
Social Share

কর্মস্থলে মুসলিম নারীদের হিজাব নিষিদ্ধের আদেশ দিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি শীর্ষ আদালত। শীর্ষ আদালতের সাফ জানিয়েছে, কোনো ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিচয় ধারণ করে এমন পোশাক কর্মস্থলে পরিধান করা যাবে না। তবে এ ক্ষেত্রে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান যদি হিজাব পরাকে মেনে নেয় তাহলে অসুবিধা নেই। অর্থাৎ নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছার ওপর হিজাব নিষিদ্ধের বিষয়টি নির্ভর করবে।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, জার্মানির দুই মুসলিম নারীর করা মামলার প্রেক্ষিতে এই রায় দিয়েছে আদালত। ওই দুই নারীকেহিজাব পরার কারণে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চ আদালত বলেছে, সামাজিক বিভেদ ও বিতর্ক দূর করতে আর কোম্পানিগুলোর নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি রক্ষায় মালিকপক্ষ কর্মক্ষেত্রে ধর্মীয় পোশাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে। শুধু ধর্মীয় নয় রাজনৈতিক আর দার্শনিক চিন্তা প্রকাশ করে এমন পোশাকের ক্ষেত্রেও মালিক পক্ষ তাদের স্বার্থ অনুসারে পদক্ষেপ নিতে পারবে।

ওই দুই মুসলিম নারী জার্মানির হ্যামবার্গে একটি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে কাজ করতেন। কর্মস্থলে হিজাব পরায় সম্প্রতি তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়। প্রতিকার পেতে তারা আদালতে দারস্ত হলে ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই রায় দেয় জার্মানির আদালত। রায়ে আদালত আরও বলেছে, কোম্পানিগুলোর মালিকরা কর্মক্ষেত্রে তাদের নিজেদের প্রকৃত স্বার্থ রক্ষার্থে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা বৈধ। তবে এক্ষেত্রে বিভিন্ন অধিকার ও স্বার্থের সমন্বয় ঘটাতে হবে।

আদালত বলেছে, কর্মস্থলে নিজের অবয়ব ঢেকে রাখা আইন বিরোধী কাজ। সেবাদানকারীকে অবশ্যই মুখমণ্ডল খোলা রাখতে হবে। রাজনৈতিক বা ধর্মীয় কারণে কোনোভাবেই কর্মক্ষেত্রে নিজের মুখ ঢেকে রাখা যাবে না। হিজাব পরলে নিয়োগ দানকারী প্রতিষ্ঠান চাইলে কর্মী ছাটাই করতে পারবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৭ সালে লুক্সেমবার্গের আদালত জানিয়েছিল, কর্মক্ষেত্রে মাথায় স্কার্ফসহ ধর্মীয় পরিচয় বহন করে এমন কিছু পরা যাবে না। আদালতের সেই রায়ের বিরুদ্ধে মুসলিম সংগঠনগুলোর প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। কলকাতা ট্রিবিউন