করোনা মোকাবেলায় শেখ হাসিনার প্রশংসা করলেন বিদেশি কূটনীতিকরা

20
Social Share

করোনা মহামারি চলাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা। চীন ও তুরস্কের রাষ্ট্রদূত এবং ভারতের হাইকমিশনার তাঁদের বক্তব্যে বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করে গত এক দশকের অর্জনকে অনন্য ও অতুলনীয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চতুর্থ দফা ও চলতি মেয়াদে দুই বছর পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে গতকাল শনিবার (৩০ জানুয়ারি) আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপ-কমিটি আয়োজিত ‘পলিটিক্যাল লিডারশিপঃদ্যান অ্যান্ড নাউ’ শীর্ষক বিশেষ ওয়েবিনারে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন তাঁরা।

ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। অন্যদের মধ্যে ছিলেন আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ জমির এবং আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে ‘লিডারশিপ ম্যাটারস: হাউ শেখ হাসিনা ইজ লিডিং বাংলাদেশ দো দ্য  পেনডেমিক’ শীর্ষক একটি নতুন প্রামাণ্যচিত্র প্রচার করা হয়। এছাড়া মুজিববর্ষ উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব: গ্লোবাল লিডার ট্রান্সমেন্ডিং টাইম অ্যান্ড বাউন্ডারিস’ নামে একটি প্রকাশনা উন্মোচন করা হয়।

ড. শাম্মী আহমেদ তাঁর স্বাগত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ১২ বছরের সময় সরকারপ্রধান হিসেবে পদ্মা সেতু, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়নের মতো বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অগ্রগতি ও উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন।  তিনি মহামারির কঠিন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা যে নেতৃত্ব দেখিয়েছেন, তা উল্লেখ করেন। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকটের মতো মানবিক ইস্যুতে শেখ হাসিনা কীভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং এ প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সংযুক্ত করেছেন, সে বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

প্রকাশনাটি উদ্বোধন করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আবদুল মোমেন তাঁর বক্তব্যে, সোনার বাংলা গড়ার ক্ষেত্রে জাতির পিতার নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। মহামারি চলাকালীন খাদ্য, ফসল ও আশ্রয় নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক ব্যবস্থার নানা দিক তুলে ধরেন ড. মোমেন। তিনি অর্থনীতি ও সমাজের ওপর মহামারির বিরূপ প্রভাব হ্রাস করার৷ উপায় হিসেবে প্রধানমন্ত্রী যে সুরক্ষা কর্মসূচি এবং উদ্দীপনা প্যাকেজ রেখেছেন, তার প্রশংসা করেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার গত এক দশকে বাংলাদেশের পক্ষে যা অর্জন করেছে তা পুরোই ‘ব্যতিক্রম’। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে এখনো দুই দেশের সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতার বড় সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, ‘গত এক দশকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকার যে উন্নয়ন অর্জন করেছেন তা যে কোনো  তুলনায় অনন্য।’ তিনি দাবি করেন, ‘বাংলাদেশের প্রতি ভারতের প্রতিশ্রুতি অপরিবর্তিত এবং দুই দেশের সম্পর্কের শিকড় যে কোনো কৌশলগত অংশীদারত্বকে ছাড়িয়ে যায়।’

বাংলাদেশে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে দেশের অগ্রগতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে স্বীকৃত। জাতি হিসেবে টেকসই উন্নয়নের পথে বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান বাঘ।’ রাষ্ট্রদূত তুরান প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মহামারি মোকাবেলায় বাংলাদেশের জনগণের নমনীয়তার প্রশংসা করেন।

সমাপনী বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ জমির বলেন, ‘শেখ হাসিনার বাস্তববাদী ও সময়োপযোগী নীতিমালা কর্মসূচির কারণে আজকের বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নের রোল মডেল।’ তিনি মহামারি চলাকালে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। বিশ্বের সকল দেশের মধ্যে এবং বিশেষত এশীয় দেশগুলোর মধ্যে কভিড -১৯ এর প্রভাব মোকাবেলা করতে পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।

আলজেরিয়া, ভিয়েতনাম এবং কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতদের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপানের মিশনসমূহের কূটনৈতিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ বলেন, ‘আজ প্রকাশিত দুটি বিষয়বস্তু, অর্থাৎ ভিডিও ডকুমেন্টারি এবং স্মৃতি প্রকাশনা শিগগির বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করা হবে।’