করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সার্ক রাষ্ট্রের তহবিল করার মোদীর প্রশংসিত ঘোষণা : আশাবাদী হয়ে উঠেছেন দক্ষিন এশিয়ার দেড়শ কোটি মানুষ

Social Share

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সার্ক রাষ্ট্রের তহবিল করার মোদীর প্রশংসিত ঘোষণা : আশাবাদী হয়ে উঠেছেন দক্ষিন এশিয়ার দেড়শ কোটি মানুষ

ভিনিউজ –

করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সার্ক কার্যকর করার উদ্যোগ সর্বত্র প্রশংসিত হচ্ছে । করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় তার তহবিল করার ঘোষনায় সার্ক নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছে এ অঞ্চলে বসবাসরত দেড় শত কোটি মানুষ। জানা গেছে , এ ঘোষণার পর নেপালে অবস্থিত ঝিমিয়ে পড়া সার্কের সদর দপ্তর নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছে। তহবিল গঠনের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডাকে দক্ষিণ এশিয়ার সার্ক জোটভুক্ত দেশের নেতারা করোনাভাইরাস সঙ্কট মোকাবিলার লক্ষ্যে ১৫ মার্চ এক ভিডিও কনফারেন্সে মিলিত হন ।ওই বৈঠকে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামলাতে প্রধানমন্ত্রী মোদী সব সদস্য দেশের যোগদানে একটি ‘আপদকালীন তহবিল’ গঠন করার আহ্বান জানান। তিনি জানান করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আঞ্চলিক তহবিলে শুরুতেই ভারত ১ কোটি ডলার দেবে। তিনি বলেন, এই তহবিলে অন্য দেশগুলোকেও তিনি ‘স্বেচ্ছায় ‘ সাধ্যমতো দান করার অনুরোধ জানান। তিনি জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও করোনাভাইরাস পরীক্ষার সরঞ্জাম-সমেত ভারত একটি ‘র‌্যাপিড রেসপন্স টিম’ও তৈরি রাখবে, যাদেরকে সার্কের অন্য দেশগুলোও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারবে।


সার্ক রাষ্ট্রের নেতারা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই উদ্যোগের প্রশংসা করছেন । বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রস্তাবে সমর্থন দেন ও বলেন, অন্য দেশগুলো রাজি থাকলে বাংলাদেশ করোনাভাইরাস মোকাবিলায় একটি প্রতিষ্ঠান (ইনস্টিটিউট) স্থাপনে বা আঞ্চলিক সম্মেলন আয়োজনেও প্রস্তুত।
করোনাভাইরাস-জনিত বিপর্যয় রোখার চেষ্টায় সার্ক দেশগুলোর যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা উচিত, সেই আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী টুইট করেছিলেন ১৩ মার্চ বিকেলে। এরপরই সার্ক নিয়ে অচলাবস্থা খুলতে শুরু করে।
দক্ষিন এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) ১৯৮৫ সালের ৮ই ডিসেম্বর দক্ষিন এশিয়ার সাতটি দেশ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান , শ্রীলংকা, নেপাল, মালদ্বীপ, ভুটান নিয়ে যাত্রা শুরু করে । ২০০৭ সালে পরে আফগানিস্থান সার্কের সদস্য পদ লাভ করে। কার্যত দক্ষিন এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক,অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সার্ক গঠিত হয়েছিল । ভারত -পাকিস্তানের মধ্যে বিভিন্ন সময় সৃষ্ট বিরোধের কারনে সার্ক কার্যত দীর্ঘদিন স্থবির হয়ে রয়েছে । দুই বছর পর পর সার্ক রাষ্ট্রের সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও, তা হচ্ছে না অনেক বছর ধরে।


মোদীর করোনা মোকাবেলায় সার্ক রাষ্ট্রগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান নতুন আশার সঞ্চার করেছে । দক্ষিন এশিয়ার প্রগতিবাদী মানুষের আশা , এই সুযোগ কাজে লগিয়ে সার্ককে কার্যকর করতে সকল সদস্যভুক্ত রাষ্ট্র চেষ্টা করবে। দক্ষিন এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক ও আঞ্চলিক সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবে । পারস্পরিক উন্নয়নে অংশিদার হবে। এগিয়ে যাবে ঐক্যবদ্ধ ভাবে উন্নয়নের পথে । দক্ষিন এশিয়া হয়ে উঠবে শান্তিময় অঞ্চল ।