করোনা ভাইরাস: চীনা ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের অনুমতি দিলো বাংলাদেশ

চীনা ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের অনুমতি দিলো বাংলাদেশ
Social Share

চীনা কোম্পানিকে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক ভ্যাকসিনের ট্রায়াল চালাতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ।

ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ঢাকায় ব্রিফিং করে বলেছেন, “আমরা ট্রায়াল করতে দিবো। তবে যারা স্বেচ্ছায় আসবে তাদেরকেই ট্রায়াল করতে দেয়া হবে। আর অগ্রাধিকার পাবে ডাক্তার, নার্সসহ যারা স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে জড়িত তারা”।

তিনি বলেন, “আমরা ট্রায়াল চালাতে দিবো। কিন্তু ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। যেসব দেশ পাবে তার ওপরের দিকেই বাংলাদেশের নাম থাকতে হবে। আর এ সংক্রান্ত খরচও তারা বহন করবেন”।

এর আগে গত ২০শে অগাস্ট করোনাভাইরাসের টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বাংলাদেশে হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করে বিবৃতি দিয়েছিলো বাংলাদেশের কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

কমিটি তখন বলেছিলো বাংলাদেশের মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে এই ট্রায়াল বাংলাদেশে চালানো উচিৎ।

আজ ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এক বৈঠকের পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলছেন ভ্যাকসিন যারাই করুক ট্রায়াল এখানে করতে তো দিতেই হবে এবং ভ্যাকসিনের বিষয়ে সব প্রস্তাব বা অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে।

বিশেষ করে চীনের, ভারতের এমনকি অক্সফোর্ডের টিকার বিষয়েও অগ্রগতি প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন বাংলাদেশে মন্ত্রণালয় ও আইসিডিডিআরবির সহায়তা ট্রায়াল কার্যক্রম চালাবে চীনা কোম্পানি।

“আমরা চীনা কোম্পানি ও রাষ্ট্রদূতকে জানিয়ে দিয়েছি। বাংলাদেশে থাকা চীনের নাগরিক ও দূতাবাসের লোকদের ওপরও ট্রায়াল করবে কোম্পানিটি। আমরা তাদের বলেছি যে আপনার ট্রায়ালের ব্যবস্থা করুন,” বলছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

চীনা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সাথে আলোচনা করে তারা (বাংলাদেশে চীনা দূতাবাস) দ্রুত ট্রায়ালের ব্যবস্থা করবে বলেও জানান তিনি।

ট্রায়াল চালাতে দেয়া উচিত বলে দেয়া বিবৃতিতে যা বলেছিলো জাতীয় পরামর্শক কমিটি

২০শে অগাস্ট দেয়া ওই বিবৃতিতে যেসব প্রতিষ্ঠান বা দেশ টিকার ট্রায়ালের তৃতীয় পর্যায়ে রয়েছে, টিকা বাজারে আসার পর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাওয়া নিশ্চিত করতে তাদের সাথে এখনই যোগাযোগ করার সুপারিশ করেছিলো কমিটি।

পাশাপাশি টিকা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় সিরিঞ্জ উৎপাদন বা কেনার প্রস্তুতি রাখা, টিকা পাওয়ার পর তা সংরক্ষণ, বিতরণের পরিকল্পনা ঠিক করে রাখা এবং টিকা পাওয়ার পর জনসংখ্যার কারা অগ্রাধিকার পাবে তা এখনই ঠিক করে রাখার আহ্বান জানানো হয় কমিটির সুপারিশে।

বিবৃতিতে বলা হয়, কয়েকটি সংস্থার টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ব্রাজিল, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, চিলি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশাপাশি বাংলাদেশে হলে বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও তা প্রমাণের সুযোগ তৈরি হবে।

পাশাপাশি টিকা সফল হিসেবে প্রমাণিত হলে তা বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাওয়ার সুযোগও থাকবে।

বাংলাদেশের জন্য করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন কতটা জরুরি

সারা বিশ্বের প্রায় দুইশটির মতো কোম্পানি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এখন করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারে কাজ করে যাচ্ছে।

যার মধ্যে মানবদেহে ট্রায়ালে এগিয়ে রয়েছে, যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড, চীনের সিনোভ্যাক, যুক্তরাষ্ট্রের মডার্না, অস্ট্রেলিয়ার মারডক চিলড্রেনস রিসার্চ ইন্সটিটিউট। ছয়টি ভ্যাকসিন ক্লিনিকাল ট্রায়ালের তৃতীয় ধাপে রয়েছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে বলছেন, “বাংলাদেশের জন্য একটি ভ্যাকসিন খুবই দরকার কারণ বাংলাদেশ অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশ। এত দীর্ঘদিন ধরে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে সবকিছু বন্ধ রেখে মানুষকে ঘরে রাখা খুবই সমস্যার একটি বিষয়। কারণ জীবন টিকিয়ে রাখতে হলে জীবিকাও লাগবে।”

“পৃথিবীর কোন দেশ থেকে কবে এই ভাইরাস চলে যাবে সেটাতো বলা মুশকিল। সংক্রমণ যদি দীর্ঘ দিনের জন্য থাকে তাহলে ভ্যাকসিন দিয়ে যদি এর সংক্রমণে একটা হস্তক্ষেপ করতে পারা যায় তাহলে কিছু জনগোষ্ঠী অন্তত নিরাপদে থাকতে পারলো।”