করোনা: চীনের কাছে জার্মানির ‘ক্ষতিপূরণ পাওনা’ ১৪ লাখ কোটি টাকা

Social Share

করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতির জন্য চীনের কাছে ক্ষতিপূরণ হিসেবে জার্মানির পাওনা ১৩ হাজার কোটি পাউন্ড (প্রায় ১৪ লাখ কোটি টাকা)। ক্ষয়ক্ষতির এই হিসাব দাখিল করেছে জার্মানির একটি পত্রিকা। এই প্রতিবেদন ধরেই কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে চীন।

ক্ষতিপূরণের বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় চীন বলেছে, ‘এ অবস্থান জেনোফোবিয়া (বিদেশিদের প্রতি অকারণ ভীতি) এবং জাতীয়তাবাদকে উৎসাহ দিচ্ছে’।

জার্মানির সর্ববৃহৎ ট্যাবলয়েড সংবাদপত্র বিল্ড এ সপ্তাহে এ বিতর্কে যোগ দেয়। পত্রিকাটি চীনের কাছে জার্মানির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৪৯ কোটি ইউরোর (১৩০ কোটি পাউন্ড) একটি খসড়া তালিকা এঁকে দেখায়।

এ তালিকায় ২৭ বিলিয়ন ইউরো চাওয়া হয় পর্যটনখাতে ক্ষতিপূরণ হিসেবে, ৭.২ বিলিয়ন ইউরো জার্মানির ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ক্ষতির জন্য, প্রতি ঘণ্টায় এক মিলিয়ন করে ক্ষতিপূরণ জার্মান এয়ারলাইন্স লুফথানসার জন্য এবং ৫০ বিলিয়ন ইউরো জার্মানির ক্ষুদ্র ব্যবসার ক্ষতি হিসেবে।

বিল্ড হিসাব করে দেখায় যে, যদি জার্মানির জিডিপি ৪.২ শতাংশ কমে তাহলে প্রতি নাগরিক ১ হাজার ৭৮৪ ইউরো (১ হাজার ৫৫০ পাউন্ড) ক্ষতির সম্মুখীন হবে, যা চীনের কাছে তাদের প্রাপ্য।

যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশের সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে খবর প্রকাশ করেছে যে জার্মানির পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের এই বিল চীনের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে করোনাভাইরাস মহামারীর জন্য চীনকে দায়ী করার ক্ষেত্রে চাপ প্রয়োগে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সঙ্গে জার্মিানিও যোগ দিল বলে তাদের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। তবে প্রতিবেদনগুলোতে জার্মান সরকারের কারো কোনো বক্তব্য নেই। শুধু বিল্ড পত্রিকাটির প্রতিবেদনের উল্লেখ রয়েছে।

বিল্ডের প্রধান সম্পাদক জুলিয়ান রেইচেল্ট চীনের প্রতিক্রিয়ার জবাবে বলেন, ‘আমাদের পত্রিকার আমরা বলতে চেয়েছি, করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বজুড়ে যে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, চীনকে তার ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত কিনা।’

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংলে উদ্দেশে জুলিয়ান বলেন, ‘আপনার সরকার এবং আপনার বিজ্ঞানীদের বহু আগেই জানা উচিত ছিল করোনাভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক। কিন্তু আপনি পুরো বিশ্বকে এ ব্যাপারে অন্ধকারে রেখেছেন। পশ্চিাম গবেষকরা যখন আপনার শর্ষি বিশেষজ্ঞদের কাছে জানতে চেয়েছিল, উহানে কী ঘটছে; তখন তারা তার জবাব দেয়নি।’

এর আগে শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি চীন জেনেশুনে এ ভাইরাস ছড়িয়ে থাকে তবে এজন্য তাদের পরিণতি ভোগ করতে হবে।