করোনায় মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে, নতুন আক্রান্ত ২,৭৩৮ জন

Social Share

দেশে করোনা শনাক্তের ১২০তম দিনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ২ হাজার ৫২ জন।
গত ২৪ ঘন্টায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৫৫ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকালের চেয়ে আজ ২৬ জন বেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকাল ২৯ জন মৃত্যুবরণ করেছিলেন। করোনা শনাক্তের বিবেচনায় আজ মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৬ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ১ দশমিক ২৫ শতাংশ। গতকালের চেয়ে আজ মৃত্যুর হার দশমিক ০১ শতাংশ বেশি।
আজ দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন হেলথ বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান।
অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ১৩ হাজার ৯৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২ হাজার ৭৩৮ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গতকালের চেয়ে আজ ৫৫০ জন কম শনাক্ত হয়েছেন। গতকাল ১৪ হাজার ৭২৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিলেন ৩ হাজার ২৮৮ জন।
তিনি জানান, দেশে এ পর্যন্ত মোট ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৬২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১ লাখ ৬২ হাজার ৪১৭ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ২০ শতাংশ। গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ২২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ শনাক্তের হার ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ কম।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৯০৪ জন। গতকালের চেয়ে আজ ৭৬৯ জন কম সুস্থ হয়েছেন। গতকাল সুস্থ হয়েছিলেন ২ হাজার ৬৭৩ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৭২ হাজার ৬২৫ জন।
তিনি জানান, আজ শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৪ দশমিক ৭২ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ৪৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ সুস্থতার হার দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি।
ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ‘করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৯৬৪ জনের। আগের দিন সংগ্রহ করা হয়েছিল ১৩ হাজার ৮৭১ জনের। গতকালের চেয়ে আজ ৯৩টি নমুনা বেশি সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় দেশের ৬৮টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৩ হাজার ৯৮৮ জনের। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ১৪ হাজার ৭২৭ জনের। গত ২৪ ঘন্টায় আগের দিনের চেয়ে ৭৩৯টি কম নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।
তিনি জানান, ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী। এখন পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৬২৪ জন; যা শতকরা ৭৯ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং নারী ৪২৮ জন; যা শতকরা ২০ দশমিক ৮৬ শতাংশ। মৃত্যুবরণকারী ৫৫ জনের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৯ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১৭ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৩ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৩ জন এবং শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১ জন রয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩ জন, বরিশাল বিভাগে ৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ১ জন, খুলনা বিভাগে ৬ জন, সিলেটে ২ জন, রংপুর বিভাগে ৮ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন রয়েছেন। এদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ৪১ জন এবং বাসায় মৃত্যুবরণ করেছেন ১৪ জন।
নাসিমা সুলতানা জানান, এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১৩ জন; দশমিক ৬৩ শতাংশ, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ২৪ জন; ১ দশমিক ২০ শতাংশ, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৭০ জন; ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৫১ জন; ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩১১ জন; ১৫ দশমিক ১৬ শতাংশ, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫৯৩ জন; ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ষাটোর্ধ্ব বয়সের ৮৯০ জন; ৪৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ৭ জন; ৫১ দশমিক ৬৬ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৩৪ জন; ৩০ দশমিক ৯৩ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগে ১০২ জন; ৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ, খুলনা বিভাগে ৮৮ জন; ৪ দশমিক ২৯ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে ৭২ জন; ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, সিলেট বিভাগে ৮৬ জন; ৪ দশমিক ১৯ শতাংশ, রংপুর বিভাগে ৬১ জন; ২ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৯ জন; ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
তিনি জানান, ‘ঢাকা মহানগরীতে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৬ হাজার ৭৫টি, আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ১৪৯টি। সারাদেশে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ১৪ হাজার ৭৭৫টি, আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৪০১টি। সারাদেশে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা ১১ হাজার ৭৮৫টি। সারাদেশে হাই ফ্লো নেজাল ক্যানেলা সংখ্যা ২০৭টি এবং অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ৯৮টি। সারাদেশে সাধারণ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৭ হাজার ১১৩ জন, আইসিইউ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৩৫৫ জন এবং ২৪ ঘন্টায় সারাদেশের হাসপাতালগুলোতে ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৭১৭ জন, ছাড় পেয়েছেন ৭৬৪ জন।
০১৩১৩-৭৯১১৩০, ০১৩১৩-৭৯১১৩৮, ০১৩১৩৭৯১১৩৯ এবং ০১৩১৩৭৯১১৪০ এই নম্বরগুলো থেকে হাসপাতালের সকল তথ্য পাওয়া যাবে। কোন হাসপাতালে কতটি শয্যা খালি আছে। কত রোগী ভর্তি ও কতজন ছাড় পেয়েছেন এবং আইসিইউ শয্যা খালি আছে কি না এই ফোন নম্বরগুলোতে ফোন করে জানা যাবে বলে তিনি জানান।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৪৪৯ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৬ হাজার ৭১৫ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৪৮৩ জন, এখন পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন ১৪ হাজার ১৫৭ জন। এখন পর্যন্ত আইসোলেশন করা হয়েছে ৩০ হাজার ৮৭২ জনকে।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ২ হাজার ৮৮৭ জনকে। এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৩২ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ৫৩৫ জন, এখন পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন ৩ লাখ ১২ হাজার ৫৩০ জন। বর্তমানে মোট কোয়ারেন্টিনে আছেন ৬৪ হাজার ৫০২ জন।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, কেন্দ্রীয় ঔষধাগার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) ২৪ ঘন্টায় বিতরণ হয়েছে ১২ হাজার ৮শ’টি। এ পর্যন্ত সংগ্রহ ২৫ লাখ ২৮ হাজার ২৪৫টি। এ পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে ২৪ লাখ ২০ হাজার ১৬৪টি। বর্তমানে ১ লাখ ৮ হাজার ৮১টি পিপিই মজুদ রয়েছে।
গত ২৪ ঘন্টায় হটলাইন নম্বরে ১ লাখ ৬০ হাজার ৫৮৮টি এবং এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ ৬৭ হাজার ২৭৩টি ফোন কল রিসিভ করে স্বাস্থ্য সেবা ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি জানান, করোনাভাইরাস চিকিৎসা বিষয়ে এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ৪১৪ জন চিকিৎসক অনলাইনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এদের মধ্যে ৪ হাজার ২১৭ জন স্বাস্থ্য বাতায়ন ও আইইডিসিয়ার’র হটলাইনগুলোতে স্বেচ্ছাভিত্তিতে সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘন্টা জনগণকে চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দিচ্ছেন।
ডা.নাসিমা সুলতানা জানান, দেশের বিমানবন্দর, নৌ, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দর দিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ৮২৪ জনসহ সর্বমোট বাংলাদেশে আগত ৭ লাখ ৪২ হাজার ৩২৯ জনকে স্কিনিং করা হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৪ জুলাই পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ২৪ ঘন্টায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২৭ হাজার ৯৪৭ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৮ লাখ ৮৮ হাজার ৭৩২ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৩৪ জন এবং এ পর্যন্ত ২৩ হাজার ৭৭৪ জন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৪ জুলাই পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী সারাবিশ্বে ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ১২ হাজার ৩২৬ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১ কোটি ৯ লাখ ২২ হাজার ৩২৪ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৫ হাজার ১২৯ জন এবং এ পর্যন্ত ৫ লাখ ২৩ হাজার ১১ জন বলে তিনি জানান।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা, সর্বদা মুখে মাস্ক পরে থাকা, সাবান পানি দিয়ে বারবার ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়া, বাইরে গেলে হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার, বেশি বেশি পানি ও তরল জাতীয় খাবার, ভিটামিন সি ও ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, ডিম, মাছ, মাংস, টাটকা ফলমূল ও সবজি খাওয়াসহ শরীরকে ফিট রাখতে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।
তিনি বলেন, ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ তা অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করে।