করোনায় নতুন মৃত্যু ১১, শনাক্ত আরো ৯৬৯

Social Share

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণে আরো ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন শনাক্ত হয়েছেন ৯৬৯ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২৫০ জনের। আর সব মিলিয়ে শনাক্ত হয়েছে ১৬ হাজার ৬৬০ জন।

আজ মঙ্গলবার (১২ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বুলেটিন প্রকাশে অংশ নেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

ডা. নাসিমা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণে দেশে আরো ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এঁরা পুরুষ সাতজন এবং চারজন নারী। মৃত্যুবরণকারীদের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে দুইজন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে একজন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ২৫০ জন।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২৪৫ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন তিন হাজার ১৪৭ জন।

ডা. নাসিমা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ছয় হাজার ৮৪৫টি। আর পরীক্ষা করা হয়েছে ছয় হাজার ৭৭৩টি। এর মধ্যে করোনা রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে ৯৬৯ জনকে। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৬ হাজার ৬৬০ জন। আর এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬৩৮টি।

জানানো হয়, করোনা সন্দেহে নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে নোয়াখালী সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলোজি ইউনিভার্সিটি। এর আগে গতকাল যুক্ত হয় আব্দুল মালেক উকিল মেডিক্যাল কলেজ, নোয়াখালী। ফলে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৮টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।

আইসোলেশন প্রসঙ্গে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে আরো ১৫২ জনকে। একইসময় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৬৭ জন। বর্তমানে আইসোলেনশনে আছেন দুই হাজার ৩৬১ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন এক হাজার ২৫৬  জন। সারা দেশে আইসোলেশন শয্যা সংখ্যা আট হাজার ৬৩৪টি। ঢাকা মহানগরীতে দুই হাজার ৯০০টি এবং ঢাকা সিটির বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে আছে পাঁচ হাজার ৭৩৪টি।

কোয়ারেন্টিন প্রসঙ্গেও তথ্য দেওয়া হয় বুলেটিনে। বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন এক হাজার ৬৬৬ জন। একইসময় কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন তিন হাজার ৬৫ জন। আর এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে গেছেন মোট দুই লাখ ২৫ হাজার ৮৪ জন। আর এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন এক লাখ ৭৯ হাজার ৬৯৯ জন। ছাড়ের পর বর্তমানে হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪৫ হাজার ৩৮৫ জন।

সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৬১৫টি প্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ৩০ হাজার ৯৫৫ জনকে সেবা প্রদান যাবে বলে জানানো হয় বুলেটিনে।

বুলেটিনে আরো জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য বাতায়ন এবং আইইডিসিআর’র হটলাইনে কল এসেছে এক লাখ ৩৫ হাজার ১৮টি। এসব কলে সবাইকে স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে এ পর্যন্ত হটলাইনে ৪৯  লাখ ২৮ হাজার ৫৩০ জনকে স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সংখ্যা বেড়েছে আরো ১৪ জন। এ নিয়ে এখন মোট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সংখ্যা দাঁড়াল ১৫ হাজার ৭২১ জনে। এ ছাড়া বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে হটলাইনে চার হাজার ৭০ জন চিকিৎসক স্বাস্থ্য পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানানো হয় বুলেটিনে।