করোনায় চোখের যত্নে সতর্ক থাকুন

65
Social Share

অধ্যাপক ডা. দীপক নাগ: ভারতে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নিয়ে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে সেটা আসলে নতুন কিছু নয়। বরং করোনাভাইরাসের উৎপত্তি বা শনাক্তের সময় থেকেই এ সমস্যার যোগসূত্র রয়েছে। বিশেষ করে প্রথমে চীনের উহানে যে বিজ্ঞানী করোনাভাইরাস আবিষ্কার করেন, সেটা কিন্তু ছিল একজন চক্ষু রোগীর চোখের উপসর্গ দিয়েই। যদিও পরে সেটা অন্য উপসর্গতেও রূপ নেয়। শুধু ভারতেই নয়, সব জায়গায়ই করোনায় আক্রান্তদের অনেকের মধ্যেই চোখের সমস্যা পাওয়া যায়। আমাদের দেশেও আমরা অল্প হলেও পাচ্ছি। সেটা পাওয়া স্বাভাবিক এ কারণে যে করোনাভাইরাস যেভাবে অনেকের ফুসফুস অকেজো করে দেয়, রক্তনালি ব্লক করে দেয়, বিভিন্ন পর্যায়ে রক্ত চলাচলে বাধার সৃষ্টি করে ঠিক তেমনি করোনা রোগীদের চোখের সংক্রমণ জটিল রূপ নিলে তা চোখের স্পর্শকাতর রক্তনালিকে ব্লক করে দিতে সক্ষম। আর চোখের রক্তনালিসহ অপটিভ নার্ভ বা মাইক্রোভাসকুলার সিস্টেমে রক্ত জমাট বেঁধে রেটিনা ব্লক হয়ে যায়। দুই ঘণ্টার মধ্যে যদি সেটি অপারেশন করে ঠিক করা না যায় তাহলে চোখ নষ্ট হয়ে যায়।

আরেকটা সহজ বিষয় সবারই হয়তো নজরে আসবে সেটা হচ্ছে, আমাদের দেশে চোখ ওঠা রোগ বলে যেই পরিচিত রোগটা আছে সেটা যেমন একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে দ্রুত ছড়াতে সক্ষম, যেমনভাবে একজনের চোখ উঠলে তার কাছাকাছি কেউ গেলে তারও চোখ ওঠে তেমনি চোখে করোনার সংক্রমণ ঘটলে সেটা আরো দ্রুত ছড়াতে সক্ষম বলে বিভিন্ন আর্টিক্যালে দেখতে পাচ্ছি। এ ছাড়া এডনোভাইরাসের প্রভাবে উপসর্গগুলোর সঙ্গে যেহেতু করোনাভাইরাসের উপসর্গের মিল রয়েছে তাই চোখের করোনার সংক্রমণ ঘটলে সেটার ক্ষতিকর প্রভাব পড়াও সহজ।

এ জন্য করোনায় আক্রান্ত রোগীদের যেমন প্রথম দৃষ্টি দেওয়া উচিত প্রাণ বাঁচানোর ব্যবস্থা করা, এর পরেই উচিত চোখের দিকে দৃষ্টি দেওয়া। কারণ করোনা চোখের যে ক্ষতি করছে এটা আমাদের কাছে নতুন নয়; যদিও সংখ্যায় কম। অর্থাৎ করোনায় আক্রান্তদের সবারই যে আবার চোখ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বা যাবে, বিষয়টি তেমন নয়। তবু আক্রান্তদের উচিত করোনা সেরে গেলেও চোখের চেকআপ করানো। কারণ অনেকের তাত্ক্ষণিক না হলেও করোনামুক্ত হওয়ার পরও প্রভাব দেখা দিতে পারে। অনেকের চোখ নষ্ট না হলেও দৃষ্টিশক্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

লেখক : জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভিট্রিও-রেটিনা বিভাগের প্রধান