করোনার চেয়ে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স আরও ধ্বংসাত্মক হবে : প্রধানমন্ত্রী

52
Social Share

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাস মহামারির চেয়ে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) আরও ধ্বংসাত্মক হবে, যা সঠিকভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলে খাদ্য সুরক্ষা ও উন্নতির পাশাপাশি ভৌগোলিক অবস্থানসহ প্রতিটি জীবকে বিপন্ন করতে পারে।

মঙ্গলবার ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স অন ওয়ান হেলথ গ্লোবাল লিডার্স গ্রুপ’ এর প্রথম সভার উদ্বোধনী অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন তিনি।  সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এ ভার্চুয়াল অধিবেশন হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ মহামারিটি আমাদের সময়ের সংজ্ঞায়িত জনস্বাস্থ্য সংকট, যা ইতোমধ্যে ৩০ লাখেরও বেশি লোকের জীবন নিয়েছে। তবে, অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) আকারে আসন্ন মহামারিটি বিশ্বস্বাস্থ্যের আরও বেশি ক্ষতি সাধন করবে।’

তার আগের ধারণকৃত এ ভাষণ অনুষ্ঠানে সম্প্রচারিত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে সতর্ক করেন যে, এন্টি ড্রাগ প্রতিরোধ কেবল মানব, প্রাণী ও উদ্ভিদের স্বাস্থ্যকেই বিপন্ন করবে না, পাশাপাশি তা খাদ্য সুরক্ষা এবং এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য) অর্জনের অগ্রগতির জন্যও হুমকিস্বরূপ।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, এন্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স ভৌগোলিক অবস্থান এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থা নির্বিশেষে যেকোনো ব্যক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী এএমআর নিয়ন্ত্রণ এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ (আইপিসি) ব্যবস্থা কঠোরভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘গ্লোবাল অ্যাকশন প্ল্যান-২০১৫ এবং এএমআর-তে জাতিসংঘের রাজনৈতিক ঘোষণা-২০১৬ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এটি সম্ভব।’

এএমআর-তে গ্লোবাল লিডার্স গ্রুপের সহ-সভাপতি শেখ হাসিনা বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রী মিয়া আমোর মোটোলি এবং অন্যান্য বৈশ্বিক নেতার সাথে এএমআরের হুমকির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একত্রে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

আসন্ন এএমআর মহামারি পটভূমির বিরুদ্ধে, প্রধানমন্ত্রী কার্যকরভাবে এএমআর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তাদের ধ্বংস কার্যকর করার জন্য বিশ্বের সামনে সাতটি পরামর্শ রেখেছেন।

তা হলো-  

১. এআরসির লক্ষ্য অর্জনের লক্ষ্যে বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, ব্যাপক মনিটরিং এবং প্রতিবেদন তৈরির ব্যবস্থা করা।
২. অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন স্তরে গাইডলাইন ও নীতিমালা উন্নত করা।
৩. কার্যকর ও ব্যাপক এএমআর নজরদারি এবং সক্ষমতা তৈরি নিশ্চিত করতে পরস্পরের মধ্যে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও কারিগরি সহায়তা বিনিময় করা।
৪. প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং মালিকানা ভাগাভাগির মাধ্যমে সাশ্রয়ীমূল্যের ও কার্যকর অ্যান্টিবায়েটিক এবং অন্যান্য মেডিকেল সুবিধা সবার জন্য নিশ্চিত করা।
৫. স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর দিকে বিশেষ মনোযোগ দিয়ে এএমআর-নির্দিষ্ট এবং এএমআর-সংবেদনশীল কাজের জন্য পর্যাপ্ত এবং টেকসই অর্থায়ন করা।
৬. সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে এএমআর প্রতিরোধে বিনিয়োগ করা।
৭. সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক, সাশ্রয়ী ও টেকসই সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।

সূত্র: বাসস