করোনাভাইরাস: ঢাকায় চীনের বিশেষজ্ঞ দল

বাংলাদেশে নতুন করোনাভাইরাসের বিস্তারে লাগাম টানতে ঢাকায় এসেছেন চীনের ১০ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সহায়তার জন্য আসা চীনের ১০ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দলকে সোমবার ঢাকার হযরত শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। ছবি-পিআইডি
Social Share

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা সোমবার এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে ১০ সদস্যের চীনের বিশেষ প্রতিনিধি দলটি সোমবার সকালে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। এ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন চীনের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিচালক ও চিফ ফিজিশিয়াল লি ইউন গিন ।

বৈশ্বিক মহামারীতে রূপ নেওয়া নতুন করোনাভাইরাসের উৎসভূমি চীন কয়েক মাস আগেই রোগটি সামাল দিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ১৪০ কোটি মানুষের দেশ চীনে এই রোগ সংক্রমণ নিয়ে সারা বিশ্বে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল।

তবে চীনে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখের নিচে থাকলেও পরে তা ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৬৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মৃত্যু হয়েছে চার লাখের বেশি মানুষের, যেখানে চীনে মৃত্যুর সংখ্যা মাত্র কয়েক হাজার।

এখন করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে নানাভাবে সহযোগিতা দিচ্ছে চীন।

নাসিমা সুলতানা জানান, এই বিশেষজ্ঞ দলে চীনের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিচালক ছাড়াও ইনফেকশাস কন্ট্রোল, এনডোক্রাইনোলজির সদস্য ছাড়াও আইসিইউয়ের হেড নার্স রয়েছেন।

চীনের এই বিশেষজ্ঞ দল ১৪ দিন বাংলাদেশে অবস্থান করবে। এ সময় তারা ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া সামরিক ও বেসামরিক হাসপাতালগুলো, কোয়ারেন্টিন সেন্টার ও ল্যাবরেটরিগুলো পরিদর্শন করবে।

সেখানে চিকিৎসা সংক্রান্ত সব বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন চীনের বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা।

এ সফরে তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জাতীয় উপদেষ্টা কমিটি, জাতীয় কারিগরি কমিটি, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ও মত বিনিময় করবেন।

এছাড়া অনলাইন সভার মাধ্যমে দেশে নানা হাসপাতাল ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলোচনা করবেন তারা।

নাসিমা সুলতানা বলেন, “আশা করি, তাদের এই সফরে বাংলাদেশ উপকৃত হবে।”

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহান শহরে প্রথম নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। কিছু দিনের মধ্যে ভাইরাসটির সংক্রমণ দ্রুত হুবেই প্রদেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে কর্তৃপক্ষ প্রদেশটি লকাডাউন করে দিয়ে কোটি কোটি বাসিন্দাকে ঘরে অবস্থান করতে বাধ্য করে।

চীনের পাশাপাশি বিশ্বের ভিন্ন দেশেও ভাইরাসটির সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর এই ভাইরাসের নাম দেওয়া হয় নভেল করোনাভাইরাস, আর এর ফলে সৃষ্ট রোগ নাম পায় কোভিড-১৯; যার লক্ষণ জ্বর, মাথাব্যথা ও শ্বাসজনিত সমস্যা।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ৮ মার্চ। এরপর ধারাবাহিকভাবে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।

সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ২ হাজার ৭৩৫ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তাতে দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৮ হাজার ৫০৪ জনে।

আর সোমবার নাগাদ দেশে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৩০ জন।