কতটা টিকবে মমতার বিরোধী জোট

92
Social Share

বুধবার দিল্লিতে বিরোধী দলগুলিকে নিয়ে বৈঠক করেছেন মমতা। রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীর বৈঠকে বিতর্ক হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। গোটা দেশের ২২টি বিরোধী দলকে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবের বৈঠকে আহ্বান জানিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৭টি দলের প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। যে পাঁচটি দল আসেনি, তার মধ্যে আম আদমি পার্টি ছাড়া বাকি চারটি দল যে আসবে না, তা মোটামুটি আগেই জানা গেছিল।

রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে অনেক কিন্তু বিতর্ক হয়নি। সূত্র জানাচ্ছে, বিতর্ক হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্য প্রস্তাব নিয়ে। মমতা চেয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একটি যৌথ বিবৃতি তৈরি করতে। সরাসরি মোদী সরকারকে আক্রমণের রাস্তা নিতে চেয়েছিলেন মমতা। 

কিন্তু বৈঠকে উপস্থিত অনেকেই বলেন, রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীর বৈঠকে এধরনের বিবৃতি নিয়ে আলোচনা করা যাবে না। বস্তুত, বুধবারের বৈঠকে বিরোধী শিবিরের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীর নাম চূড়ান্ত হয়নি। আগামী ২১ জুন পরবর্তী বৈঠকে তা চূড়ান্ত হওয়ার কথা। এদিন মমতার প্রস্তাব ছিল মহারাষ্ট্রের প্রবীণ নেতা এবং ন্যাশনাল কংগ্রেসের অন্যতম কাণ্ডারি শরদ পাওয়ার বিরোধী শিবিরের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হোন। কিন্তু বিনয়ের সঙ্গে শরদ তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। 

৮৪ বছরের শরদ জানিয়েছেন, তার এখনো রাজনৈতিক জীবন শেষ হয়নি। তাই তিনি এই পদ নিতে অপারগ। যদিও বৈঠকে উপস্থিত প্রায় সব দলই শরদের নাম সমর্থন করেছিল। বৈঠকে এর পর মমতাই আরও দুইটি নাম প্রস্তাব করেন বলে জানা গেছে। এক পশ্চিমবঙ্গের সাবেক রাজ্যপাল এবং মহাত্মা গান্ধীর বংশধর গোপালকৃষ্ণ গান্ধী এবং কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ। দুইটি নাম নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ২১ তারিখ সিদ্ধান্ত জানা যাবে। সমস্যা হয় অন্যত্র। 

এই বৈঠকের ফাঁকেই মমতা জানান, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশে যে বুলডোজার রাজনীতি শুরু হয়েছে, তার বিরুদ্ধে বিরোধীদের সঙ্ঘবদ্ধ হতে হবে। মোদী সরকারের বিরুদ্ধে প্রস্তাব নেওয়ার প্রসঙ্গও তিনি তোলেন। কিন্তু তাতে অনেকেই রাজি হননি। রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীর বৈঠকে এবিষয়ে আলোচনা হতে পারে না বলে জানান তারা। শেষ পর্যন্ত এবিষয়ে কোনো প্রস্তাব নেওয়াও হয়নি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অঙ্কের হিসেবে বিজেপির হাতে যে ভোট আছে, তাতে বিরোধীদের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী জিততে পারবেন না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তা সত্ত্বেও এই বৈঠক জাতীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ কারণ, ২০২৪ সালের আগে বিরোধী দলগুলি সংঘবদ্ধভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জমি তৈরি করতে পারে কি না, এই বৈঠকে তার ইঙ্গিত মেলার সম্ভাবনা ছিল। 

কাশ্মীরের ওমর আবদুল্লাহ, মেহবুবা মুফতি থেকে দক্ষিণের রাজনীতিবিদ, কংগ্রেসের মল্লিকার্জুন খাড়গে থেকে অখিলেশ যাদব সকলেই যেভাবে এই বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন, তাতে মনে হয়েছিল বিরোধী ঐক্য তৈরি হওয়ার একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সে সম্ভাবনা এখনো বানচাল হয়ে যায়নি। 

তবে অতীতে এমন ঐক্য শেষপর্যন্ত টেকেনি। ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একইরকম উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এভাবেই দেশের বিরোধী নেতাদের ডেকে সভা করেছিলেন। কিন্তু মাত্র কয়েকমাসের মধ্যে সেই ঐক্য ভেঙে যায়। এদিনের বৈঠকে বিতর্কের পর বিশেষজ্ঞদের অনেকেই ফের সেই একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা করছেন। 

বিশেষজ্ঞদের একাংশের বক্তব্য, কংগ্রেসের মতো জাতীয় দল বিরোধী ঐক্য তৈরির উদ্যোক্তা হলে সমস্যা কম হয়। প্রাদেশিক দলগুলি সেই উদ্যোগ নিলে কে বড় নেতা, সেই বিতর্ক শুরু হয়ে যায়। ২০১৯ সালে তা হয়েছিল, এবারেও একই ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।