ভিনিউজ : বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল মানেই আর্জেন্টিনার জন্য এক অনন্য আত্মবিশ্বাসের মঞ্চ। ফুটবল ইতিহাসে আলবিসেলেস্তেরা যতবার বিশ্বকাপের শেষ চারে উঠেছে, প্রতিবারই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই গৌরবময় ধারাবাহিকতা ধরে রাখার সুযোগ এসেছে লিওনেল স্কালোনির দলের সামনে।
রোববার (১২ জুলাই) কানসাসে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছে ইংল্যান্ড। ফলে আগামী বুধবার আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ফুটবল বিশ্বের দুই ঐতিহ্যবাহী শক্তি।
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের ইতিহাস শুরু ১৯৩০ সালে। প্রথম বিশ্বকাপেই যুক্তরাষ্ট্রকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে ফাইনালে উঠেছিল দলটি। যদিও সেবার শিরোপা জেতা হয়নি, তবু বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছিল তারা।
এরপর দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আবারও সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে ডিয়েগো ম্যারাডোনার জোড়া গোলে বেলজিয়ামকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে যায় দলটি। পরে পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা।
চার বছর পর ইতালিতে অনুষ্ঠিত ১৯৯০ বিশ্বকাপে স্বাগতিকদের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ছিল রুদ্ধশ্বাস। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। গোলরক্ষক সার্জিও গয়কোচিয়ার অসাধারণ পারফরম্যান্স সেই জয়কে স্মরণীয় করে রেখেছে।
২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপেও একইভাবে টাইব্রেকারের নাটকীয়তায় ফাইনালে ওঠে আলবিসেলেস্তেরা। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১২০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় এনে দেন গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরো। এর মাধ্যমে ২৪ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয় দলটি।
সবশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির দুর্দান্ত নেতৃত্ব ও জুলিয়ান আলভারেজের জোড়া গোলে নিশ্চিত হয় ফাইনাল। পরে ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ট্রফি ঘরে তোলে আলবিসেলেস্তেরা।
এবার সেই নিখুঁত সেমিফাইনাল রেকর্ডের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ ইংল্যান্ড। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার স্বপ্নের পাশাপাশি শেষ চারে শতভাগ সাফল্যের ইতিহাস অক্ষুণ্ন রাখার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে স্কালোনির শিষ্যরা। ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন আটলান্টার দিকে=আর্জেন্টিনা কি তাদের ঐতিহ্য ধরে রেখে আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে পারবে?




