কক্সবাজারে পুনরায় জন্ম নিবন্ধন শুরু করতে কেন নির্দেশ নয় : হাইকোর্ট

কক্সবাজারের ৪টি পৌরসভা এবং ৭১টি ইউনিয়নের পুনরায় জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে রুলে পুনরায় জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করতে বিবাদিদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার রুল জারি করেন। স্থানীয় সরকার সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্ট্রার জেনারেল, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসককে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

কক্সবাজারের বাসিন্দা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাসরিন সিদ্দিকা লিনার করা এক রিট আবেদনে এ আদেশ দেওয়া হয়। রিট আবেদনকারী নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। ‘২০ মাস ধরে বন্ধ জন্ম নিবন্ধন’ শিরোনামে স্থানীয় একটি দৈনিকে গত মে মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে এ রিট আবেদন করা হয়।

আদেশের পর নাসরিন সিদ্দিকা লিনা বলেন, অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা যাতে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব লাভসহ পরিচয়পত্র গ্রহণ করতে না পারে সে জন্য কক্সবজারের ৪টি পৌরসভা এবং ৭১টি ইউনিয়নের জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। একারণে কক্সবাজারের স্থানীয় জনসাধারণ বিদ্যালয়ে ভর্তি, পাসপোর্ট করা, ভোটার তালিকায় নিজ নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারছেন না। নতুন কেউ অনলাইনে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করতে পারছেন না। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। একারণেই রিট আবেদন করা হয়েছে।

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কক্সবাজার জেলার ৪টি পৌরসভাসহ ৮ উপজেলায় দীর্ঘ ২০ মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় লোকজন। দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয়রা জন্ম নিবন্ধন ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করলেও বর্তমানে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে অনলাইনের বাধ্যতামূলক জন্ম নিবন্ধন কপি সংযোজন করতে হওয়ায় চরম বিপাকে পড়ছে নতুন ভোটার হতে আগ্রহীরা।