ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন আবেদনের আদেশ ৩ নভেম্বর

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের জামিনের আবেদনের ওপর আজ বুধবার হাইকোর্টে শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। আদালত আগামী ৩ নভেম্বর জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার শুনানি শেষে জামিন আদেশের দিন ধার্য করেন। মোয়াজ্জেম হোসেনের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার ও রানা কাওছার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসের বাপ্পী। এ ছাড়া ওসির বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাকারী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন উপস্থিত ছিলেন।

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তার মা ২৭ মার্চ থানায় অভিযোগ দাখিল করেন। এরপর ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন নুসরাতকে থানায় ডেকে নিয়ে তার জবানবন্দী রেকর্ড করেন। পরে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গত ১৫ এপ্রিল মামলা করেন। ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেয়।

এই নির্দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬, ২৯ ও ৩১ নম্বর ধারা লংঘনের অভিযোগ আনা হয় ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে। এই প্রতিবেদন পাবার পর গত ২৭ মে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে গত ১৬ জুন হাইকোর্টে হাজির হন মোয়াজ্জেম হোসেন। ওইদিন তার আগাম জামিনের আবেদন করা হয়। আদালত পরদিন শুনানির জন্য রাখার আদেশ দেন। এরপর ওইদিনই তাকে হাইকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ১৭ জুন তাকে সাইবার

ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে আদালত তার জামিনের আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। সেই থেকে তিনি কারাবন্দি। সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। এরই মধ্যে ৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। এ অবস্থায় হাইকোর্টে নতুন করে জামিনের আবেদন করা হয়।

গত ৬ এপ্রিল নুসরাতে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত। এ ঘটনায় করা মামলায় তদন্ত শেষে ১৬ জনের বিরুদ্ধে ২৯ মে ফেনীর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।