এসডিজি অর্জনে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পুষ্টি সমৃদ্ধ ও নিরাপদ খাবার প্রাপ্তি ’অপুষ্টির কারণে দেশে বাৎসরিক ক্ষতি প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা’ –গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা

Social Share

ঢাকা: টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পুষ্টি সমৃদ্ধ ও নিরাপদ খাবার প্রাপ্তি বাংলাদেশের সামনে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, দেশে মাথাপিছু আয়সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হলেও মানুষের পুষ্টি পূরণে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি অর্জিত হয় নি।
দেশে এখনও পাঁচ বছরের কম বয়সী ৩১ শতাংশ শিশু খর্বকায়, ২২ শতাংশ পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর ওজন স্বল্পতা রয়েছে (সূত্র: বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৭-১৮)।
তাছাড়া নগরীর বস্তি এলাকা, পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠী ও পোশাক শিল্পে কর্মরত নারীদের পুষ্টি পরিস্থিতি আরও খারাপ। এই অপুষ্টি শুধু দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর শারীরিক অসুস্থতাজনিত সমস্যাই বাড়ায় না, বরং কর্মক্ষমতাও অনেকাংশে হ্রাস করে। যে কারণে বাংলাদেশের বাৎসরিক সাত হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতি হচ্ছে।
সম্প্রতি (২০শে ফেব্রুযারি) রাজধানীর কাওরান বাজারের সিএ ভবনে আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা: খাদ্য ও পুষ্টি প্রতিশ্রুতি’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এ তথ্য ওঠে আসে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ’গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমফ্রুভড নিউট্রিশন (জিএআইএন)’ ও প্রথম আলোর যেীথ আয়োজনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. মুজিবুল হক, এমপি।
দেশে খাদ্য ব্যবস্থার জন্য বাস্তবসম্মত ও উদ্ভাবনী উপায় অনুসন্ধান করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি-২) পূরণে পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাবার নিশ্চিতে ভবিষ্যত করণীয় ও সুপারিশসমূহ তুলে ধরতে এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
গেইন (জিএআইএন) এর নির্বাহী পরিচালক লরেন্স হাদ্দাদ এর সঞ্চালনায় বৈঠকে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকাস্থ নেদ্যারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত হ্যারি ভারউয়ে, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) জাকির হোসেন আকন্দ, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রুহুল আমিন তালুকদার, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ফুড় প্ল্যানিং ও মনিটরিং ইউনিট-এর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) বদরুল আরেফিন, বাংলদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদের মহাপরিচালক শাহ নেওয়াজ, গেইন এর নির্বাহী পরিচালক ডা.রুদাবা খন্দকার, একই সংস্থার পোর্টফোলিও লিড মনিরুজ্জামান বিপুল প্রমূখ।
আলোচনায় বলা হয়, নগরে দারিদ্র্য ও ঘনবসতি, পার্বত্য চট্টগ্রামে দুর্গম এলাকা, খাদ্য ঘাটতি, ফসলী জমির অভাব, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক পার্থক্যের কারণে খাদ্যাভাসে পরিবর্তন এবং পোশাক শিল্পে নারীদের কঠোর পরিশ্রম ও অসচেতনতার কারণে পুষ্টি পরিস্থিতির তেমন কোন উন্নত হয়নি।
মুজিবুল হক এমপি বলেন, বাংলাদেশ এখন যেভাবে এগুচ্ছে, তাতে ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা অবশ্যই এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হব। আশা করছি, সামগ্রিকভাবে আমরা পুষ্টি পরিস্থিতিরও উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হব।
বক্তারা পুষ্টি সমৃদ্ধ ও নিরাপদ খাবার প্রাপ্তিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। এছাড়া, পুষ্টির উন্নয়ন ও নিরাপদ খাবারের ক্ষেত্রে ভোক্তা, বাজার, উৎপাদন ও প্রক্রিয়াগত এই চারস্তরেই বিশেষ সচেতনতা আনার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে বক্তারা দেশের মানুষের পুষ্টির সার্বিক উন্নয়নে সরকারের দ্বিতীয় ন্যাশনাল প্ল্যান অব অ্যাকশন অন নিউট্রিশন (২০১৮-২০২৫) বাস্তবায়নে আরও উদ্যোগী, বাস্তবমূখী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সরকারের কাছে জোরালো আহবান জানান।