এসএমএস সেবা চালু কাশ্মীরে, আশার আলো দেখছেন না কাশ্মীরিরা

দীর্ঘ পাঁচ মাস পর নতুন বছরের শুরুতে জম্মু-কাশ্মীরিদের জন্য এসএমএস পরিষেবা চালু হয়েছে। মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা এখনও বন্ধ করা থাকলেও সরকারি হাসপাতালগুলোতে নতুন বছরে ব্রডব্যান্ড পরিবেষা চালু করা হয়েছে। নাগরিক পরিষেবা দেওয়া আরো সহজ করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু নতুন বছরে বিশেষ আশার আলো দেখছেন না কাশ্মীরিরা।

ভারতের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, আজ থেকে পুরোপুরি চালু হয়েছে এসএমএস পরিষেবা। সেইসঙ্গে সরকারি হাসপাতালে চালু হয়েছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট। ওই পরিষেবার ওপরে কড়া নজরদারি চালাবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

তবে ভরতের কেন্দ্রীয় সরকারের এমন সিদ্ধান্তে বিশেষ আশার আলো দেখছেন না কাশ্মীরিরা। গতকাল সন্ধ্যায় শ্রীনগরের একটি বড় জামাকাপড়ের দোকানের মালিক বললেন, ‘নতুন কিছুই অর্ডার দিইনি। এর পরে কী অবস্থা হবে কে জানে?’ সেখানেই দাঁড়িয়েছিলেন কলেজের শিক্ষিকা তসলিমা। তিনি বললেন, ‘কাল থেকে সরকারি হাসপাতালে ব্রডব্যান্ড চালু হচ্ছে। কিন্তু এ পর্যন্ত ইন্টারনেট না থাকায় হাসপাতালে কতো জনের মৃত্যু হয়েছে সেই হিসেবটা সরকার করেছে কি? সরকার কাশ্মীরে হত্যালীলায় মেতেছে।’ প্রায় একই সুর মাস কমিউনিকেশনের পড়ুয়া আকিব সালামের। তিনি বললেন, ‘অনেক দিন ধরে কোনো একটা সংবাদমাধ্যমে ইন্টার্নশিপের সুযোগ খুঁজছি। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় কোথাও যোগাযোগ করারই বিশেষ সুযোগ পাইনি। নতুন বছরেও বিশেষ সুযোগ জুটবে বলে মনে হচ্ছে না।’

শীত শেষ হলে উপত্যকার পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে তা নিয়েও উদ্বিগ্ন কাশ্মীরবাসী। সম্প্রতি বন্দিদশা থেকে মুক্ত এক প্রবীণ রাজনীতিক বলেন, মনে হচ্ছে উপত্যকায় এ বারের গ্রীষ্মে রক্তপাত হতে পারে। নিশ্চিতভাবে কিছু বলা কঠিন। কিন্তু নানা সূত্রে গ্রীষ্মে রক্তপাতের ইঙ্গিত পাচ্ছি।