এবারের বাজেট ঐতিহাসিক ও জনকল্যাণমুখী: ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ

61
Social Share
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাঙলার প্রথম বাজেট ৭৮৬ কোটি টাকার আকার বেড়ে এবার বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বাজেট সম্বন্ধে আমরা যেটা বুঝি সেটা হলো- সম্পদের পুনর্বণ্টন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আয়-ব্যয় বাড়ানোর মতো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। সুতরাং অর্থনীতির আঁকার যেহেতু বেড়েছে বাজেটের আঁকারও বেড়েছে। এবারের বাজেট ঐতিহাসিক বাজেট, ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে এই বাজেট। আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে যেমন দেশ স্বাধীন হয়েছিল, ঠিক তেমনি আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে এই ঐতিহাসিক বাজেট দেওয়া হয়েছে।
দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ৩৬৪তম পর্বে মঙ্গলবার আলোচক হিসেবে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান, প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (নীলদল) সভাপতি, লাইফ অ্যান্ড আর্থ সাইন্স অনুষদের প্রাক্তন ডিন অধ্যাপক ড. জাকারিয়া মিয়া, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালের প্রধান উদ্যোক্তা ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া, সাবেক ছাত্রনেতা ও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ। দৈনিক ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভোরের পাতার সিনিয়র রিপোর্টার উৎপল দাস।
ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ বলেন, এবারের বাজেট ঐতিহাসিক বাজেট, ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে এই বাজেট। আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে যেমন দেশ স্বাধীন হয়েছিল ঠিক তেমনি আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে এই ঐতিহাসিক বাজেট দেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক করোনা মহামারিকালে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। এটা একটা বিশাল বাজেট, আমাদের স্বপ্নের বাজেট। জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা ও সৎ সাহসিকতার অন্যতম একটি নিদর্শন বলা যায় এই বাজেট। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের মহামারির কারণে সারা বিশ্ব আজ বিপর্যস্ত। অগণিত মানুষের প্রাণহানি ছাড়াও এই মহামারি মানুষের জীবন-জীবিকায় চরম আঘাত হেনেছে। লাখ লাখ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। হারিয়েছেন তাদের জীবিকার সংস্থান। ফলে তারা অনেকে কষ্টের মাঝে জীবন-যাপন করছেন। বৈশ্বিক এমন অবস্থায় ৫০ বছরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন অর্থনীতির সক্ষমতা। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়নসহ বেশ কিছু সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতি বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। করোনা মহামারিতে অর্থনৈতিক গতি একটু মন্থর হলেও এখনও এশিয়ার যেকোনো দেশের তুলনায় ভালো অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। অর্থনীতির আকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক ভাবেই বাজেটের আকারও বাড়বে। ১৯৭১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রতিবছরই বাজেটের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে লক্ষণীয় যে, যখনই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় এসেছে সেসময় বাজেটের ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফটি ছিল অনেক বেশি। ২০২১-২২ অর্থবছরে আওয়ামী লীগ সরকারের ২১তম বাজেট। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ১৮তম এবং একটানা ১৩তম বাজেট। যা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একটি অনন্য রেকর্ড। ৫০ বছরে বাজেটের আকার বেড়েছে প্রায় ৭৬৬গুণ। প্রথম বাজেটের পর এক হাজার কোটি টাকার বাজেট দিতে অপেক্ষা করতে হয়েছিল ৩ বছর। ১০ হাজার কোটি হতে লেগেছে ১৪ বছর। ২১ বছর পর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর এক লাখ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। আর ১০ বছরের মধ্যেই বাজেট ৫ লাখ কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করে। তারই ধারাবাহিকতায় সরকারের ৫০তম বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ কোটি টাকা। টানা তৃতীয় মেয়াদে দেশরতœ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের বাজেট নিত্যনতুন ইতিহাস তৈরি করে যাচ্ছে।