একজন সাহারা খাতুন ও অজানা কিছু কথা…।

Social Share
ব্যারিস্টার জাকির আহমেদের ফেসবুক থেকে
আওয়ামীলীগের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র সাহারা খাতুনের জীবনাবসানে আওয়ামী পরিবারে সর্বত্র আজ শোকের ছায়া।
লড়াই-সংগ্রাম করে সারাটা জীবন কাটিয়েছেন।জীবনে কখনও আরাম-আয়েশ করেননি। এমনকি(সূত্রমতে) ১৯৭৫ এর-১৫ আগস্ট উনার বিয়ের দিন ধার্য্য ছিল কিন্তু জাতির জনককে হত্যার কারনে শোকে হতবিহবল এডভোকেট সাহারা খাতুন জীবনে আর বিয়ে না করার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে সারাটা জীবন চীরকুমারীই থেকে যান।জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ছিল তাঁর পাহাড়সম বিশ্বাস ও ভালোবাসা।
প্রিয় নেত্রী,জননেত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে মাননীয় বিচারপতি সামসুদ্দিন চৌধূরী মানিক স্যার ও যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের তৎকালীন(২০০৪-২০০৫ খ্রি:) সভাপতি সামসুদ্দিন খানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত যুক্তরাজ্য আওয়ামী আইনজীবি পরিষদের সম্মেলনে আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করার পর লন্ডন থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সাহারা আপার কাছে পাঠালে আপা আমাকে টেলিফোনে তখন বলেছিলো জাকির তোমাকে না দেখে কেবল তোমার সম্পর্কে রাজনৈতিক খোঁজ-খবর জেনেই কমিটিটা অনুমোদন দিয়ে দিলাম এবং এই প্রথম কাউকে না দেখে কমিটি দিলাম।আশাকরি তুমি সংগঠনটির সঠিক নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাবে।এরপর সাহারা আপার নির্দেশে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে লন্ডনে নিয়মিত আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাই।
তারপর লন্ডন থেকে দেশে আসার পর সাহারা আপার সাথে আইনজীবিদের সকল আন্দোলনে আমি নিয়মিত অংশগ্রহন করি।
১/১১-এর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনকালে সাহারা আপার নেতৃত্বাধীন আইনজীবি প্যানেলের সদস্যদের সাথে জননেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনের সকল কর্মসূচীতে আমি নিয়মিত অংশগ্রহনসহ প্রিয় নেত্রীর মামলায় সাহারা আপার সাথে নিয়মিত আদালতে উপস্থিত থাকি।১/১১-এ সাহারা আপার সাথে আমার আন্দোলন-সংগ্রামের অনেক স্মৃতি,অনেক কথা…।যা আজীবন আমার রাজনীতির প্রেরনা হয়ে থাকবে।
আজ সাহারা আপা নেই,এটা যেনো আমার জন্য মেনে নেয়াই কস্টকর।যিনি আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো সব সময়ই আদর-স্নেহ করতেন,রাজনীতির দিক নির্দেশনা দিতেন।
ওপাড়ে ভালো থাকবেন প্রিয় সাহারা আপা…।
আমিন।ছুম্মা আমিন।
জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু।