ঋণ সংকট ও সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পাকিস্তান : ডব্লিউইএফ

52
ঋণ সংকট
Social Share

ঋণ সংকট – গ্লোবাল রিস্কস রিপোর্ট ২০২২-এ পাকিস্তানের শীর্ষ পাঁচ ঝুঁকি চিহ্নিত করেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি দেশটির ঋণ সংকট। এরপর রয়েছে- চরম বিরূপ আবহাওয়া পরিস্থিতি, দামের স্থিতিশীলতা ফেরাতে ব্যর্থতা, সাইবার নিরাপত্তার ব্যর্থতা এবং মানবসৃষ্ট পরিবেশগত ক্ষতি।

গত মঙ্গলবার ডব্লিউইএফ এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে বলে পাকিস্তানের সংবাদমাদ্যম দ্য ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের মে থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ‘ফোরামের এক্সিকিউটিভ সার্ভের’মাধ্যমে এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রত্যেকে দেশে ঘনঘন যে ঝুঁকি তৈরি হয় সেটিকে প্রথম ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং ঋণ উদ্ভূত ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়।

২০২১ সালের শেষ দিকে কোভিড পরিস্থিতির পুনরায় বৃদ্ধি দেশগুলোর সংকট কাটিয়ে ওঠার টেকসই সক্ষমতাকে দমিয়ে রাখছে। মহামারির কারণে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের অব্যাহত রয়েছে। আশা করা হয়েছিল, মহামারি না থাকলে ২০২৪ সালের মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতি ২ দশমিক ৩ শতাংশ ছোট হবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সবথেকে বড় দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি জলবায়ুর সঙ্গে সম্পর্কিত। স্বল্পমেয়াদী ঝুঁকির মধ্যে সামাজিক বিভাজন, জীবন-জীবিকার সংকট এবং মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ মনে করেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা আগামী তিন বছরে অস্থির এবং অসম হবে।

ডন জানিয়েছে, মহামারির ফলে অর্থনৈতিক বিপর্যয় শ্রমবাজারের ভারসাম্যহীনতা, সুরক্ষাবাদ এবং শিক্ষা ও দক্ষতার শূন্যতা বৃদ্ধি বিশ্বকে বিভিন্ন পথে বিভক্ত করার ঝুঁকি তৈরি করছে।

অর্থনৈতিক দুর্দশার ফলে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতা, জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র প্রভাব এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা ইতিমধ্যে লাখো মানুষকে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করেছে। তারা বিদেশে উন্নত ভবিষ্যতের পথ খুঁজছে। অনৈচ্ছিক অভিবাসন বৈশ্বিক ঝুঁকির শীর্ষ দীর্ঘমেয়াদী উদ্বেগ। ৬০ শতাংশ মানুষ ‘অভিবাসন এবং শরণার্থী’হিসেবে দেখা হয়। ২০২০ সালে শুধু সংঘাতের কারণে ৩৪ মিলিয়নের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল।

ডব্লিউইএফ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদিয়া জাহিদীর বরাতে ডন জানিয়েছে, স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয় সামাজিক বিভাজনগুলোকে জটিল করে তুলছে। এ ব্যাপারে বিশ্ব নেতাদের অবশ্যই একত্র হতে হবে। নিরলসভাবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে এবং পরবর্তী সংকটের আগেই ব্যবস্থা নিতে সমন্বিত ‘মাল্টি-স্টেকহোল্ডার’পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।

এ ব্যাপারে বিশ্ব নেতাদের অবশ্যই একত্র হতে হবে। নিরলসভাবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে এবং পরবর্তী সংকটের আগেই ব্যবস্থা নিতে সমন্বিত ‘মাল্টি-স্টেকহোল্ডার’পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। ঋণ সংকট