ঋণখেলাপিদের গণছাড়: ২৩ হাজার কোটি টাকা নিয়মিত করতে চান ব্যবসায়ীরা

সময় যত যাচ্ছে ঋণ পুনঃ তফসিলের গণছাড়ে তত বেশি সাড়া মিলছে। ব্যবসায়ীরা সাড়ে ২৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি খেলাপি ঋণ নিয়মিত করতে আবেদন করেছেন। এর মধ্যে এককালীন এক্সিট চার হাজার কোটি টাকার বেশি। ডিসেম্বরের ১৫ তারিখ পর্যন্ত সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত আট ব্যাংকে সব মিলিয়ে আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ১০ হাজার। সরকারি ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পুনঃ তফসিলের সাড়া পাওয়ার ব্যাপারে ঋণ পুনঃ তফসিল এবং এক্সিট প্ল্যান কমিটির প্রধান মো. শুকুর আলী বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা ভালো সাড়া দিচ্ছেন। আমরা আরো সাড়া পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। তবে যারা সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে না তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।’

একই বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. শামসুল ইসলাম বলেন, ‘ঋণ পুনঃ তফসিলে এখন আমরা ভালো সাড়া পাচ্ছি। ব্যবসায়ীরা আবেদন করছে। এখনো সময় বাকি আছে। আশা করি আরো সাড়া মিলবে।’

সূত্র মতে, ঋণখেলাপিদের গণছাড় শুরুর পর থেকে সাত মাস (১৫ ডিসেম্বর) পর্যন্ত সময়ে বেশ ভালো সাড়া মিলেছে। সরকারি আট ব্যাংকে ৯ হাজার ৯৬৬টি আবেদন পড়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই পুনঃ তফসিলের আবেদন। পুনঃ তফসিলের আবেদনের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৯৩৩টি। আর এককালীন এক্সিটের আবেদনের সংখ্যা চার হাজার ৩৩টি। সব মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে, তিন হাজার ৫১৩টি। এর পরই রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের সবচেয়ে বড় ব্যাংক সোনালী ব্যাংকের। ব্যাংকটিতে আবেদন পড়েছে দুই হাজার ৬২৬টি। তৃতীয় স্থানে রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক, এক হাজার ১৩৬টি। সব মিলিয়ে ২৩ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ নিয়মিত করতে চাইছেন ব্যবসায়ীরা। এর বিপরীতে আট ব্যাংক ডাউনপেমেন্ট পেয়েছে ৪১৪ কোটি টাকা। ৯ হাজার ৯৬৬টি আবেদনের মধ্যে নিষ্পত্তির প্রস্তাব পাওয়া গেছে দুই হাজার ৬৮৪টি। জড়িত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছয় হাজার ১৮২ কোটি টাকা।

তবে আবেদনের সঙ্গে খেলাপি ঋণে জড়িত অর্থের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে জনতা ব্যাংক। ব্যাংকটিতে ৮৮২টি আবেদনের বিপরীতে জড়িত খেলাপির পরিমাণ ১১ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা। ব্যাংকটি ডাউনপেমেন্ট পেয়েছে ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকা। ২৬৩টি নিষ্পত্তিকৃত প্রস্তাবে ব্যাংকটির জড়িত অর্থের পরিমাণ তিন হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা সোনালী ব্যাংকে দুই হাজার ৬২৬টি আবেদনের বিপরীতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ তিন হাজার ১২ কোটি টাকা। ব্যাংকটি ডাউনপেমেন্টে পেয়েছে ৮৪ কোটি টাকা। ব্যাংকটির ১৫৫৬টি নিষ্পত্তিকৃত প্রস্তাবে জড়িত অর্থের পরিমাণ ৫৪৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

তৃতীয় স্থানে বহুল আলোচিত বেসিক ব্যাংকে ৪৮৫টি আবেদনের বিপরীতে জড়িত খেলাপি ঋণের পরিমাণ তিন হাজার পাঁচ কোটি টাকা। ডাউনপেমেন্টে পেয়েছে ৬৮ কোটি টাকা। আর ব্যাংকটির ২০৬টি নিষ্পত্তিকৃত প্রস্তাবে জড়িত অর্থের পরিমাণ ৮৫৮ কোটি টাকা।