উপমহাদেশের কমিউনিষ্ট আনন্দোলনের পুরধা, তেভাগা আন্দোলনের প্রাণপুরুষ, কৃষক -শ্রমিকের অকৃত্রিম বন্ধু শ্রদ্ধেয় প্রয়াত অমল সেন বাসুদার জন্মবার্ষিকী তে সশ্রদ্ধ্য সালাম। 

Social Share
জেমি হাফিজের  ফেসবুক থেকে
কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ, তেভাগা আন্দোলন এর নেতা,মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড অমল সেনের জন্ম বার্ষিকী আজ ১৯ জুলাই।
জন্মঃ ১৯,জুলাই, ১৯১৩ ইং।
নড়াইলের কিশোর অমল তার শৈশব হতে দেখে আসা পরাধীনতা ,সামাজিক বৈষম্য ও অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর বিষয় নিয়ে গভীর ভাবে ভাবতেন কিন্তু কি ভাবে কোন পথে তা করা যাবে তা তিনি তখনো বুঝতে পারেন নি।
১৯২৮ সালে অমল সেন অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রা বস্থায় তার সাথে পরিচয় হয় স্বাধীনতাকামী আন্দোলনের কর্মী সুশীল বোসের। স্বল্প সময়েই অমল সেন বাসু সন্ত্রাসবাদী দেশ প্রেমিকদের সংগঠন অনুশিলন গ্রুপের  একজন সক্রিয় কর্মী হয়ে ওঠেন। কাল ক্রমে তিনি  মার্কস এঙ্গেলসের লেখার সাথে প্রাথমিক ভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়ে যান। সন্ত্রাসবাদী থেকে শুরু মার্কস বাদীতে উত্তোরণের প্রথমিক প্রস্তুতি।
অমল সেন ১৯৩৩ সালে খুলনার বিএল কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যুক্ত হন এবং ১৯৩৪ সালে অভিক্ত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির পূূর্ণ সদস্যপদ লাভ করেন। উপনিবেশিকতা, সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে অমল সেনের দৃঢ় অবস্থান ছিল আজীবন। পাকিস্তান আমলের ১৯ বছরই তাকে রাজ বন্দী হিসেবে জেলে কাটাতে হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালে তিনি অন্যতম সংগঠক এর দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী কংগ্রেসে শারীরিক অসুস্থতার কারনে তিনি পার্টির সভাপতি পদ থেকে সরে দাড়ালেও মৃত্যুর পুর্ব পর্যন্ত তিনি বাম পন্থীদের ঐক্যে এবং জনগনের বিকল্প শক্তির উন্মেষের লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন।
কমিউনিস্ট জীবনাচরণ কি হওয়া উচিত, অমল সেন তা প্রয়োগ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক কমিউনিষ্ট অমল সেন ১৯৩৪ সালে যে পদযাত্রা শুরু করে ছিলেন ২০০৩ সালের ১৭ জানুয়ারী দৈহিক বিনাশের পুর্ব পর্যন্ত তা অব্যহত ছিল। লাল সালাম।
দাদার সাথে আমার ছবিটি জাতীয় প্রেস ক্লাবের বিপরীতে দিকে ১৯৯০ সালের অক্টেবর মাসের কোন একদিন তোলা ।
জেমী হাফিজ।
১৯ জুলাই ২০১৭ ।