উদ্বোধনের অপেক্ষায় পদ্মা সেতু

117
উদ্বোধনের অপেক্ষায়
Social Share

উদ্বোধনের অপেক্ষায় – আগামী মাসেই যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। তবে রেললাইন স্থাপনের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলবে না ভারী কোনো যানবাহন। এমনকি রেলের স্লিপার স্থাপনের কাজ নির্বিঘ্ন করতে রাতের ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সেতুতে ধীরগতিতে যান চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে। পদ্মা সেতু প্রকল্পে চলছে শেষ সময়ের ফিনিশিংয়ের কাজ।

এ মুহূর্তে প্রকল্পের সার্বিক কাজের অগ্রগতি ৯২ দশমিক ৫০ শতাংশ। মূল সেতুর বাস্তব কাজের অগ্রগতি শতকরা ৯৭ শতাংশের বেশি। সেতু বিভাগ ও পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারপ্রধানসহ বাংলাদেশের মানুষের আবেগের সঙ্গে মিশে আছে স্বপ্নের এ পদ্মা সেতু।

সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মো. মনজুর হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘জুনকে টার্গেট করেই পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ চলছে। কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা থাকলেও তা দ্রুত সলভ করে আগামী জুনেই যান চলাচলের জন্য সেতু খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে।  তারপরও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা।’ জানা গেছে, পদ্মা সেতুতে এখন শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা চলছে। শেষ হয়েছে পিচ ঢালাইয়ের কাজ। সেতুতে বসেছে সব কটি ল্যাম্পপোস্ট। রোড মার্কিংয়ের জন্য পরীক্ষাও চালানো হয়েছে। অন্যদিকে চলছে ল্যাম্পপোস্টে বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ, যা এ মাসের মধ্যেই শেষ করার কথা। সেতু দিয়ে যান চলাচলের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হলেও নিচের অংশে রেলের বড় একটি কাজ বাকি। গ্যাস পাইপলাইন, ওয়াকওয়েসহ বাকি কাজ শেষ করে জুনেই রেলের কাছে সেতুর নিচের অংশ বুঝিয়ে দেবে সেতু বিভাগ। প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, সেতুটি চালু হলেও নিচের অংশে রেললাইনের কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ বাকি রয়েছে। ঢালাই দেওয়া অবস্থায় সেতু দিয়ে যান চলাচলে যে কম্পন সৃষ্টি হবে তাতে রেললাইনের ঢালাইয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে। ধরতে পারে ফাটল। রেল কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী ঢালাইয়ের সময় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেতুতে যান চলাচলের পর কম্পনের মাত্রা কতটুকু হয় তা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রেলের অংশের কাজ শুরুর পর লাইন বসাতে অন্তত ছয় মাস লাগবে। সে হিসাব অনুযায়ী এ বছরের ডিসেম্বর নাগাদ পদ্মা সেতু দিয়ে রেল চলাচল করতে পারবে বলে আশাবাদ রেল কর্তৃপক্ষের। সেতুর সার্বিক নির্মাণকাজের অগ্রগতি জানতে চাইলে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে পদ্মা সেতু প্রকল্পের সার্বিক কাজের অগ্রগতি ৯২ দশমিক ৫০ শতাংশ। প্রকল্পের মূল সেতুর বাস্তব কাজের অগ্রগতি শতকরা ৯৭ শতাংশের বেশি। আগামী জুনে যান চলাচলের জন্য সেতু খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছি।’

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর একে একে ৪২টি পিলারে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়েছে ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর। একই সঙ্গে চলতে থাকে রোডওয়ে, রেলওয়ে স্লাব বসানোসহ অন্যান্য কাজ। সেতুর মূল আকৃতি দোতলা। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) আর নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। দুটি সংযোগসড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। পদ্মা সেতুর সৌন্দর্য দেখতে সেতুর দুই পাশে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ভিড় করে; যা মিলনমেলায় পরিণত হয়।

উদ্বোধনের অপেক্ষায়

যত কথা : আগামী জুনের মধ্যে পদ্মা বহুমুখী সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ৫ মে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু উদ্বোধনের তারিখ পেছানো হয়নি। আগামী জুনেই পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হবে।’ এর আগে ৪ এপ্রিল সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা শেখ ওয়ালিদ ফয়েজ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে জুনেই পদ্মা সেতু উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। দুই দিন পর ৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন, ‘রেলসংযোগসহ এ বছরের শেষ নাগাদ পদ্মা সেতু চালু হবে।’ এর এক দিন পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এ বছরের শেষের দিকে হবে। আমরা প্রত্যাশা করে আছি এ বছরের (অর্থবছর) শেষ নাগাদ এটি চালু করতে পারব, এটা আমাদের প্রত্যাশা। আমাদের ফিন্যানশিয়াল বছর, যেটি জুনে শেষ হবে। আমরা বিশ্বাস করি এর মধ্যে এটি চালু করতে পারব।’ উদ্বোধনের অপেক্ষায়