উত্তরের উন্নয়ন :শেখ হাসিনার অবদান (পর্ব ১)

1187
Social Share

উত্তরবংগ।যদিও যমুনা পারের এপাশ থেকেই উত্তরবংগ শুরু।তবুও উত্তরাঞ্চল বলতে সাধারণত রংপুর বিভাগকেই বুঝানো হয়।একটা সময় ছিলো যখন লোক মুখে ভেসে বেড়াত এই অঞ্চলের অভাব।অনেকেই কটাক্ষ করে বলত যে,রংপুরের মানুষ ভাত পাইলে আল্লাহর নাম ভুলে যায়”।
এই বাক্য থেকেই বুঝা যায় কতখানি অভাব ছিলো এই অঞ্চলের মানুষের।
কিন্ত,শেখ হাসিনা সরকারের পরিকল্পিত উন্নয়ন, সুদৃষ্টি এর বদান্যতায় রংপুর বিভাগের ০৮ জেলার চিত্র হয়েছে পরিবর্তন।রংপুর বিভাগের ০৮ জেলা ঘুরে, বিভিন্ন সাধারণ মানুষের মতামত নিয়ে আজকের এই রিপোর্ট।

রংপুরের সদর জেলা মোটামোটি উন্নত বা পরিচিত ছিল আগে থেকেই।তবে আদর্শ বিভাগীয় শহর হিসেবে রংপুর সারাদেশে সমাদৃত এখন।রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার চরাঞ্চলে এখন শতভাগ বিদ্যুৎ পৌচেছে।একসময় এই অঞ্চলের মানুষ বিদ্যুৎ এর আলোকে অলৌকিক মনে করতেন। সেই গংগাচড়া এখন পরিকল্পিত, আধুনিক শহর।পরিকল্পিত বাঁধ,কৃষি বিপ্লব। সব মিলে উন্নত জীবনের অংশীদার এইসব অঞ্চলের মানুষ।
রংপুর এর মিঠাপুকুর। এই মিঠাপুকুর এর বউমা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। রংপুরের মেডিকেল কলেজ এখন সর্বাধুনিক। রয়েছে ডেন্টাল কলেজ,বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। ঐতিহ্যবাহী কারমাইকেল কলেজ এখন আরও উন্নত। পাশের জেলা গাইবান্ধা।চর অধ্যুষিত গাইবান্ধা এখন আধুনিক জেলা।যার রুপকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।গাইবান্ধা পাঁচপীর বাজারের ওহিজল মিয়া তৃপ্তির ঢেকুর তুলে বলেন,”এতো সরকার গেইছে আইছে শেখের বেটির মতোন কাহো হোবার পারিবেনা।আল্লাহ উমার(মাননীয় প্রধানমন্ত্রী) হায়াত বাড়ে দেউক”।
গাইবান্ধায় এখন ব্রিজ তৈরীর কাজ চলছে।চায়না প্রজেক্ট এর এই কাজ খুব দ্রুত চলছে।এই ব্রিজ হলে চিলমারী-গাইবান্ধার ৮০ কিলোমিটার দুরুত্ব কমবে।

এর পাশেই কুড়িগ্রাম। বন্যার সময় সবচেয়ে অবহেলিত জেলার নাম ছিলো কুড়িগ্রাম। এখন পূর্বের কুড়িগ্রাম আর নেই।রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে লোকজনের জীবন যাত্রার মান বেড়েছে অনেক।নাগেশ্বরী কলেজ মোড়ের নাজমুল ইসলাম(৩৫)জানান যে,বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সরকারের অবদান আজকের এই উন্নয়ন। তিনিও ধন্যবাদ জানান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কে।

লালমনিরহাট জেলা এখন সর্বাধুনিক। এই জেলার বুড়িমাড়ি স্থলবন্দর দেশের অন্যতম স্থলবন্দরে রুপ নিয়েছে।বুড়িমাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নিশাত নেওয়াজ জানান যে,আজকে থেকে ১২/১৩ বছর পূর্বেও এখানকার অনেক মানুষ না খেয়ে থাকত।আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পিত নগরায়ণে আজ আমরা কেউ না খেয়ে থাকিনা।এই লালমনিরহাট জেলায় বিমানবন্দর নির্মানের কাজ চলছে।

উত্তরের শিল্প নগরী হিসেবে নতুনভাবে আবির্ভুত হয়েছে প্রাণের শহর খ্যাত নীলফামারী। উত্তরা ইপিজেড,সৈয়দপুর বিমানবন্দর, নীলফামারী মেডিকেল কলেজ, চিলাহাটি স্থলবন্দর কি নেই এই নীলফামারীতে।অথচ,২০০৫/০৬ সালেই এই নীলফামারীর মানুষ ক্ষুধার জ্বালায় নিজ শিশু সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছিলেন বলে লোক মুখে শোনা যায়।আজ সারা দেশের অন্যান্য শহরের চেয়ে সবচেয়ে এগিয়ে এখন নীলফামারী।
আগে কেমন ছিলেন এবং এখন কেমন আছেন?এই প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়েছিলো ডোমারের বাবলু মিয়াকে।কোন চিন্তা না করেই তার ঝটপট উত্তর,আগত এই ঠান্ডাত প্রতিদিন ২/৩ জন মানশি মরছিলো,খাবার না পায়া কতজনের বউ যে অন্যের হার ধরি পালাইছে তার কি হিসাব আছে?আর এলা কয়জন মরেছে ঠান্ডাত?এলা কাহো কি না খায়া আছে?পেটের ভোগত কি কারো বউ পালায় এলা?”
তিনি আরও যোগ করেন,সবকিছু হইছে হামার প্রধানমন্ত্রীর জন্যে।সারাজীবন এই সরকার থাউক”।

চলবে….