উইঘুর নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় জার্মান গবেষকের বিরুদ্ধে মামলা চীনের

55
Social Share

উইঘুরদের ওপর নির্বিচারে নির্যাতন ও গণহত্যার অভিযোগ করায় অ্যাড্রিয়ান জেনজ নামের এক  জার্মান গবেষকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দিয়েছে চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের একটি আদালত।

এই প্রদেশের বৃহত্তম শহর কাশগরের আদালত ‘শ্যাচে জিয়ানজিং টেক্সটাইল লিমিটেড’-এর দায়ের করা দেওয়ানি মামলাটি ২ এপ্রিল গ্রহণ করেন। শ্যাচের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘সংস্থাটি জেনজের ‘বিকৃত’ মন্তব্যের কারণে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

এরই পরিপ্রেক্ষিতে আদালত জেনজকে তার গবেষণা বন্ধ করার, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং সংস্থার কাছে ক্ষমা চাওয়ার আদেশ দিয়েছেন। এছাড়াও যুক্তরাজ্যভিত্তিক এই গবেষককের চীনে প্রবেশ বা ব্যবসা করার নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে, তবে আদালত এ রায় দিলে কিভাবে কার্যকর করা হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

প্রসঙ্গত, জেনজ চীনের একজন প্রবীণ সহযোগী। ওয়াশিংটন ডিসির ভিকটিম্টস অব কম্যুনিজম মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনে পড়াশোনা করেছেন তিনি। জিনজিয়াংয়ে আটক শিবির নির্মাণ এবং উপগ্রহের চিত্র ব্যবহার করে লাখো উইঘুর ও কাজাখের মুসলমানদের গণবন্দিকরণের খবর প্রকাশের প্রধান কারিগর ছিলেন তিনিই।

এছাড়াও কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়না (সিসিপি) এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ তিনি কিছু সরকারি নথিও প্রকাশ করেন। উইঘুর নারীদের ওপর জনসংখ্যা হ্রাস করার জন্য জোর করে সিসিপির দ্বারা বন্ধ্যাকরণের বিষয়টিও প্রকাশ করেছিলেন।

এসসিএমপি অনুসারে, ইউরোপীয় সরকারি সংস্থা, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও থিঙ্ক ট্যাঙ্ককে চীন সফরে বা ব্যবসা করতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এরপর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে নিষেধাজ্ঞার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য প্রতি মাসে চীনের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় স্থান পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে জেনজও ছিলেন।