ঈদের ছুটিতে বৌদ্ধ বিহারে দর্শনার্থীদের ঢল

52
ঈদের ছুটিতে
Social Share

ঈদের ছুটিতে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে (সোমপুর বিহার) লক্ষাধিক পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে চালু হওয়া টুরিস্ট বাস ভ্রমণ বিলাস নওগাঁর ঐতিহাসিক স্থানগুলো ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যটকদের মাঝে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। 

মহামারি করোনা ভাইরাসের সংকট কেটে প্রায় দীর্ঘ দুই বছর পর আবারো নতুন করে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণ। বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকসহ দেশের বিশিষ্টজনরা এই ঈদে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার ভ্রমণ করেছেন। 

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড় বিহার এই পাহাড়পুর। এর আদি নাম সোমপুর বিহার। এটি নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নে অবস্থিত। ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এটি মূলত পাল রাজাদের রাজধানী ও সেই সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। এখানে সে সময় ভিক্ষুরা পড়ালেখা করতেন। নওগাঁ শহর থেকে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের দূরত্ব প্রায় ৩৪ কিলোমিটার। এখানে সারা বছর দেশ ও বিদেশ থেকে আগত দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটে। তবে দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ঘরে বন্দি থাকায় এই ঈদে খোলা পেয়ে লক্ষাধিক দর্শনার্থী পাহাড়পুরে আসছেন। বিগত সময়ের তুলনায় এই ঈদে দর্শনার্থীদের আগমন রেকর্ড পরিমাণ। আগের চেয়ে অনেক আধুনিকায়ন হওয়ায় পাহাড়পুরের পরিবেশ নিয়েও সন্তোষ দর্শনার্থীরা। শনিবার সরকারি ছুটির দিন পর্যন্ত দর্শনার্থীদের আগমন ঘটবে বলে আশা করছেন কর্তৃপক্ষ। 

বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক বলেন, ‘সত্যিই পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার ও তার পরিবেশ খুবই সুন্দর। তবে এখানে মোবাইল নেটওয়ার্কের খুবই সমস্যা। কিন্তু আজকের দিনে এমন ঐতিহাসিক স্থানে এমন সমস্যা সত্যিই খুবই দুঃখজনক। এই সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। আমি এখানে এই প্রথম আসলাম। হাজার বছর আগের কীর্তি দর্শন করতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। আর এখানে এত পর্যটকের সমাগম এর আগে আমি কোথাও দেখিনি।’

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের কাস্টোডিয়ান মুহাম্মদ ফজলুল করিম আরজু বলেন, ‘পাহাড়পুরের ইতিহাসে এত রেকর্ড পরিমাণ দর্শক কখনোই হয়নি। আমরা সীমিত লোকজন নিয়ে আগত দর্শনার্থীদের মানসম্মত সেবা দেওয়ার চেষ্টা করে আসছি। এত দর্শনার্থী সামাল দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেকেই আবার বিহারের প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করছে। আমি আশাবাদী আজ শনিবার পর্যন্ত দর্শকদের উপস্থিতি থাকবে।’

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘দেশের ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোকে আরও আধুনিকায়ন করতে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আগের পাহাড়পুর কী ছিল, আর এখন কেমন পরিবর্তন করা হয়েছে। অতি দ্রুত পাহাড়পুরের জনবল সংকটসহ নানা সমস্যা সমাধান করে এটিকে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করতে যা যা করা প্রয়োজন, তা করা হবে। দেশের সব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো আরও আধুনিকায়ন করতে সরকারের অচিরেই সেই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।’ ঈদের ছুটিতে