ইরানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফায় জয়ী হতে চলেছেন কট্টরপন্থী বিচারপতি এব্রাহিম রাইসি

31
Social Share

ইরানে প্রথম দফার নির্বাচনে বিপুল ভোটে এগিয়ে থাকায় কট্টরপন্থী এব্রাহিম রাইসি দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন।

বাকি তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে তিনি পরাজিত করেছেন এবং এই নির্বাচনে অনেককে প্রার্থী হতে দেওয়া হয়নি।

মি. রাইসি ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান এবং তার মতাদর্শ অতি-রক্ষণশীল।

তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং অতীতে রাজনৈতিক বন্দীদের মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গেও তার সম্পর্ক রয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনির পর প্রেসিডেন্ট দেশটির দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি।

ইরানের আভ্যন্তরীণ নীতিমালা ও পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে প্রেসিডেন্টের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। তবে সুপ্রিম নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনি রাষ্ট্রীয় বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন।

কে এই এব্রাহিম রাইসি

ষাট বছর বয়সী এব্রাহিম রাইসি তার কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে কাজ করেছেন।

তাকে ২০১৯ সালে বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর দু’বছর আগে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি হাসান রুহানির কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হন।

দুজন ভোটার
২০১৭ সালের নির্বাচনের তুলনায় এবারে কম ভোট পড়েছে।

মি. রাইসি দেখিয়েছেন যে ইরানে দুর্নীতি মোকাবেলা এবং অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে তিনিই হবেন সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি।

তবে ১৯৮০-এর দশকে রাজনৈতিক বন্দীদের যেভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাতে মি. রাইসির ভূমিকা নিয়ে বহু ইরানি এবং মানবাধিকার কর্মী এর আগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ইরান কখনো এই গণ-মৃত্যুদণ্ডের কথা স্বীকার করেনি এবং এতে মি. রাইসির ভূমিকা নিয়ে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে – সেবিষয়ে তিনি কখনো কিছু বলেন নি।

ইরান ও সারা বিশ্বের জন্য তার এই বিজয়ের অর্থ কী

বিবিসির ফার্সি বিভাগের কাসরা নাজি বলছেন, মি. রাইসির অধীনে কট্টরপন্থীরা ইসলামি অনুশাসন মেনে সরকার পরিচালনার ব্যাপারে আরো কঠোর হবেন যার অর্থ সামাজিক কার্যক্রমের ওপর আরো বেশি নিয়ন্ত্রণ, নারীদের কর্মসংস্থান ও স্বাধীনতা কমে যাওয়া এবং সংবাদ মাধ্যমসহ সোশাল মিডিয়ার ওপর আরো বেশি নিয়ন্ত্রণ আরোপ।

কট্টরপন্থীরা পশ্চিমাদের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করলেও মি. রাইসি এবং সর্বোচ্চ নেতা খামেনি তারা উভয়েই পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে আন্তর্জাতিক চুক্তিতে ফিরে যেতে আগ্রহী বলে ধারণা করা হয়।

২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তিতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার শর্তে দেশটির ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৮ সালে এই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয় এবং ইরানের ওপর বেশ কিছু বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

নিষেধাজ্ঞার কারণে সাধারণ ইরানিরা অর্থনৈতিক দুর্দশায় পড়েছে যার কারণে জনগণের মনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পর ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি পুনরায় চালু করে।

চুক্তিটি পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে ভিয়েনায় আলোচনা চলছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেনও চুক্তিটিকে বাঁচিয়ে তুলতে আগ্রহী। কিন্তু উভয়পক্ষই বলছে যে অন্যপক্ষকে প্রথমে এগিয়ে আসতে হবে।