ভিনিউজ ডেস্ক : ভারতের রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং গান্ধী পরিবারের সদস্য রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব বরাবরই স্পষ্ট। সংসদ থেকে নির্বাচনী মঞ্চ-বিভিন্ন সময়ে একে অপরকে তীব্র আক্রমণ করতেও দেখা গেছে তাঁদের। কিন্তু রাজনীতির সেই উত্তাপকে এক পাশে সরিয়ে এবার এক বিয়েবাড়িতে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি। একই ফ্রেমে ধরা পড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁদের মধ্যে হাসি-ঠাট্টার সেই মুহূর্তের ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনাটি ঘটে এনসিপি (এসপি) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে। নয়াদিল্লিতে শরদ পাওয়ারের ৬, জনপথের বাসভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারাও। রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে সেখানে তাঁদের বেশ স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশে দেখা যায়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। হাসিমুখে তিনি প্রিয়ঙ্কাকে প্রশ্ন করেন, ‘প্রিয়ঙ্কা কেমন আছেন আপনি?’ প্রিয়ঙ্কাকে ভিডিওতে স্পষ্টভাবে দেখা না গেলেও তাঁর উত্তর শোনা যায়। সহাস্যে তিনি বলেন, ‘আমি ভাল আছি, স্যার! আপনি কেমন আছেন?’
প্রিয়ঙ্কার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বরাবরের মতোই আছি।’ মোদির এই মন্তব্যের পরই পরিস্থিতি আরও মজার হয়ে ওঠে। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে রসিকতা করে প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘দাদা, আপনি একটু বদলে গেছেন।’ খাড়গের এই মন্তব্য শুনে প্রধানমন্ত্রীকে হাসতে দেখা যায়। তিনি পাল্টা বলেন, ‘ওহ, তাই নাকি?’
এই কথোপকথনের সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রাহুল গান্ধীকেও হাসতে দেখা যায়। রাজনৈতিক মঞ্চে যাঁদের প্রায়ই পরস্পরের বিরুদ্ধে তীব্র বক্তব্য রাখতে দেখা যায়, তাঁদের এমন স্বাভাবিক ও হাস্যরসাত্মক মুহূর্তই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে খাড়গের ‘আপনি একটু বদলে গেছেন’ মন্তব্যটি নিয়ে নানা ব্যাখ্যা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাংশের ধারণা, প্রধানমন্ত্রী মোদির সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-কেন্দ্রিক প্রচারের দিকেই হয়তো ইঙ্গিত করেছেন খাড়গে। তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন-জি-র সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে ইনস্টাগ্রাম ও অন্যান্য সামাজিকমাধ্যমে ছোট ভিডিও ও রিলের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর বেশ কিছু সাম্প্রতিক ভিডিওও সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অনানুষ্ঠানিক মুহূর্ত রাজনীতির বাইরে ব্যক্তিগত সম্পর্কের একটি ভিন্ন দিক তুলে ধরে। মতাদর্শগত বিরোধ থাকলেও সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সৌজন্য ও স্বাভাবিক সম্পর্কের ছবি নতুন নয়। তবে বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক মেরুকরণ যখন অত্যন্ত তীব্র, তখন একই ফ্রেমে মোদি, খাড়গে, রাহুল ও প্রিয়ঙ্কাকে হাস্যরসের পরিবেশে দেখা স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নিয়ে ইতিমধ্যে নানা মন্তব্য করছেন নেটিজেনরা। কেউ এই মুহূর্তকে রাজনৈতিক সৌজন্যের সুন্দর উদাহরণ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ খাড়গের মন্তব্যের অন্তর্নিহিত ইঙ্গিত খুঁজছেন। তবে সব ব্যাখ্যার বাইরে ঘটনাটির সবচেয়ে আলোচিত দিক হয়ে উঠেছে প্রধানমন্ত্রীর সহজ প্রশ্ন-‘প্রিয়ঙ্কা কেমন আছেন আপনি?’ এবং তার পরেই খাড়গের রসিকতা।
রাজনীতির তীব্র বাকযুদ্ধের বাইরে কয়েক মুহূর্তের এই হাসি-ঠাট্টা যেন মনে করিয়ে দিল, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও ব্যক্তিগত সৌজন্য ও মানবিক সম্পর্কের জায়গাটি সম্পূর্ণ আলাদা। সুপ্রিয়া সুলের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান তাই শুধু একটি সামাজিক আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; রাজনৈতিক মহলের এক বিরল, স্বতঃস্ফূর্ত এবং আনন্দঘন মুহূর্তের সাক্ষীও হয়ে রইল।




