ইনসুলিন নিলেন, আবার শাহি-ভোজে মিষ্টি দইও খেলেন অমিত, দাদার মনোভাব জানলেন কি?

77
ইনসুলিন
Social Share

অমিত শাহ তাঁর ‘রাজনৈতিক টিম’ নিয়েই মহারাজের দরবারে গিয়েছিলেন।উদ্দেশ্য ছিল একটাই বার্তা দেওয়া— সৌরভ তাঁদের পছন্দের মানুষ।

এমনিতেই রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি। মিষ্টি খাওয়া বারণ। মধুমেহ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত ইনসুলিন ইঞ্জেকশন নিতে হয় তাঁকে। কিন্তু শুক্রবার শাহি-ভোজে মিষ্টি দই খেয়েছেন অমিত শাহ। তবে ওইটুকুই। তাঁর এবং তাঁর সঙ্গী রাজনীতিকদের পাতে বাকি যে মিষ্টান্ন সাজিয়ে দিয়েছিলেন বেহালার গঙ্গোপাধ্যায় পরিবার, স্বাস্থ্যের কারণেই তার একটিও ছুঁয়ে দেখেননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়িতে শুক্রবার নৈশভোজে নিয়ে এক ঘন্টার কাছাকাছি সময় ছিলেন সপার্ষদ অমিত। দু’জনের একান্তে কোনও কথা হয়নি। তবে সোফায় অমিতের পাশেই বসেছিলেন সৌরভ। দু’জনে কিছু কথাবার্তাও হয়েছে। তবে তা রাজনীতি সংক্রান্ত নয় বলেই অসমর্থিত সূত্রের দাবি। সাধারণ ভাবে কথা হয়েছে অমিতের করোনা আক্রান্ত হওয়া নিয়ে। খানিকটা পারিবারিক কুশলাদিও বিনিময় হয়েছে। বস্তুত, বিজেপি সূত্রের খবর, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ওই আলোচনায় সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৌরভকে বলেন, প্রথম বার করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সময় (অমিতের দু’বার করোনা হয়েছিল) তিনি যথেষ্ট বিপন্ন বোধ করেছিলেন। রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকায় তাঁর ‘কোমর্বিডিটি’ ছিল। বস্তুত, সেই সময়েই নাকি অমিতের খেয়াল পড়ে, তাঁর ইনসুলিন ইঞ্জেকশন নেওয়া হয়নি। তখন তাঁর এক সফরসঙ্গী এসে তাঁকে ইঞ্জেকশনটি দিয়ে যান। তবে তার পরেও অমিত মিষ্টি দই খান। মিষ্টি ছাড়া অন্য প্রায় সব পদই তিনি তৃপ্তি করে খেয়েছেন বলেই রাজ্য বিজেপি সূত্রের খবর।

প্রসঙ্গত, অমিত সৌরভের বাড়িতে নৈশভোজে আসছেন শুনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘‘ওঁকে ভাল করে বাংলার দই-রসগোল্লা খাওয়ানো উচিত।’’ রসপৃগোল্লা না খেলেও দই খেয়েছেন অমিত। ওয়াকিবহাল এক নেতার দাবি, অমিতের দুই নাতনির জন্য দু’হাঁড়ি দইও নাকি দিয়ে দিয়েছেন সৌরভ। নৈশভোজ এবং খোশগল্প সেরে রাতে সপারিষদ বেরিয়ে দিল্লির বিমান ধরেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কোনও পক্ষই ওই সাক্ষাতে রাজনীতিকে প্রাধান্য দিতে চায়নি। প্রাধান্য দেওয়া দূরস্থান, রাজনীতি আনতেই চায়নি। সৌরভ যেমন বলেছেন, তিনি দীর্ঘদিন অমিত শাহকে চেনেন। অমিত-তনয় জয় শাহ ভারতীয় বোর্ডে তাঁর সহকর্মীও বটে। সেই সৌজন্যের খাতিরেই তাঁর বাড়িতে অমিতের নৈশভোজে আমন্ত্রণ। একই কথা অমিতও তাঁর ঘনিষ্ঠমহলে বলেছেন বলে অসমর্থিত সূত্রের খবর। কিন্তু অমিতের সঙ্গে যাঁরা সৌরভের বাড়িতে গিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ‘অরাজনৈতিক’ একজনও ছিলেন না। প্রথমে ঠিক ছিল, অমিতের সঙ্গে নৈশভোজে যাবেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত (একটি সূত্রের খবর, স্বপনই নৈশভোজের ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছিলেন। কোনও পক্ষই সেই প্রস্তাবে ‘না’ বলেনি)। বাস্তবে দেখা গেল সেই দলে রয়েছেন বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ সুকান্ত মুজমদার এবং দলের প্রথমসারির নেতা অমিত মালবীয়রাও। ফলে শাহ যে তাঁর ‘রাজনৈতিক টিম’ নিয়েই মহারাজের দরবারে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। এবং তাঁর উদ্দেশ্য ছিল একটাই বার্তা দেওয়া— সৌরভ তাঁদের পছন্দের মানুষ

 

সেই সূত্রেই প্রশ্ন এবং জল্পনা— সৌরভের মনোভাবের কোনও আঁচ কি পেলেন বিজেপির এই শীর্ষনেতা?