ভিনিউজ : ইরানের মুদ্রা রিয়ালের মান ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, তীব্র কূটনৈতিক অচলাবস্থার আশঙ্কা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে খোলা বাজারে প্রথমবারের মতো এক মার্কিন ডলারের দাম ২০ লাখ রিয়াল ছাড়িয়েছে। এতে দেশটির অর্থনীতিতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ডলার ও সোনা কেনার প্রবণতা বেড়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) ইরানের খোলা বাজারে প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময়মূল্য ২০ লাখ রিয়াল অতিক্রম করে। অথচ সপ্তাহের শুরুতেই এক ডলারের বিপরীতে রিয়ালের দর ছিল প্রায় ১৮ লাখ ৬৫ হাজার। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ইরানি মুদ্রার মূল্য ৭ শতাংশের বেশি কমে যায়। দেশটির ইতিহাসে এটি রিয়ালের সবচেয়ে বড় অবমূল্যায়নের অন্যতম নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রিয়ালের এই দ্রুত পতনের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা ইরানের বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে কঠিন করে তুলেছে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ও সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা ইরানের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। কারণ দেশটির অর্থনীতির বড় একটি অংশ তেল রপ্তানি থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার ওপর নির্ভরশীল।
রিয়ালের দরপতনের মধ্যে ইরানের সাধারণ মানুষও নিজেদের সঞ্চয় রক্ষায় ডলার ও সোনা কেনার দিকে ঝুঁকছেন। এতে খোলা বাজারে মার্কিন ডলারের চাহিদা আরও বাড়ছে এবং রিয়ালের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। অর্থনীতিতে এই ধরনের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হওয়া এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ১৭ জুনের সমঝোতা স্মারকের ৬০ দিনের সময়সীমা কোনো চুক্তি বা উল্লেখযোগ্য ছাড় ছাড়াই শেষ হওয়ার পর মার্কিন প্রশাসন ইরানের সমুদ্রবন্দর ঘিরে নতুন অবরোধ এবং দেশটির তেল বিক্রির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ছাড় বাতিলের পদক্ষেপ নেয়।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তেহরান ঘোষণা করেছে, ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার বিষয়টি তারা বিবেচনায় রাখবে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে এমন উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
অর্থনৈতিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা একসঙ্গে চলতে থাকায় ইরানি রিয়ালের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশটির সরকার দ্রুত বৈদেশিক মুদ্রার সংকট মোকাবিলা করতে না পারলে রিয়ালের আরও দরপতন এবং অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।




