ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

ইউনাইটেড হাসপাতালের আগুন (ছবি: সংগৃহীত )
Social Share

ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর পক্ষ থেকে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (ডিডি) ঢাকার দেবাশীর্ষ বর্ধনকে। সদস্য সচিব ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল বাবু চক্রবর্তী এবং দুই সদস্য হলেন উপ সহকারি পরিচালক নিয়াজ আহমেদ ও গুলশান-বারিধারা ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবুল কালাম আজাদ।
ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের ডিউটি অফিসার রাসেল শিকদার আজ বৃহস্পতিবার বাসস’কে এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন বুধবার মধ্যরাতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর পক্ষ থেকে ৪ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
বুধবার রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীর গুলশানের দুই নম্বরে অবস্থিত বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালের অগ্নিকান্ডের ঘটনায় করোনা আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি অগ্নিদগ্ধ হয়ে এক নারীসহ পাঁচজন মৃত্যুবরন করেন। এরা হলেন রিয়াজুল আলম (৪৫), খোদেজা বেগম (৭০), ভেরুন এন্থনি পল (৭৪), মনির হোসেন (৭৫) ও মো: মাহাবুব (৫০)।
রাসেল শিকদার বলেন, অগ্নিদুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন।
তিনি বলেন, বুধবার রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায় এবং ১০টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ডিউটি অফিসার আরও জানান মারা যাওয়া সবাই হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ছিলেন। নিচতলায় এসির বিস্ফোরণের পর আগুন লাগে।
দি লাইফ সেভিং ফোর্স বাহিনীর (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন গনমাধ্যমকে বলেন, এখানে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নতমানের ছিল না। কিন্তু ইউনিটের কাছেই ফায়ার হাইড্রেন্ট ছিল। আগুনের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্তের পর অগ্নিকান্ডের কারণ বলা যাবে।
ফায়ার সার্ভিস পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান গনমাধ্যমকে বলেন, আগুনের খবর পেয়ে তাঁদের তিনটি ইউনিট হাসপাতালে যায়। মূল ভবনের বাইরে আলাদা জরুরি বিভাগে আগুন লাগে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ওই আইসোলেশন ওয়ার্ডে ডাক্তার নার্সও ছিল। তারা দ্রুত অগ্নিকান্ডের সময় বের হয়ে গেলেও রোগীরা বের হতে পারেননি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার রফিকুল ইসলাম গনমাধ্যমকে বলেন, আমরা এখনও পর্যন্ত পাঁচ জন নিহতের তথ্য পেয়েছি। তারা করোনায় আক্রান্ত হয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।