আস্থা, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যে ঘেরা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক

42
Social Share

ফারাজী আজমল হোসেন: বাংলাদেশ  ভারতের মধ্যকার দৃঢ় সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক  নেতিবাচক অনেক আলোচনা রয়েছে। বাংলাদেশ  ভারতের অভ্যন্তরে চলমান এসব আলোচনার বাইরেও বিশ্বে প্রতিবেশী  দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে রয়েছে ভিন্ন এক আলোচনা।  দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে যত গবেষণা  বিশ্লেষণ হয়েছে তার ফলাফল হিসেবে সামনে এসেছে তিনটি বিষয়।আর তা হলো– আস্থাবিশ্বাস  ঐতিহ্য। যেকোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রে আস্থা  বিশ্বাস শব্দ দুটি পরস্পর পরিপূরক।যেখানে আস্থা  বিশ্বাস নেই সেখানে ইতিবাচক সম্পর্ক স্থাপন অসম্ভব।বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের এই আস্থার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের।ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের শুরু এই বাংলাদেশ থেকে এবং তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার কলকাতা থেকে ভারতজুড়ে চলেছে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন। আর  কারণেই তৎকালীন সময় থেকেই  দুই অঞ্চলের মানুষ ব্রিটিশ শোষণঅত্যাচারনিপীড়নআন্দোলনসহ অনেক কিছুই ভাগ করে নিয়েছে সর্বোপরি পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শোষণ থেকে মুক্ত হতে  দেশের মানুষ যেই মুক্তি সংগ্রাম শুরু করেসেখানে ভারতের ভূমিকাও ছিল আস্থা  বিশ্বাস।প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত যদি  সময় আমাদের আশ্রয় না দিত এবং যুদ্ধে সরাসরি সহায়তা না করততাহলে বর্তমান রোহিঙ্গাদের থেকেও ভয়াবহ পরিণত হতো  দেশের মানুষের।কেননা সে সময় পাকিস্তান শোষকের লক্ষ্য ছিল একটিআর তা হলো জাতিগত নিধন।বাঙালি জাতিকে ধ্বংস করার মিশনে নামা পাকিস্তানি শোষকেরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে গ্রামের পর গ্রামজুড়ে হত্যাধর্ষণ  লুণ্ঠন চলায়। কেননা তাদের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের জমিকে বাঙালিমুক্ত করা।সে সময় তাদের কণ্ঠে যেই স্লোগান ছিল তার বাংলা অর্থ দাঁড়ায়– ‘মানুষ নয়জমি চাই।পরস্পরের প্রতি বিশ্বাসের কারণেই তখন ভারত বাংলাদেশের মানুষের জন্য খুলে দিয়েছিল তাদের সীমান্ত।দুই হাতে আলিঙ্গন করে নিয়েছিল  দেশ থেকে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেয়া কোটি কোটি বাংলাদেশিকে।

শুধু তাই নয়স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপনে ভারত বাংলাদেশকে যুদ্ধ ময়দানের বাইরেও দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহায়তা করে। তার একটি হলো আকাশবাণী রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিচালনা এবং বাংলাদেশ অস্থায়ী সরকার গঠন এবং বিশ্বমঞ্চে তাদের উপস্থাপন।

সাধারণ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে অত্যন্ত সহজ  দুটি সহায়তার ক্ষেত্রে তৈরি করতে গিয়ে বিশ্বমঞ্চে যথেষ্ট ক্ষতির মুখে পড়তে হয় ভারতকে বাংলাদেশকে সহায়তার জন্য আমেরিকাসহ পশ্চিমা আরও বেশ কিছু দেশ পরোক্ষভাবে ভারতকে ভয়ভীতিও প্রদর্শন করে।যার প্রেক্ষিতে ভারতকে রাশিয়ার সহায়তা গ্রহণ করতে হয়।ভারতের শিল্পসাহিত্য  বিনোদন জগতের অনেকেই  সময় বাংলাদেশে চলমান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নেয়।বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাধারণ মানুষের মনে স্থান করে দিতে কাজ করে তারা। ক্ষেত্রে পণ্ডিত রবি শংকর  জর্জ হ্যারিসনের কনসার্ট ফর বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য  মার্কিন সাধারণ জনগণের মনে এই কনসার্টের মাধ্যমে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ।  সবই ছিল মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ  ভারতের মধ্যকার আস্থা  বিশ্বাসের কারণে।

মুক্তিযুদ্ধপরবর্তী সময়েও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মিত্র ছিল ভারত।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৫ আগস্ট হত্যা করার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রতিটি উন্নয়ন  উন্নয়নের পথে বাধা উতরে যেতে সহায়তা করেছে ভারত। ১৯৭৫ সালের পর  দেশের ক্ষমতায় আসে পাকিস্তানপন্থি ইসলামি মৌলবাদীরা।শুধু পাকিস্তানের দোসরদের সহায়তায় ক্ষমতা দখল করা এই গোষ্ঠী ভারতের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্নের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাআর সম্ভব হয়নি। এক সময় খন্দকার মোশতাক পাকিস্তান কনফেডারেশন তৈরির উদ্যোগও গ্রহণ করেন।কিন্তু বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায়  দেশের জনগণ সেই চেষ্টা রুখে দেয়।  ক্ষেত্রেও পরোক্ষ সহায়তা ছিল ভারতের।পাকিস্তানপন্থী সরকার বাংলাদেশের ক্ষমতায় থাকার পরও  দেশের মানুষের জন্য সর্বদা অকৃত্রিম বন্ধুর পরিচয় দিয়েছে ভারত।১৯৮৮ সালের বন্য১৯৯৮ সালের বন্য বা সিডর  আইলার তীব্র ঘূর্ণিঝড় থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সব দুর্যোগে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত।

চলতি করোনা মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশকে প্রথম ভ্যাকসিন দিয়ে সহায়তা করে ভারত।উপহার  দানসহ বাংলাদেশকে ৩০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন প্রদান করে ভারত।যে সময় বিশ্বের অধিকাংশ দেশ তাদের নিজেদের নাগরিকদের জন্য ভ্যাকসিন মজুদে ব্যস্ততখন ভারত এই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়।

অবশ্য বাংলাদেশ  ভারতের মধ্যকার এই আস্থা  বিশ্বাসের ভিত্তি তৈরি হয়েছে গত হাজারও বছরের ঐতিহ্য থেকে। দুই দেশের সম্পর্ককে বিগত কয়েক দশকের মাপকাঠিতে মাপা সম্ভব নয়।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আমরা শুধু ভাষার মিল তা নয়বরং পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশ তার সংস্কৃতিঐতিহ্য এবং জাতিগত বৈশিষ্ট্যগুলোও ভাগ করে নিয়েছে। কথায় বলে মাছেভাতে বাঙালি।দুই দেশের মানুষকে এই বাঙালি সত্তাটি এক করে রেখেছে শত শত বছর ধরে।১৯৪৭ সালে শুধু ধর্মের ভিত্তিতে সৃষ্টি হয়েছিল ভারত  পাকিস্তান নামের দুটি রাষ্ট্র।কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের ছিল না কোনো মানসিকসাংস্কৃতিক বা ভাষাগত সম্পর্ক।সেই সঙ্গে পাকিস্তানি শাসকদের শোষণনীতি  দেশের মানুষকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করায়।আর  দেশের সাধারণ মানুষকে সেদিন একতাবদ্ধ করেছিলেন বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।শত বছরের সম্পর্ক যে ধর্মের দেয়ালে ছেদ পড়ে তা পুনরুদ্ধার হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মাধ্যমে।

বাংলাদেশ  ভারত শতবর্ষ ধরে পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল।দুই দেশ খাদ্যশিল্পসাহিত্যনদীযোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে একে অপরের ওপর নির্ভরশীল।ব্রিটিশ শাসনামলেও ভারতের সঙ্গে আমাদের দেশে দুটি পথ দিয়ে ছিল রেল সংযোগ।মাত্র ৭০ বছর আগেও  দুই দেশ তাদের সবকিছু ভাগ করেই চলত। যা মুক্তিযুদ্ধের পরও ছিল জাতির পিতা ক্ষমতায় থাকাকালে।অধিক জনসংখ্যা হওয়ার কারণে বাংলাদেশ তার নিজ দেশের উৎপাদিত পণ্যের মাধ্যমে জনগণের চাহিদা পূরণ করতে পারে না।ফলে চাহিদা পূরণ করার জন্য বহির্বিশ্ব থেকে প্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্য আমদানি করতে হয়। ক্ষেত্রে ভারত থেকে এসব পণ্যদ্রব্য আমদানি করা সময়  অর্থসাশ্রয়ী।কারণভারত প্রতিবেশী হওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থার সুবিধা পাওয়া যায় যোগাযোগব্যবস্থার নতুন সংযোজন ১৭ ডিসেম্বর ২০২০ দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল সম্মেলনে নীলফামারীর চিলাহাটি সীমান্ত থেকে পশ্চিমবঙ্গের হলদিবাড়ী পর্যন্ত রেল যোগাযোগ উদ্বোধনযা ১৯৬৫ সালে ভারতপাকিস্তান যুদ্ধের সময় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।  ছাড়া দুই দেশের মানুষের রুচি  পছন্দের মিল থাকায় বাংলাদেশের চাহিদা অনুযায়ী পণ্যদ্রব্যও পাওয়া যায়।

১৯৭২ সালের ১৯ মার্চ তৎকালীন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী কর্তৃক ২৫ বছর মেয়াদি মৈত্রী চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ভারতের মধ্যকার আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য বা অর্থনৈতিক সম্পর্ক শুরু হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা শাসন  শোষণ চালায় এই বাংলার বুকে। সময় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছিল বেশ শীতল।বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতের চরমপন্থিরা অগণিত ঘাঁটি গড়ে তোলে যেখান থেকে আক্রমণ চালিয়ে হত্যা করা হয় অসংখ্য ভারতীয় সৈন্যকে।  সময় বাংলাদেশের তৎকালীন বিএনপিজামায়াত সরকারের সরাসরি মদদে বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এসব উগ্রবাদী।কিন্তু এই অবস্থার অবসান ঘটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর বাংলাদেশের চিরবন্ধু ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে জাতির পিতার কন্যা অতুলনীয় এক পর্যায়ে নিয়ে আসতে সক্ষম হন ২০১০ সালে দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোকে পাশ কাটিয়ে ২০১১১২ সাল থেকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে নোযোগী হন তিনি। এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয় যখন নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেখিয়ে দেয়া পদ্ধতিতে দুই দেশের মধ্যকার ছিটমহল সমস্যার সমাধান করে ইতিহাস গড়েন  দুইপ্রধানমন্ত্রী। এর পাশাপাশি বাংলাদেশভারতের মধ্যকার যোগাযোগ সাশ্রয়ী  দৃঢ় করতে মৈত্রী রেল সংযোগ স্থাপন করা হয়।এই দুই দেশের মধ্যে অতীতে বিদ্যমান সব রেল সংযোগ  সড়ক সংযোগগুলো পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্টায়। ১৯৬৫ সালের আগে দুই দেশের মধ্যকার রেল সংযোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য চিলাহাটি এবং হলদিবাড়ির মধ্যকার রেল সংযোগ পুনরায় চালু করার ব্যবস্থা নেয়া হয় গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর। দুই দেশের মানুষ যেন পরস্পরের সঙ্গে আরও বেশি যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে সেই লক্ষ্যে মৈত্রী এক্সপ্রেস সপ্তাহে চার দিনের বদলে পাঁচ দিন করে দেয়া হয় এবং বাঁধন এক্সপ্রেস সপ্তাহে এক দিনের বদলে দুই দিন করে দেয়া হয়।

করোনা পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যকার পণ্য পরিবহন যেন বন্ধ না হয় সেজন্য কনটেইনার ট্রেন  পার্সেল ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়। বাংলাদেশের রেল বিভাগকে সমৃদ্ধ করতে ১০টি ব্রডগেজ ডিজেলচালিত লোকোমোটিভ ট্রেন ইঞ্জিন উপহার দেয় ভারত।২০১৯ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরকালে ঢাকাশিলিগুড়িগাঙ্গটকঢাকা এবং ঢাকাশিলিগুড়িদার্জিলিংঢাকা বাস সার্ভিস চালু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ঢাকা– শিলিগুড়িগাঙ্গটকঢাকা রুটে এরই মধ্যে পরীক্ষামূলক ভাবে বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে।ভার্চুয়াল এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২১ সালের  মার্চ ফেনীতে মৈত্রী ব্রিজ চালু করেছেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।এই ব্রিজের মাধ্যমে ত্রিপুরা  বাংলাদেশকে সংযুক্ত করা হয়েছে।

শুধু সড়ক বা রেলপথ নয়বরং নৌপথেও যোগাযোগ স্থাপন করা হচ্ছে ভারতের সঙ্গে।প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড (পিআইডব্লিউটিটিচুক্তির আওতায় বাংলাদেশভারতের জন্য গোমতী নদীতে সোনামুড়িদাউদকান্দি রুট এবং পদ্মায় ধুলিয়াগোদাগারি থেকে আরিচা পর্যন্ত রুটে নৌপথে যোগাযোগ স্থাপন হবে। ছাড়াও গত বছর জুলাই মাসে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আগরতলায় পণ্য পরিবহন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

বাংলাদেশভারত দৃঢ় সম্পর্কে আরেকটি নিদর্শন হলো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর।বিগত বছরে করোনার কারণে কোনো দেশেই সফরে যাননি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।কিন্তু মুজিববর্ষ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ঠিকই বাংলাদেশ সফর করেছেন তিনি।শুধু রাষ্ট্রীয় সফর নয়এই সময় দুই দিন বাংলাদেশ থেকে প্রান্তিক জেলা সাতক্ষীরায়ও গিয়েছিলেন তিনি।

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সবচেয়ে বড় ‘ট্রেড পার্টনার’ বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ‘ট্রেড পার্টনার’ ভারত।গত দশকে ভারত  বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।২০১৮১৯ সালে বাংলাদেশের রফতানি আয় তিনগুণ বেড়ে  বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে।২০১৯২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের এই রফতানির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় .২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।বাংলাদেশ ভারতের মধ্যকার বিভিন্ন বাণিজ্যিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যেই ধীরে ধীরে সম্পর্ক গড়ে উঠছে।গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে উভয় দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক দৃঢ় করতে দেশ দুটির সিইও পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সঙ্গে ভারতের তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয় গত বছর ফেব্রুয়ারিতে। বাংলাদেশ ভারতের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী বাংলাদেশকে ভারত গত  বছরে অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায়  বিলিয়ন মার্কিন ডলার আর্থিক সহায়তা করেছে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে আগরতলা আখাউড়া রেলপথবাংলাদেশের অভ্যন্তরে ড্রেজিং কার্যক্রম এবং ‘ভারতবাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন’ তৈরিতে সহায়তা করছে ভারত।

আস্থাবিশ্বাস  ঐতিহ্যের এই বন্ধুত্বের বন্ধনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির জন্য গত সপ্তাহে আম পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক আলোচনাপর্যালোচনা চলছে।কিন্তু কূটনৈতিক অঙ্গন থেকে এই ‘ম্যাঙ্গো ডিপ্লোমেসি’ যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে।আম প্রেরণ এই নিদর্শন বহন করছে যেদুই দেশ তাদের মধ্যকার সব আনন্দ  কষ্টগুলো ভাগ করে নিতে চায়।সেই সঙ্গে পরস্পর হাত ধরে উন্নয়নের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চায় বাংলাদেশ  ভারত।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক  কলামিস্ট