আলজাজিরা বিশ্বাসযোগ্য কোনো মিডিয়া নয় : ফারুক খান

22
Social Share

করোনাভাইরাসের টিকা গ্রহণের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে উল্লেখ করে আগে ভাগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক টিকা সংগ্রহে রাখার সুপারিশ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটির বৈঠকে বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেল আলজাজিরা বিশ্বাসযোগ্য মিডিয়া নয় বলে উল্লেখ করে বাংলাদেশে চ্যানেলটির সম্প্রচার বন্ধের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান। বৈঠকে কমিটির সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স, নিজাম উদ্দিন জলিল (জন), কাজী নাবিল আহমেদ, ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত ও মো. আব্দুল মজিদ খান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে না থাকলেও বাংলাদেশকে নিয়ে আলজাজিরায় সম্প্রচারিত প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি ফারুক খান বলেন, বিবিধ হিসেবে বিষয়টি নিয়ে কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। তবে অন্যরা এটা নিয়ে খুব একটা কিছু বলেননি। আমি বলেছি, আমাদের অতি উৎসাহী হয়ে কিছু বলার দরকার নেই। আলজাজিরা সব সময় মিথ্যা কথা বলে। তারা যুদ্ধাপরাধের বিচার ও বাংলাদেশের নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মিথ্যা খরব দিয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, অন্যদেশ নিয়েও মিথ্যা খবর পরিবেশন করে। যে কারণে অনেক দেশে ওই গণমাধ্যমটি নিষিদ্ধ হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, প্রতিবেদনে যেসব ব্যক্তি বাংলাদেশ সম্পর্কে গল্প দিয়েছে, তার সঙ্গে ডেভিড বার্গম্যানসহ যারা জড়িত ছিল, অতীতে তারা বাংলাদেশ সম্পর্কে মিথ্যাচার করেছে। দেশের উন্নয়নকে ব্যাহত করতে এটা করা হয়েছে।

করোনা টিকা প্রসঙ্গে কমিটির সভাপতি সাংবাদিকদের বলেন, দেশের মানুষ আগ্রহ সহকারে করোনার টিকা গ্রহণ করছে। এই মুহূর্তে দেশে ৭০ লাখ টিকা এসেছে। সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে মোট তিন কোটি টিকা আসবে। মানুষের যে আগ্রহ, তাতে আরো টিকার প্রয়োজন পড়বে। টিকার সংকটও দেখা যেতে পারে। এ জন্য আগেভাগে টিকা সংগ্রহ করে রাখতে বলেছি।

তিনি জানান, চীন, রাশিয়াসহ আরো কয়েকটি দেশ থেকে টিকার আনার কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে ডাব্লিউএইচও’র অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকেই আনতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের তাপমাত্রায় কোনো টিকাগুলো সংরক্ষণ করা সম্ভব, সেটাও দেখতে বলা হয়েছে বলে তিনি জানান।

সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, বৈঠকে ভারত থেকে যথাসময়ে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রাপ্তির জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অভিবাদন জানানো হয়। একইসঙ্গে পরবর্তীতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে ভ্যাকসিন আমদানির উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া ভারত থেকে ভ্যাকসিন আনার প্রক্রিয়াটি চলমান রাখতে বলা হয়।

এ ছাড়া বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চের মধ্যে জাতিসংঘ এবং উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিদের ভাসানটেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানানোর সুপারিশ করা হয়।

এ বিষয়ে ফারুক খান বলেন, ভাসানচরে রোহিঙ্গা পুনর্বাসন নিয়ে যেসব উন্নয়ন সংস্থা উদ্বেগের কথা জানিয়েছিল, তাদেরকে সেখানে নিয়ে সরেজমিনে দেখাতে বলেছি। খুব শিগগিরই ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের ভাসানচরে নেওয়া হবে কমিটিকে জানানো হয়েছে।