‘আলজাজিরার শিরোনামের সাথে রিপোর্টের কোনো সম্পর্ক নেই’

19
Social Share

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আলজাজিরার রিপোর্ট যেটি করা হয়েছে, আপনারা দেখেছেন, সেটি শিরোনামের সাথে রিপোর্টের কোনো সম্পর্ক নেই। শিরোনাম দেওয়া হয়েছে—‘অল আর দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স মেন’। আর ভেতরের প্রতিবেদন হচ্ছে সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। প্রতিবেদনটি দেখে শুনে মনে হয়েছে এটি ব্যক্তিগত আক্রোশবশত একটি রিপোর্ট। ব্যক্তিগত আক্রোশবশত একটি রিপোর্ট আলজাজিরার মতো একটা টেলিভিশনে যখন হয়, সেই রিপোর্টের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে আলজাজিরার গ্রহণযোগ্যতা কিন্তু কমেছে। বিশ্বব্যাপী আলজাজিরার প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় আলজাজিরার বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি যদি হাইকোর্টে যান বা আদালতে যান, সে ক্ষেত্রে আদালত থেকে যদি কোনো নির্দেশনা পাই, তাহলে আদালতের নির্দেশনা অবশ্যই আমরা পালন করব।

তিনি বলেন, তাদের নিরপেক্ষতা-বস্তুনিষ্ঠতা, একইসাথে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ প্রশ্ন যে, আজকে উঠেছে তা নয়, এ প্রশ্ন বহুবার উঠেছে। বহু দেশে আল জাজিরার সম্প্রচার বন্ধ আছে। এমনকি ভারতেও বন্ধ আছে, এখনও অনেক দেশে বন্ধ রাখা হয়েছে। আল জাজিরার জন্য আমার খুব কষ্ট—এই রিপোর্ট দেওয়ার পর তারা বাংলাদেশ প্রচণ্ড পরিমাণে প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে। তাদের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রচণ্ডভাবে লোপ পেয়ে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বহু জনের সাজা মাফ করা হয়েছে, সে এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির আছে। বিচার বিশ্লেষণ করে রাষ্ট্রপতি সেটি মাফ করে থাকেন। এখন তারা বহু বছর সাজা খেটেছেন, একজন সম্ভবত ২০ বছর সাজা খেটেছেন। এক পর্যায়ে কিন্ত সাজা মওকুফ করা হয়। এটি একটি ইউজুয়াল প্রসিডিউর। অনেকদিন সাজা খাটার পর কয়েদি যদি ভালো আচরণ করে সে ক্ষেত্রে সাজা মওকুফ করা হয়, সেটা ইউজুয়াল প্রসিডিউর।

আল জাজিরার প্রতিবেদনের পেছনে যে শক্তি আছে তার মধ্যে ডেভিড বার্গম্যান আছেন জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ডেভিড বার্গম্যানের বিরুদ্ধে বিচার চলছিলো। তিনি হাইকোর্টে নিশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন, এরপর তিনি দেশ ত্যাগ করে চলে গেছেন।

ড. হাছান মাহমুদ আরও বলেন, সেখানে (প্রতিবেদনে) যে মূল বক্তা মি. সামি, তার অনেকগুলো নাম আছে। খালেদা জিয়ার যেমন অনেকগুলো জন্মদিন আছে, এখানে যিনি মূল বক্তা তারও অনেকগুলো নাম রয়েছে। তার যে ফিরিস্তি শুনলাম সেটি আমি আগে জানতাম না। এ রিপোর্ট হওয়ার পর তার ফিরিস্তি বের হয়ে আসছে। কখন তাকে তার পিতা ত্যাজ্যপুত্র করেছেন, কখন তিনি চুরিতে ধরা পড়েছেন, কখন তিনি কী করেছেন—সে সমস্ত বিষয় আসছে। এ ধরনের লোকদের নিয়ে যখন রিপোর্ট তৈরি করা হয় তখন তো সেই গণমাধ্যমেরই ক্ষতি হয়—যেটি আল জাজিরার ক্ষেত্রে হয়েছে।