আর এক বাঙালি অভিজিত ব্যানার্জির নোবেল জয়, পেলেন স্ত্রীও

নোবেল জিতলেন আরেক বাঙালি। ভারত অংশের বাঙালী বংশাদ্ভুত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অভিজিত ব্যানার্জি। অমর্ত্য সেনের পরে দ্বিতীয় বাঙালি হিসেবে অর্থনীতিতে নোবেল জয়ের গৌরব অর্জন করেন তিনি। আর বাঙালি হিসেবে সব মিলিয়ে চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে নোবেল পেলেন অভিজিত।

অর্থনীতিতে এবার অভিজিতের সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল জিতেছেন ফরাসি বংশাদ্ভূত তার স্ত্রী এস্থার ডাফলো ও মার্কিন অর্থনীতিবিদ ক্রেমার। নোবেল কমিটি জানিয়েছে, দারিদ্র দূরীকরণ নিয়ে গবেষণার জন্যেই পুরস্কার দেওয়া হল এই তিনজনকে।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ৫৪ বছর বয়সী এস্থার বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ অর্থনীতির নোবেল জয়ী। অপরদিকে দ্বিতীয় নারী হিসেবে অর্থনীতিতে নোবেল জিতেছেন ডাফলো।

অভিজিত ১৯৬১ সালে মুম্বাইয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৮১ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর স্নাতকোত্তর পড়েন নয়াদিল্লির জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে। হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইনফরমেশন ইকোনোমিক্স’ এর উপর পিএইচডি করেন অভিজিত।

অর্থনীতি বিষয়ে অভিজিতের লেখা চারটি বই বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তার মধ্যে ‘পুওর ইকোনোমি’ বইটি গোল্ডম্যান সাচস বিজনেস বুক সম্মানে ভূষিত হয়।
অভিজিত ও অমর্থ্য সেন ছাড়া আরও দুজন বাঙালী এ পর্যন্ত নোবেল জিতেছেন। এর মধ্যে প্রথম বাঙালী হিসেবে নোবেল পান বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি নোবেল জিতেন সাহিত্যে। আর একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে নোবেল জিতেছেন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি নোবেল জিতেন শান্তিতে।

নোবেল জয়ের খবর পাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমে অভিজিৎ ব্যানার্জি জানিয়েছেন, ‌খবর পেয়েই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। তারপর উঠে দেখি প্রচুর ফোন আসছে। বন্ধু-বান্ধবরা ফোন করছেন। যদিও এখনও কারও সঙ্গে কথা হয়নি। মায়ের সঙ্গেও কথা বলে উঠতে পারিনি।

কবে থেকে গবেষণার কাজ করছেন তিনি?‌ এই প্রশ্নের উত্তরে অভিজিৎ জানিয়েছেন, ১৯৯৫-৯৬ সাল থেকে আমি গবেষণা করছি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ২০ বছর ধরে এই গবেষণার কাজ করেছি। সাউথ আফ্রিকা, কেনিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চীন, কানাডায় কাজ করেছি। পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও গবেষণার কাজে যুক্ত করেছি। এই এখানেই কেটেছে আমার ছেলেবেলা। এখানেই পড়াশোনা। মূলত বাংলার অর্থনৈতিক ইতিহাস আমায় গবেষণার কাজে অনেকটাই সাহায্য করেছে।

গবেষণার বিষয় নিয়ে অভিজিৎ বলেন, বিশ্বব্যাপী দারিদ্র দূরীকরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছি। দারিদ্র কোনও একটা সমস্যা নয়। এই সমস্যার অনেকগুলো স্তর রয়েছে। সমস্যাগুলোকে এক এক করে খুঁজে বের করা সমাধানের পথ কী হবে তা নির্ধারণ করা নিয়েই গবেষণা। পরীক্ষামূলক গবেষণার মাধ্যমেই দারিদ্র সমস্যার সমাধান সম্ভব।