আমার বাবা একজন কৃষক ছিলেন, এটা কি আমার অপরাধ 

Social Share
মশিউর রহমান শিহাবের ফেসবুক
থেকে  মার্কিন উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক বলেছেন ‘ধৈর্য একটি অসাধারণ মানসিক ক্ষমতা, আমি এখনও এটা শিখছি।’ ইলন মাস্কের এই কথা ধরেই আমি আমাকে প্রতিদিন তৈরী করছি। তৈরী হচ্ছি।
আমার অতীত, বতর্মান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি পক্ষ অনেক কটুক্তি করেছেন। করে যাচ্ছেন। আমি আহত নই। আমি তাদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি। গ্রামের ছেলে ছিলাম, পান্তা ভাত আর মরিচ পোড়া দিয়ে ভাত খেয়েছি। এটা আমার অপরাধ নয়।
আমার বাবা একজন কৃষক ছিলেন। এটা আমার অপরাধ নয়। ভাগ্যের সন্ধানে রাজধানী ঢাকায় দিনের পর দিন খেয়ে না খেয়ে লেগে থেকেছি। কাজ করেছি। ঘাম ঝরিয়েছি। এটা আমার অপরাধ নয়। বরং এটাই প্রতিটি মানুষের প্রচেষ্টা হওয়া উচিৎ।
আপনি যখন আমাকে নিয়ে সমালোচনা করছেন, তখনও আমি ব্যস্ত আমার কাজ নিয়ে। আমি ব্যস্ত ভাল কিছু করার প্রচেষ্টায়। আর আপনি তখন ব্যাস্ত নেশা আর গার্লফ্রেইন্ড নিয়ে। দেশের এই দুর্দিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমি যখন ব্যস্ত দরিদ্র্য মানুষের সহযোগিতার চেষ্টায়। আর আপনি তখন ব্যস্ত আপনার ফেলে আসা জীবনের স্মৃতি নিয়ে!
ভাই, বিনয়ের সাথে বলতে চাই। চেষ্টা করুন। মানুষ তার আশার সমান বড়। শুধু অসৎ পথে নয়, সৎপথেও ভাল কিছু করার অনেক উদাহরণ আমাদের আছে। আপনি নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, কিছু করার চেষ্টাই করলেন না! তাহলে সাধারণ জনগণের জন্য আপনি কি করবেন?
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংবিধানে কোথাও লেখা নেই যে, ছাত্রলীগ না করলে তিনি আওয়ামী লীগ করতে পারবেন না। কোথাও লেখা নেই যে, ব্যবসা বাণিজ্য করলে তিনি রাজনীতি করতে পারবেন না। আরে ভাই আমি নিজেই যদি নিজের সংসার চালাতে না পারি তবে হাজার হাজার মানুষের দায়িত্ব নেবো কি করে?
রাজনীতি কোন চাকরি নয়! রাজনীতি হচ্ছে গণ মানুষের সেবায় দেশের উন্নয়নে কাজ করা। আপনি তরুণ, আপনার শক্তি, সামর্থ, মেধা আছে ব্যাবসা বাণিজ্য করার। আপনি তা করছেন না। আপনি চাকরিও করছেন না। আপনি অন্য কোন পেশাজীবীও নন। তাহলে আপনার চলছেটা কি দিয়ে? আপনার আয়ের উৎসটা কি ভাই? আমি তো ব্যবসা করে খাচ্ছি। এটা আমি গর্ব করে বলি। রাজনীতি মানে কি রাজনীতিকে পুজি করে দালালী করে টিকে থাকা?
কোটি জনতার সামনে মাথা উচু করে বলতে চাই- আমার ব্যবসায় কোন ফাঁকিবাজি নেই। নেই কোন ছলচাতুরি। একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করি, কঠিন শ্রম এবং মেধা দিয়ে পয়সা রোজগার করি। সরকারকে ট্যাক্স দিয়ে ব্যবসা করি। সবার জন্য উম্মুক্ত আমার অফিস। চা খাওয়ার জন্য সাদর নিমন্ত্রণ রইলো।
হ্যা, নানা সীমাবদ্ধতার কারনে হয়ত আমার কৈশোরের একটা বড় সময় কেটেছে অর্থনৈতিক সংগ্রাম করে। তাই বলে কি আমার রাজনীতি করার অধিকার নেই? বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কি আপনার বাপদাদার নিজস্ব সম্পত্তি?
সবশেষে শুনে রাখুন, রাজনীতি আমার রক্তে। দক্ষিণ বঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন সূর্য সন্তান ছিলেন।  মাত্র ষোল বছরে যিনি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। সতের বছর বয়সে হাতে তুলে নিয়েছিলেন অস্ত্র! আর আঠেরো বছর বয়সে ছিনিয়ে এনেছিলেন স্বাধীনতা। একুশ বছরে হয়েছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান!
আর মাত্র ২৬ বছর বয়সে হয়েছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য!২৮ বছরে হয়েছেন বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ৩৩ বছর বয়সেও তিনি দ্বিতীয়বারের মত এমপি হয়েছিলেন! যিনি দক্ষিণ বঙ্গের লাখো জনতাকে চোখের জলে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে চলে গিয়েছিলেন মাত্র ৩৬ বছর বয়সেই! তিনি আমার দাদা মরহুম ছিদ্দিকুর রহমান এমপি।
এবার একবার ভাবুন তো! আমার দাদার তুলনায় আমি কতটা পেছনে! তাহলে আমার এখনও কতটা পথ পাড়ি দিতে হবে? কত শ্রম, কত মেধা আর কত ত্যাগ এখনও আমার সামনে!  জেনেটিক্যালি তাঁর রক্ত আমার শরীরে। হেরে যাওয়ার পাত্র আমি নই। আপনার কথায় কান দেয়ার সময় কোথায় আমার?
যত খুশি বলে যান। যতখুশি ঢিল মারুন। আমি ওই মার্কিন উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের পথেই হাঁটবো। ‘ধৈর্য একটি অসাধারণ মানসিক ক্ষমতা, আমি এখনও এটা শিখছি।।’