আবরার হত্যার প্রতিবাদে সকাল থেকেই উত্তাল বুয়েট

আবরার ফাহাদ হত্যায় আজও উত্তাল হয়ে উঠেছে বুয়েট ক্যাম্পাস। হত্যার বিচারের দাবিতে আজ মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিক্ষোভ করছে বুয়েট শিক্ষার্থীরা।

সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকেন আবরারের সহপাঠীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জড়ো হতে থাকেন তাঁরা। সবারই গন্তব্য হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ। সেখানে একত্রিত হয়ে  আবরার হত্যার বিচার দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। আবরার খুনিদের গ্রেপ্তার দাবিতে শিক্ষার্থীরা ফেস্টুন প্রদর্শন করছেন।

এর আগে চার দফা দাবিতে তারা আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার রাতে বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে আবরারের জানাজার পর বিক্ষোভ শেষে আন্দোলনের ঘোষণা দেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

রাত ১০টার দিকে পরিবারের স্বজন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সহপাঠীদের উপস্থিতিতে বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিতে জানাজা পড়ানো হয়। পরে বুয়েটের অ্যাম্বুলেন্সে স্বজনরা আবরার মরদেহ কুষ্টিয়াতে দাফন করাতে নিয়ে যান।

শিক্ষার্থীরা জানান, আবরার জানাজায় পরিবারের সদস্যরা শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সহপাঠীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রায় দুই হাজার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

জানাজার পর বুয়েটের শেরে বাংলা হলের সামনে শিক্ষার্থীরা সমাবেত হয়ে খুনিদের ফাঁসি চেয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এরপর সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহীদ সৃতি হল, কেন্দ্রীয় মসজিদ, তিতুমীর হল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলসহ কয়েকটি হল প্রদক্ষিণ করে তারা বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নেন।

সমাবেশে আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা করা হয়। সেখান থেকে পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা করা হবে বলেও জানান আন্দোলনকারীরা।

বুয়েট শিক্ষার্থী জানান, আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে চার দফা দাবি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করবে। দাবিগুলোর মধ্যে আবরার হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বুয়েট থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার, খুনিদের মামলার সকল ব্যয় প্রশাসনকে বহন ও আবরার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান ও বুয়েট শিক্ষার্থীর হত্যার পরও ভিসি কেন ক্যাম্পাসে আসেনি তার কারণ দর্শানোর দাবি তোলা হবে।

একটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে শিবির সন্দেহে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী। আবরার ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। গতকাল সোমবার ভোরে বুয়েটের শেরেবাংলা হল থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁর লাশ।

ঘটনার পরই উত্তাল হয়ে ওঠে বুয়েট ক্যাম্পাস। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে শেরেবাংলা হলে অবস্থান নেন। এ ছাড়া একইভাবে উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসও।