আধুনিক পদ্ধতিতে টমেটো চাষ : লাভের আশা

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় বৃদ্ধি পেয়েছে আধুনিক মাচা পদ্ধতিতে টমেটো চাষ। নতুন পদ্ধতিতে শীতকালীন হাইব্রিড টমেটোর আবাদে লাভবান হওয়ার আশা করছেন চাষিরা।এই পদ্ধতিতে টমেটো চাষের মাচাই ব্যবহার করা হচ্ছে বাঁশের খুঁটি, পাটখড়ি ও নাইলনের দড়ি। এতে বাড়তি কিছু খরচ হলেও গাছের পরিচর্যা অনেক সহজ হচ্ছে, ফলন ও বাড়ছে।

দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি সুত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় এবার ১১০ হেক্টর জমিতে টমেটোর আবাদ হয়েছে। দামুড়হুদা উপজেলায় ৪৪ হেক্টর, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ২০ হেক্টর, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৩০ হেক্টর, ও জীবননগর উপজেলায় ১৬ হেক্টর। সবচেয়ে বেশি ৪৪ হেক্টর দামুড়হুদায়; এর মধ্যে অধিকাংশই নতুন মাচা পদ্ধতিতে চাষ হয়েছে।

দামুড়হুদার জয়রামপুর গ্রামের টমেটো চাষি আব্দুল হান্নান বলেন, কয়েকবছর ধরে আমি নতুন পদ্ধতিতে হাইব্রিড টমেটো চাষ করছি। গত বছর আমি এই পদ্ধতি ১০ কাঠা জমিতে চাষ করেছিলাম তাতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ হয়েছিল। এবার ২৫ কাঠা জমিতে আগাম চাষ করেছি। এই পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, লাইন করে চারা লাগিয়ে গাছের সঙ্গে বাঁশের খুঁটি গেড়ে পাটখড়ি ও নাইলন দড়ি দিয়ে বেঁধে মাচা তৈরি করেছি। লাইনের মঝে ফাঁকা থাকায় আলো বাতাস ভালো পায়। এতে গাছের পরিচর্যা সুবিধা হয়; ফলন অনেক বেশি পাওয়া যায়। এরই মধ্যে গাছ ফুল-ফলে ভরে গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে টমেটো বাজার জাত করা যাবে। ২৫ কাঠা জমিতে এ পর্যন্ত আমার খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। ফসল তোলার আগ পর্যন্ত আরও ৫-৭ হাজার টাকা খরচ হবে। সব মিলিয়ে ২০-২২ হাজার টাকা খরচ হবে। বর্তমানে বাজারে কাঁচা টমেটো ৩৫/৪০ টাকা ও পাকা ৭০/৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে বাজারদর এমন থাকলে ২৫ কাঠা জমি থেকে লক্ষাধিক টাকার টমেটো বিক্রি করা সম্ভব হবে।

দামুড়হুদার খাঁন পাড়া গ্রামের চাষি সাজেহার আলি খাঁন বলেন, দামুড়হুদার কেশবপুর মাঠে তিনি ২ বিঘা জমিতে এই পদ্ধতিতে হাইব্রিড জাতের টমেটো চাষ করেছি। এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৪০ হাজর টাকার মতো আরো ১০ হাজার টাকা খরচ হবে। এরই মধ্যে এক চালান কাঁচা টমেটো ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। এখন পাকিয়ে বিক্রি করার চিন্তা করছি। কোনো প্রকৃতিক দুর্যোগ না হলে বাজারদর এমন থাকলে ২ লক্ষাধিক টাকার টমেটো বিক্রি হবে বলে আশা করছেন।

দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, হাইব্রিড জাতের টমেটো গাছ সাধারণত বড় হয় ও চারদিকে ছড়িয়ে যায়। বাঁশের খুঁটি, পাটখড়ি ও নাইলন দড়ি দিয়ে বেঁধে মাচা করে দিলে সারি করে লাগানো গাছের মাঝখানে ফাঁকা জায়গা থাকে। ফলে গাছের পরিচর্যা করা সুবিধা হয় ও পোকার আক্রমণ কম হয়। আর মাটির সঙ্গে ঠেকতে না পারায় ফসলে পচন ধরে না ও ফুল-ফল নষ্ট হয় না। এমনকি টমেটো তুলতেও সুবিধা হয়। এতে ফলন বেশি পাওয়া যায়।