আগামীকাল চট্টগ্রাম ৮ আসনে ইভিএমে উপনির্বাচন

চট্টগ্রাম-৮ আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামীকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গতকাল শনিবার মধ্যরাতেই শেষ হয় নির্বাচনী প্রচারণা। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে এবারের ভোটগ্রহণ করা হবে।

কিছুদিন ধরে ইভিএম নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নানা বিতর্ক চলছে। ভোটগ্রহণের অত্যাধুনিক এ যন্ত্রে ‘আস্থা ও অনাস্থার’ সংকটের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে এ ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভোট। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তির পর ১৮ দিনের ব্যবধানে ঢাকা ও চট্টগ্রামে এই তিন নির্বাচনের দিকে এখন সবার চোখ। তিন নির্বাচনেই ইভিএম মাধ্যমে ভোটগ্রহণকে ঘিরে এ পদ্ধতির পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

চট্টগ্রাম-৮ নির্বাচনটি ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের আগে। এর মাঝে দেশে ইভিএমে আর কোনো ভোট নেই। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা কয়েক দিন ধরে বলে আসছেন, ইভিএমেই স্বচ্ছ ভোট হবে। তাই ইভিএমের বিকল্প নেই। চট্টগ্রামে সরকার দলের নেতাদের মতে, ইভিএমের মাধ্যমে সুন্দর ভোটগ্রহণ হবে, বিএনপি অহেতুক মিথ্যাচার করছে। এদিকে বিএনপি নেতারা বলছেন, ইভিএম ভোট চুরির যন্ত্র! সাধারণ মানুষের মাঝে ইভিএম নিয়ে একধরনের কৌতূহল রয়েছে। সব মিলিয়ে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠেয় চট্টগ্রাম-৮ উপনির্বাচনটি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। এটা নির্বাচন কমিশনের জন্য একধরনের ‘এসিড টেস্ট’।

চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক নেতা জানান, চট্টগ্রামে ইভিএম ভোটগ্রহণ ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। কারণ এরপর রাজধানীর দুই সিটির নির্বাচন। চট্টগ্রামের নির্বাচন ভালো হলে ইভিএমে আস্থা আসবে। তবে কোনো ধরনের প্রশ্ন উঠলে এর প্রভাব পরবর্তী দুই সিটি নির্বাচনে পড়তে পারে। তবে নির্বাচন কমিশনও চাইবে তাদের ইমেজ যাতে ক্ষুণ্ন না হয়।

এদিকে আগামীকাল চট্টগ্রাম-৮ উপনির্বাচনে ইভিএমে ভোটগ্রহণের আগে গতকাল রাতে শেষ হয়েছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। এই নির্বাচনে ছয় প্রার্থীর মধ্যে মূলত লড়াই হবে নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের মধ্যে। প্রধান এ দুই রাজনৈতিক দলের নেতারা এই নির্বাচন নিজেদের ‘মর্যাদার লড়াই’ হিসেবে দেখছেন। ১৯৭৩ সালের সংসদ নির্বাচনের পর আসনটি থেকে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী বিজয়ী হননি। তবে সর্বশেষ তিনটি নির্বাচনে (২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮) আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট থেকে জাসদের (একাংশ) কার্যকরী সভাপতি মঈন উদ্দীন খান বাদল (প্রয়াত) মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর আগে একাধিকবার আসনটি থেকে এমপি হন বিএনপি প্রার্থী। বিএনপি চাইছে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে। আওয়ামী লীগ চাইছে দীর্ঘদিন পর নিজেদের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, জাসদের হ্যাটট্রিক বিজয়ী এমপি মঈন উদ্দীন খান বাদলের মৃত্যুতে শূন্য এই আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ, নাকি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বিজয়ী হবেন, তা নিয়ে এখন তুমুল আলোচনা চলছে। শেষ হাসি কে হাসবেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোছলেম উদ্দিন আহমদ নাকি বিএনপি প্রার্থী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান। এর মধ্যে সুফিয়ান গত বছর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী ছিলেন। তিনি মহাজোট প্রার্থী বাদলের কাছে পরাজিত হন। অন্যদিকে মোছলেম ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি প্রার্থীর কাছে হেরে যান।

এ ছাড়া এ উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আবুল কালাম আজাদ (টেলিভিশন), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের সৈয়দ মোহাম্মদ ফরিদ আহমদ (চেয়ার), ন্যাপের বাপন দাশগুপ্ত (কুঁড়েঘর), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ এমদাদুল হক (আপেল)।

এ আসনে ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৭৫ হাজার ৯৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৪১ হাজার ৯২২ ও নারী ভোটার দুই লাখ ৩৪ হাজার ৭৪ জন।